সামরিক অভিযানে ছেলেকে বিশেষ সুরক্ষা দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন নেতানিয়াহু!
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নিজের ছেলেকে সুরক্ষা দিতে একটি সামরিক অভিযানে অন্যায্যভাবে হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সাবেক প্রধান গাদি আইজেনকোট এই দাবি করেছেন।
ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচন সংক্রান্ত কিছু জনমত জরিপে আইজেনকোট নেতানিয়াহুর চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তার দাবি, ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে যখন তিনি সেনাপ্রধান ছিলেন, তখন নেতানিয়াহু প্রোটোকল ভেঙে একটি সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সেনাদের মাটির নিচের বাঙ্কারে সরিয়ে নেওয়ার জন্য তার ওপর চাপ দিয়েছিলেন।
ওই সময় নেতানিয়াহুর ছেলে আভনের নেতানিয়াহু গোলান মালভূমিতে একটি গোয়েন্দা ইউনিটে কর্মরত ছিলেন। আইজেনকোট জানান, নেতানিয়াহু তাকে জরুরি বৈঠকে ডেকে গোলান মালভূমির একটি নির্দিষ্ট সেক্টরের সেনাদের বাঙ্কারে পাঠানোর নির্দেশ দিতে বলেন।
আইজেনকোট নেতানিয়াহুর ওই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ইসরায়েলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১২-কে তিনি বলেন, 'এটি আমার কাছে একটি অদ্ভুত দাবি বলে মনে হয়েছিল।' তিনি নেতানিয়াহুকে জানিয়েছিলেন, 'বেসামরিক নাগরিক ও সেনাদের জন্য সার্বক্ষণিক ঝুঁকি রয়েছে, কিন্তু এটি কোনো সঠিক কাজ নয়।'
৭ অক্টোবরের হামলার পর প্রধানমন্ত্রীর জোট সরকারে কিছুদিনের জন্য মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন আইজেনকোট। সে সময় গাজায় যুদ্ধরত অবস্থায় নিজের এক ছেলেকে হারান তিনি।
অন্যদিকে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে নেতানিয়াহুর দুই ছেলের কেউই সেনাবাহিনীতে রিজার্ভ ডিউটি পালন করেননি।
আসন্ন ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে আইজেনকোটকে নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভোটাররা তার নির্ভরযোগ্য ভাবমূর্তির প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন।
এই রাজনৈতিক লড়াই এখন ব্যক্তিগত পর্যায়ে পৌঁছেছে। নেতানিয়াহুর কিছু সমর্থক আইজেনকোটকে ইসরায়েলের শত্রুদের প্রতি 'নমনীয়' হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করছেন। অথচ আইজেনকোট বিতর্কিত 'দাহিয়াহ ডকট্রিন'-এর অন্যতম রূপকার, যা সন্ত্রাসী অবকাঠামো থাকার অজুহাতে বেসামরিক এলাকা ধ্বংস করার পক্ষে মত দেয়।
সাবেক 'বস'-এর বিরুদ্ধে আনা এই নতুন অভিযোগ থেকে স্পষ্ট যে রাজনৈতিক ফায়দা নিতে পুরনো কর্মজীবনের ঘটনাগুলো প্রকাশে আইজেনকোট পিছপা নন।
এদিকে আইজেনকোট আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সেনাদের বাঙ্কারে পাঠানোর অনুরোধটি মূলত নেতানিয়াহুর স্ত্রী সারা নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে এসেছিল। তিনি বলেন, ওই সময় তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে 'পরিবার নিয়ে কোনো বিষয় তাকে (নেতানিয়াহু) চাপে ফেলেছিল'।
আইজেনকোট এই ঘটনাকে সারার আজীবন নিরাপত্তা চাওয়ার দাবির সঙ্গে তুলনা করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, সারা নেতানিয়াহু নিজের ও তার স্বামীর জন্য আজীবন রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার দাবিতে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধানকে ব্যক্তিগতভাবে ফোন করেছিলেন। এর মাধ্যমে কোনো পদে না থেকেও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করার যে অভিযোগ সারার বিরুদ্ধে আগে থেকেই ছিল, তা আবার সামনে এল।
