ট্রাম্পের ভাষণ নিয়ে বাজি ধরে ১ লাখ ডলার জেতার অভিযোগ হোয়াইট হাউসের টেলিপ্রম্পটার কর্মীর বিরুদ্ধে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তৃতার তথ্য আগেই ব্যবহার করে বাজি ধরা এবং এর মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ডলার আয়ের অভিযোগে হোয়াইট হাউসের এক টেলিপ্রম্পটার অপারেটরের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।
গ্যাব্রিয়েল পেরেজ নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ—মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার গুরুত্বপূর্ণ জনসভাগুলোতে ঠিক কোন কোন শব্দ ব্যবহার করবেন, তা আগে থেকেই জেনে নিয়ে তিনি বাজি ধরতেন। উল্লেখ্য, পেরেজ ২০১৬ সাল থেকে হোয়াইট হাউসে কর্মরত ছিলেন।
পেরেজ 'কালশি' নামের একটি প্রেডিকশন মার্কেট প্ল্যাটফর্মে এসব বাজি ধরতেন। প্ল্যাটফর্মটি এর নিয়ন্ত্রক সংস্থা 'কমোডিটি ফিউচারস ট্রেডিং কমিশন' (সিএফটিসি)-এর কাছে এই সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাঠিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেরেজ মুনাফার টাকা তুলে নেওয়ার আগেই তার অ্যাকাউন্টটি স্থগিত করা হয়।
প্ল্যাটফর্মটি বিবিসিকে জানিয়েছে, গত মার্চ মাসে তাদের বিশ্লেষকরা 'মেনশন মার্কেট'-এ অস্বাভাবিক বাজি লক্ষ্য করেন। এই ব্যবস্থায় কোনো বক্তা নির্দিষ্ট দেশ, অর্থনৈতিক পরিভাষা বা নির্বাচনী স্লোগান ব্যবহার করবেন কি না, তা নিয়ে বাজি ধরার সুযোগ থাকে।
কালশি এক বিবৃতিতে জানায়, 'প্রেসিডেন্ট কিংবা ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বক্তব্য ফরেন এক্সচেঞ্জ মার্কেট, তেলের ভবিষ্যৎ বাজার এবং শেয়ারবাজারে শত শত কোটি ডলারের প্রভাব ফেলে।'
অ্যাকাউন্ট তথ্য যাচাই করে প্রতিষ্ঠানটি জানতে পারে যে ব্যবহারকারী হোয়াইট হাউসের একজন সরকারি কর্মচারী। এরপর উত্তোলনের আগেই পেরেজের ৯০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ আটকে দেওয়া হয়। কালশির এনফোর্সমেন্ট প্রধান রবার্ট ডি'নল্ট বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠান এই লেনদেনগুলো চিহ্নিত করেছে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার হাতে প্রমাণ তুলে দিয়েছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন। অভিযুক্ত কর্মীকে অবৈতনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে এবং তিনি আর হোয়াইট হাউসে কাজ করবেন না বলে লেভিট নিশ্চিত করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, পেরেজ সিএফটিসি-এর তদন্তে 'পূর্ণ সহযোগিতা' করছেন। তবে এবিসি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ম্যানহাটনের ফেডারেল প্রসিকিউটররা এই ঘটনায় কোনো ফৌজদারি মামলা করতে রাজি হননি। সিএফটিসি-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এই তদন্তের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে বা তথ্য নিশ্চিত করতে অস্বীকৃতি জানায়।
