ইরান যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১৪ মার্কিন সেনার মৃত্যু, আহতের সংখ্যা ৪০০ ছাড়াল
ইরান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সরকারি হিসাব অনুযায়ী মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। চলতি জুলাই মাসের শুরুতে আরব সাগরে একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নৌবাহিনীর এক পাইলটের মৃত্যুর পর এই সংখ্যা ১৪-তে পৌঁছায়। এছাড়া গতকাল সোমবার পর্যন্ত সংঘাতের ঘটনায় আহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ৪০০ ছাড়িয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানিয়েছেন, আহতদের একটি বড় অংশই মাথায় গুরুতর আঘাতজনিত সমস্যায় (ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরি—টিবিআই) ভুগছেন।
গত ১ জুলাইয়ের ওই হেলিকপ্টার দুর্ঘটনাকে নৌবাহিনী প্রাথমিকভাবে 'জরুরি অবতরণ' হিসেবে বর্ণনা করেছিল। তারা জানিয়েছিল, 'এই জরুরি অবতরণটি শত্রুতামূলক কোনো কর্মকাণ্ডের কারণে ঘটেছে এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।' দুর্ঘটনার পরপরই হেলিকপ্টারে থাকা অপর তিন নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছিল।
পেন্টাগনের যুদ্ধ ক্ষয়ক্ষতির হিসাবে জুলাই মাসে এই একটি অ-শত্রুতামূলক (নন-হোস্টাইল) মৃত্যুকে যুক্ত করা হয়েছে। যুদ্ধের শুরুতে গত মার্চ মাসে পৃথক পৃথক ঘটনায় ১৩ জন সেনা নিহত হওয়ার পর এটিই প্রথম রেকর্ডকৃত মৃত্যুর ঘটনা।
মার্চে প্রথম মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটেছিল কুয়েতের একটি কমান্ড সেন্টারে ইরানের ড্রোন হামলায়, যেখানে ছয়জন সেনা নিহত হন। এরপর সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে হামলার পর আহত হওয়া এক সেনা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পর মারা যান। এছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনাকারী একটি কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং বিমান ইরাকে বিধ্বস্ত হলে আরও ছয়জন সেনা নিহত হন।
সোমবার নতুন করে মার্কিন বিমান বাহিনীর এক সদস্য যুক্ত হওয়ার পর যুদ্ধে মোট আহত সেনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১৪ জনে। যদিও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু করেছে, তবে এই বিমান সেনার চোট পাওয়ার পেছনে সেই হামলা দায়ী কি না তা স্পষ্ট নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড ওই বিমান সেনার চোটের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি। তবে এই যুদ্ধে সেনাদের বড় ধরনের আঘাতের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মাথায় আঘাতজনিত সমস্যা বা টিবিআই। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং কাছাকাছি ঘটা বিস্ফোরণের শিকার হওয়া সেনাদের মধ্যে এই সমস্যা দিন দিন তীব্র হচ্ছে।
৯/১১ পরবর্তী যুগের প্রবীণ সেনাদের মধ্যে মাথায় আঘাতজনিত এই সমস্যা এবং যুদ্ধোত্তর মানসিক চাপ বা পিটিএসডি (পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার) অন্যতম সাধারণ উপসর্গ হয়ে উঠলেও, চিকিৎসকদের কাছে সেনাদের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
গুরুতর আহত সেনাদের সর্বশেষ সংখ্যা জানতে চাওয়া হলে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র মেজর এমা থম্পসন সোমবার জানান, তার কাছে নতুন কোনো তথ্য নেই। তবে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, আহতদের 'প্রায় সবাই' ইতিমধ্যেই কাজে ফিরে এসেছেন। অঞ্চলটি থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঠিক কতজন সেনাকে সরিয়ে নিতে হয়েছে, সে বিষয়েও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
