সমুদ্রে রকেট বুস্টার পুনরুদ্ধারে সফল চীন, পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তিতে বড় অগ্রগতি
পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তিতে অগ্রগতির পথে আরেক ধাপ এগিয়েছে চীন। সাগরে স্থাপিত একটি প্ল্যাটফর্মে লাগানো জালের মাধ্যমে রকেটের বুস্টার উদ্ধার করে শুক্রবার সফল পরীক্ষা চালিয়েছে দেশটি।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে দক্ষিণাঞ্চলের হাইনান বাণিজ্যিক মহাকাশ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে 'লং মার্চ–১০বি' রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণের প্রায় ছয় মিনিট পর বুস্টারটি মূল রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিয়ন্ত্রিতভাবে সাগরের প্ল্যাটফর্মে ফিরে আসে এবং জালের সাহায্যে সেটি উদ্ধার করা হয়।
এটি কক্ষপথে যাওয়ার সক্ষমতাসম্পন্ন রকেটের বুস্টার পুনরুদ্ধারে চীনের প্রথম সফল পরীক্ষা। এর মাধ্যমে পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট তৈরির লক্ষ্য আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল দেশটি।
খবর প্রকাশের পর চীনের কয়েকটি মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, 'লং মার্চ–১০বি' অনেকটা স্পেসএক্সের 'ফ্যালকন ৯' রকেটের মতো। তবে ফ্যালকন ৯-এর মতো নিজস্ব 'অবতরণে সক্ষম পা' ব্যবহার করে মাটিতে বা ড্রোন জাহাজে নামার বদলে চীনের এই রকেট বুস্টারটি বিশেষ 'ল্যান্ডিং হুক' ব্যবহার করে সাগরের প্ল্যাটফর্মে টানানো জালে ধরা পড়ে।
স্পেসএক্স ২০১৫ সালে প্রথমবার কক্ষপথ থেকে ফিরে আসা 'ফ্যালকন ৯'-এর বুস্টার সফলভাবে অবতরণ করায়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি বছরে প্রায় ১৫০টি উৎক্ষেপণ পরিচালনা করে এবং একই বুস্টার বহুবার পুনঃব্যবহার করে।
চীন প্রায় এক দশক ধরে পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করছে। সফল হলে উৎক্ষেপণ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং দেশটির দ্রুত সম্প্রসারিত বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট কর্মসূচি আরও গতি পাবে।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি চীনা কোম্পানিগুলোও এ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট তৈরিতে বিনিয়োগ বাড়াতে এ খাতের কোম্পানিগুলোর জন্য শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির নিয়মও শিথিল করেছে বেইজিং।
চীনের ২০৩০ সালের আগে মানুষকে চাঁদে পাঠানোর কর্মসূচির অংশ হিসেবে তৈরি হচ্ছে 'লং মার্চ–১০' রকেট । সিসিটিভি জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ দিকেই একই বুস্টার আবারও একটি উৎক্ষেপণে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
