কৃষির আধুনিকায়ন ও সার নিরাপত্তা জোরদারে চীনের সাথে ‘জিটুজি’ চুক্তি বাংলাদেশের
কৃষি খাতের আধুনিকায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চীনের ফুজিয়ান প্রদেশের সঙ্গে জিটুজি (সরকারের সঙ্গে সরকার) অংশীদারিত্বের বিষয়ে একমত হয়েছে বাংলাদেশ।
বুধবার (৮ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে সার সরবরাহ, হাইব্রিড ধান, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং গ্রামীণ উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে আলোচনায় আসে।
বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াসিন। উপস্থিত ছিলেন কৃষি সচিব ড. রফিকুল ইসলাম মোহাম্মদ এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) চেয়ারম্যান মো. আজিজুল ইসলাম। অন্যদিকে, চীনা প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন ফুজিয়ান প্রভিন্সিয়াল সাপ্লাই অ্যান্ড মার্কেটিং কো-অপারেটিভের পরিচালক ও সিপিসি পার্টি লিডারশিপ গ্রুপের সেক্রেটারি লিন গুওশান।
সার আমদানিতে বিশেষ জোর
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ডি-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার সরবরাহের লক্ষ্যে চীনের 'বানিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং লিমিটেড'-এর সাথে বিদ্যমান জিটুজি চুক্তিটি দ্রুত নবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে দেশে সারের সর্বোচ্চ চাহিদার সময় নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে চলতি মাসের মধ্যেই নবায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশকে অনুরোধ জানিয়েছে চীন।
এ প্রসঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চুক্তি নবায়নের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং দ্রুতই সরকারি অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। টেকসই কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে সারের স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার।
কৃষি উদ্ভাবন ও হাইব্রিড ধান
কৃষি গবেষণায় সহযোগিতা, উন্নত বীজ উন্নয়ন, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, কোল্ড-চেইন লজিস্টিকস এবং বাণিজ্যিক মৎস্য চাষের ক্ষেত্রেও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। বিশেষ করে ফুজিয়ান প্রদেশের উচ্চফলনশীল হাইব্রিড ধান বাংলাদেশে প্রবর্তনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে ঢাকা। এই জাতের ধান উপযুক্ত পরিবেশে একর প্রতি ৩.৬৭ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম।
রপ্তানি বৃদ্ধিতে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ
রপ্তানিমুখী কৃষিপণ্য বিশেষ করে 'ড্রাইড জ্যাকফ্রুট চিপস' (শুকনা কাঁঠালের চিপস) তৈরির মতো ভ্যালু-অ্যাডেড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে চীনের কারিগরি দক্ষতা চেয়েছে বাংলাদেশ। ফুজিয়ান কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কোল্ড-চেইন লজিস্টিকস উন্নয়নে কারিগরি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
সৌরবিদ্যুতে সেচ ও জ্বালানি সাশ্রয়
বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল নবায়নযোগ্য জ্বালানি। বাংলাদেশ সরকার দেশের ২ লাখেরও বেশি সেচ পাম্পকে সৌরশক্তিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা তুলে ধরে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি আমদানিতে বছরে প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফুজিয়ান প্রদেশ এই পাইলট প্রকল্পে অর্থায়ন এবং কারিগরি দক্ষতা প্রদানের বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
