‘গ্রিন প্রাইম মিনিস্টার’-এর নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলছে: সাইমুম পারভেজ
পরিবেশ ও প্রকৃতির প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত আন্তরিকতা ও অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে তার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, 'শুধু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন মানুষ এবং আমাদের দলের চেয়ারম্যান হিসেবেও আমরা একজন 'গ্রিন প্রাইম মিনিস্টার' পেয়েছি।'
বৃহস্পতিবার (০৯ জুন) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
ড. সাইমুম পারভেজ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশবাদী এই সত্তা দেশের পরিবেশ আন্দোলনে নতুন গতি এনে দিয়েছে। তিনি জানান, নির্বাচনী ব্যস্ততার মধ্যেও চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে জাপানি মিয়াওয়াকি পদ্ধতিতে গড়ে ওঠা বন নিয়ে তারেক রহমানের গভীর আগ্রহ পরিবেশ সংরক্ষণে তার দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। ড. সাইমুম আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি একটি সামাজিক আন্দোলন। স্কুলে 'গ্রিন ক্যাপ্টেন', অফিসে 'গ্রিন এমপ্লয়ি' এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে পরিবেশবান্ধব আচরণকে উৎসাহিত করেই এই আন্দোলনকে শক্তিশালী করা সম্ভব।
তিনি বলেন, 'পরিবেশ রক্ষা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি একটি সামাজিক আন্দোলন। স্কুলে 'গ্রিন ক্যাপ্টেন', অফিসে 'গ্রিন এমপ্লয়ি' এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে পরিবেশবান্ধব আচরণকে উৎসাহিত করেই এই আন্দোলনকে শক্তিশালী করা সম্ভব।'
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবুজায়নকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার ডাক দেন। তিনি বলেন, 'একটি সন্তান পৃথিবীতে জন্ম নিলে একটি গাছ লাগিয়ে সেই জন্ম উদযাপন করি। একজন নবজাতকের পাশাপাশি একটি গাছও বেড়ে উঠুক।'
প্রধানমন্ত্রী নতুন গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেগুলোর পরিচর্যা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের অংশ হয়ে থাকা পুরোনো গাছ সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষাকে সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিনি বলেন, উন্নয়ন ও পরিবেশকে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নয়, বরং সমন্বয়ের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে হবে।
জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং বন ও জলাভূমি ভরাটের ফলে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সরকার নানামুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিক সচেতনতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা শুধু প্রশাসনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়; প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্বশীল হতে হবে।' প্লাস্টিক দূষণ রোধে সরকার ইতোমধ্যে '৩আর' (রিডিউস, রিইউজ, রিসাইকেল) নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বলেও তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ সংরক্ষণ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ শিক্ষা ও গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ছয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে 'জাতীয় পরিবেশ পদক ২০২৫' প্রদান করেন। এছাড়া 'বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার ২০২৬', 'বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার ২০২৫' এবং সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীদের মধ্যে লভ্যাংশের চেক বিতরণ করা হয়।
উদ্বোধনী পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রী সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে জলপাই, জারুল ও নিমগাছের চারা রোপণ করেন এবং পরিবেশ ও বৃক্ষমেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।
উল্লেখ্য, সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের বিশাল কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এই কার্যক্রম তদারকির জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। জিআইএস, রিমোট সেন্সিং, ন্যাশনাল ট্রি ডাটাবেজ ও ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে বনায়ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সাড়ে তিন লাখের বেশি 'সবুজ কর্মসংস্থান' সৃষ্টি এবং ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
