ফ্লোরিডার পাম বিচ বিমানবন্দরের নাম বদলে হলো ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিমানবন্দর’
দক্ষিণ ফ্লোরিডার একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করে আনুষ্ঠানিকভাবে 'প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর' রাখা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে পাম বিচ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পুরনো নামফলকগুলো সরিয়ে সেখানে নতুন নামফলক বসানোর কাজ শুরু হয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের ফেসবুক পোস্টে লিখেছে, 'যেহেতু একটি বিমানবন্দরের সম্পূর্ণ রূপান্তর রাতারাতি ঘটে না, তাই আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে ভ্রমণের সময় টার্মিনালে আমাদের ক্লাসিক লুক এবং নতুন ব্র্যান্ডের উপাদানের একটি চমৎকার সহাবস্থান দেখতে পাবেন।'
নতুন নামকরণের পর গত বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার কিছু পরেই এই বিমানবন্দরে প্রথম অবতরণ করে ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের মালিকানাধীন বোয়িং ৭৫৭ মডেলের বিমান 'ট্রাম্প ফোর্স ওয়ান'।
এই বিমানের অন্যতম যাত্রী ছিলেন ট্রাম্পের ছেলে এরিক ট্রাম্প। ট্রাম্প পরিবার যখনই কাছাকাছি পাম বিচে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার-এ-লাগো বাসভবনে যান, তখনই তারা নিয়মিত এই বিমানবন্দরটি ব্যবহার করেন। এর আগে চলতি বছরের শুরুতে বিমানবন্দর থেকে ট্রাম্পের মার-এ-লাগো বাসভবন পর্যন্ত সড়কের একটি অংশের নাম বদলে 'ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প বুলেভার্ড' রাখা হয়েছিল।
এরিক ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ লিখেছেন, 'ফ্লোরিডা এবং আমাদের দেশের জন্য তার (ডোনাল্ড ট্রাম্প) চেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন এমন কোনো ব্যক্তি নেই। আর এই অসাধারণ সম্মানের জন্য তার চেয়ে যোগ্য ব্যক্তি আর কেউ হতে পারে না। একজন ছেলে হিসেবে এবং এই বিমানবন্দর নিয়মিত ব্যবহারকারী হিসেবে আমার বোর্ডিং পাসে 'ডিজেটি' আদ্যক্ষরগুলো দেখতে আমি চিরকাল গর্ববোধ করব।'
যদিও বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন গত বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যকর হয়েছে, তবে এর তিন অক্ষরের বিমানবন্দর কোডটি আগামী ১৮ আগস্ট থেকে 'পিবিআই' থেকে পরিবর্তিত হয়ে 'ডিজেটি' করা হবে।
পাম বিচ বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করা সম্ভব হয়েছে চলতি বছরের শুরুতে ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিসের সই করা একটি আইনের মাধ্যমে। বিমানবন্দরের নামফলক পরিবর্তন, ব্র্যান্ডিং এবং অন্যান্য আধুনিকায়নের কাজে প্রায় ৫৫ লাখ ডলার খরচ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরবর্তীতে ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ বিমানবন্দরটির নামকরণের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি লেখেন, 'ফ্লোরিডার পাম বিচের জন্য একটি অত্যন্ত বড় দিন। এটি আমার জন্য এক বড় সম্মান যে পাম বিচ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম বদলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রাখা হয়েছে। এলাকাটি অত্যন্ত চমৎকার, অবস্থানও দারুণ এবং এর আধুনিকায়ন হবে চোখধাঁধানো। পাম বিচের যারা ভোট দিয়েছেন এবং আস্থা রেখেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।' একই সঙ্গে এটিকে তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা বিমানবন্দর হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তবে বৃহস্পতিবার সকালে সিনসিনাটি যাওয়ার পথে বিমানবন্দরে নতুন নাম দেখে অবাক হন কিগান কলেট নামের এক যাত্রী। তিনি মনে করেন না যে ট্রাম্পের নামে কোনো বিমানবন্দরের নামকরণ করা উচিত, তবে এটি নিয়ে তার কোনো বিশেষ আপত্তিও নেই। কলেট বলেন, 'দিনশেষে এটি কেবল একটি বিমানবন্দরের নাম মাত্র। এর চেয়েও বড় অনেক বিষয় রয়েছে। আমার মনে হয় এটি মনোযোগ সরানোর এক প্রয়াস মাত্র। এটা নিয়ে এত ভাবার কী আছে?'
এদিকে গত বৃহস্পতিবার সকালে টেনেসির ড্যান্ড্রিজে এক অনুষ্ঠানে আই-৪০ সেতুর নাম পরিবর্তন করে 'ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প সেতু' রাখা হয়েছে। অনুষ্ঠানে মার্কিন অর্থমন্ত্রী (ট্রেজারি সেক্রেটারি) স্কট বেসেন্ট, ইউএস সিনেটর মার্শা ব্ল্যাকবার্ন ও বিল হ্যাগারটি এবং প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য টিম বারচেট উপস্থিত ছিলেন।
অনুস্থানের আগে স্কট বেসেন্ট বলেন, ট্রাম্পের চেয়ে এই সম্মানজনক নামকরণের যোগ্য ব্যক্তি আর কেউ হতে পারে না।
উল্লেখ্য, ড্যান্ড্রিজ শহরটি অবস্থিত জেফারসন কাউন্টিতে। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে এই কাউন্টিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ৮২ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন।
