Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

Friday
July 03, 2026

Sign In
Subscribe
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
FRIDAY, JULY 03, 2026
‘টেকনো ইন আ মনাস্ট্রি’—গ্রিক যাজকের এই ডুম মেটাল অ্যালবাম বছরের সবচেয়ে আলোচিত রেকর্ড

আন্তর্জাতিক

দ্য গার্ডিয়ান
03 July, 2026, 10:50 am
Last modified: 03 July, 2026, 12:21 pm

Related News

  • হাতির মলের ওপর নির্ভর করছে আপনার গিটারের ভবিষ্যৎ, কিন্তু কেন? 
  • ১ লাখ বছর ধরে ‘নিষ্ক্রিয়’ মনে করা গ্রিসের বিশাল আগ্নেয়গিরিতে জমছে ম্যাগমা
  • অ্যাঙ্গোলা থেকে ৬৯,০০০ টন এলএনজি নিয়ে মহেশখালীতে পানামার জাহাজ, ২২ এপ্রিল আসছে আরও একটি
  • বাংলাদেশি গিটার নিয়ে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন সিয়ামের
  • গ্রিস যাওয়ার পথে সাগরে সুনামগঞ্জের ৪ যুবকের মৃত্যু 

‘টেকনো ইন আ মনাস্ট্রি’—গ্রিক যাজকের এই ডুম মেটাল অ্যালবাম বছরের সবচেয়ে আলোচিত রেকর্ড

ফাদার ডায়োনিসিওস তাবাকিস বলেন, ‘শয়তান কোনো কিছু সৃষ্টি করতে পারে না। সবকিছুই সৃষ্টি করেছেন ঈশ্বর।’
দ্য গার্ডিয়ান
03 July, 2026, 10:50 am
Last modified: 03 July, 2026, 12:21 pm
ইলেক্ট্রিক গিটার হাতে গ্রীক যাজক ফাদার ডায়োনিসিওস তাবাকিস। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

'গিটার ঈশ্বরের তৈরি,'—বলছিলেন ফাদার ডায়োনিসিওস তাবাকিস। গ্রিসের পেলোপোনেসীয় উপকূলের শহর নাফপ্লিওতে অবস্থিত তার ফ্ল্যাটের বসার ঘরে বসে তিনি কথাগুলো বলছিলেন। ঘরজুড়ে ছড়িয়ে ছিল অসংখ্য ধরনের বাদ্যযন্ত্র এবং খ্রিস্টীয় ধর্মীয় প্রতিকৃতি।

দীর্ঘ কালো ধর্মীয় পোশাক পরিহিত, মুখভর্তি সুশোভিত পাতলা ধূসর দাড়িওয়ালা তাবাকিসের কথা শুনলে মনে হয়, যেন তিনি গির্জার ধর্মোপদেশ দেওয়ার মঞ্চ থেকেই বক্তব্য রাখছেন। এরপর তিনি বলেন, 'শয়তান কোনো কিছু সৃষ্টি করতে পারে না। সবকিছুই সৃষ্টি করেছেন ঈশ্বর।'

তার সবচেয়ে প্রিয় বাদ্যযন্ত্রটি হলো পরিবর্তিত রূপে তৈরি একটি 'হার্লে বেন্টন আর–৪৫৭' গিটার।

মাত্র ১৩৫ ইউরো দামে কেনা এই দৃষ্টিনন্দন বৈদ্যুতিক গিটার থেকে এমন সুর বের হয়, যা সাধারণ গিটারের তুলনায় বেশি দুলে ওঠা, প্রচলিত সুরের সীমা অতিক্রমকারী এবং কিছুটা বেসুরো হলেও একই সঙ্গে অনেক বেশি কোমল ও উষ্ণ অনুভূতি সৃষ্টি করে।

তাবাকিস এই গিটারের সুরকে মানুষের কণ্ঠস্বরের 'ঢেউ'-এর সঙ্গে তুলনা করেন। 'আর–৪৫৭' গিটারের স্বতন্ত্র বিকৃত সুরের ঢেউ ছড়িয়ে রয়েছে 'প্যারাডাইস মেটাল' অ্যালবামের প্রতিটি অংশে। ঘরোয়া পরিবেশে ধারণ করা এই অ্যালবামে ডুম মেটাল, বড়দিনের স্তোত্র এবং ধর্মীয় ভাবধারার ডাবস্টেপের এক অভিনব সংমিশ্রণ ঘটেছে। চলতি বছরের শুরুতে পরীক্ষাধর্মী সঙ্গীতের জগতে অত্যন্ত প্রভাবশালী সাময়িকী 'পিচফর্ক' অ্যালবামটিকে সমালোচকদের মূল্যায়নে ৭ দশমিক ৬ নম্বর দেওয়ার পর ফাদার তাবাকিস একেবারে অচেনা অবস্থা থেকে একধরনের বিশেষ অনুরাগী-নির্ভর খ্যাতির অধিকারী হয়ে ওঠেন। এমনকি এই মূল্যায়ন অ্যাফেক্স টুইনের 'ড্রুককিউএস' কিংবা ড্যাফট পাঙ্কের 'ডিসকভারি' অ্যালবামের চেয়েও বেশি ছিল।

ফাদার তাবাকিসের গিটারের প্রতি গভীর অনুরাগকে জটিল করে তুলেছে আরেকটি বিষয়। ৫৩ বছর বয়সী এই ব্যক্তি গ্রিক অর্থোডক্স গির্জার একজন আনুষ্ঠানিকভাবে অভিষিক্ত যাজক। খ্রিস্টধর্মের এই শাখায় দীর্ঘদিন ধরে সব ধরনের বাদ্যযন্ত্র এবং ধর্মীয় নয় এমন সুরকে শয়তানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং পারিবারিক শালীনতার জন্য হুমকি বলে বিবেচনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, 'বৈদ্যুতিক গিটারকে গির্জায় কিছুটা ভুলভাবে বোঝা হয়।' তিনি আরও বলেন, 'এটিকে শয়তানের জিনিস বলে মনে করা হয়।'

এই ধারণা বদলে দেওয়ার জন্য ফাদার তাবাকিস একাই যেন একটি ব্যক্তিগত অভিযানে নেমেছেন। তার অত্যন্ত নিভৃতচারী স্বভাবের কথা বিবেচনা করলে তার সঙ্গে আমাদের সামনাসামনি দেখা হওয়াটাই যেন এক ছোটখাটো অলৌকিক ঘটনা বলে মনে হয়।

এক মাস আগে আমি তার রেকর্ড প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। তারা স্বীকার করেছিলেন, তারা নিজেরাও কখনো তার সঙ্গে সরাসরি দেখা করেননি, এমনকি টেলিফোনেও কথা বলেননি।

তার একটি ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে, তবে এর বাইরে উল্লেখ করার মতো আর কোনো অনলাইন উপস্থিতি নেই। গত এপ্রিলে তার অ্যালবাম প্রকাশের পর বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে তাকে অসংখ্য সাক্ষাৎকার ও অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু টেলিভিশনে তাকে হাস্যকরভাবে উপস্থাপন করা হতে পারে—এই আশঙ্কায় তিনি অধিকাংশ আমন্ত্রণই প্রত্যাখ্যান করেন।

শতাব্দীপ্রাচীন গ্রিক গির্জায় নিবন্ধিত আট হাজার যাজকদের একজন তাবাকিস তার ধর্মীয় দায়িত্বের প্রতি সম্পূর্ণ নিবেদিত। এ কারণেই নিজের কাজের কথা বলতে গিয়ে তিনি প্রায়ই 'আমি'-এর বদলে 'আমরা' শব্দটি ব্যবহার করেন।

ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

তিনি ব্রহ্মচর্যের জীবনযাপন করেন না। গত ৩২ বছর ধরে তিনি ফোতেইনি নামের এক নারীর সঙ্গে বিবাহিত এবং তাদের তিনটি সন্তান রয়েছে। তবুও নির্জন সাধনাময় জীবনই তার কাছে আদর্শ, আর তিনি সেই জীবনধারার প্রতিই আকৃষ্ট। প্রতি বছর তিনি সন্ন্যাসীদের স্বশাসিত পবিত্র তীর্থস্থান আথোস পর্বতে তীর্থযাত্রা করেন।

এ ছাড়া কঠোর সংযমী ও আত্মত্যাগী যাজকদের তিনি গভীরভাবে শ্রদ্ধা করেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন তার স্ত্রীর দাদা, যিনি আলবেনিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় ভালুক ও নেকড়ের মাঝেই বসবাস করতেন। তাবাকিস বলেন, 'তারাই প্রকৃত যাজক।'

নিজের প্রতিভার কথা বলতে গিয়ে তিনি লাজুক হাসি দিয়ে বলেন, তার প্রতিভা বরং 'মানুষের চোখে বেশি পড়ে'।

১৯৭২ সালে জন্ম নেওয়া তাবাকিস বড় হয়েছেন পিরাইয়ুস বন্দরে। তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা এতটাই শোচনীয় ছিল যে, তার বাবা-মা তাকে জন্মের আগেই গর্ভপাত করানোর চেষ্টা করেছিলেন। তিনি বলেন, 'দুবার!' এরপর হাসতে হাসতে তিনি বলেন, 'দুবারই চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না।'

১৯২২ সালে তুর্কি সশস্ত্র বাহিনী স্মিরনা নগরীতে আগুন ধরিয়ে দিলে সেখান থেকে পালিয়ে আসা অসংখ্য গ্রিক মানুষের ভিড়ে তখন পিরাইয়ুস পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। তার দাদাও সেই শরণার্থীদের একজন ছিলেন। সেই সমগ্র বাইজান্টাইন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আজও তাবাকিসের জীবন ও সত্তার ভেতর প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি বলেন, 'সেখান থেকেই আমার শিকড়।' তিনি আরও বলেন, 'এটি আমার রক্তে মিশে আছে।'

নিজের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হয়ে ওঠে সঙ্গীত। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় তার এলাকার গির্জার যাজকেরা তাকে বাইজান্টাইন সঙ্গীতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর থেকে তিনি নিজ উদ্যোগেই বাইজান্টাইন ধারার নানা দুর্লভ বাদ্যযন্ত্র বাজানো শিখে ফেলেন। এর মধ্যে রয়েছে বেনজোর মতো আকৃতির 'জুমবুশ', হাঁটুর ওপর রেখে বাজানো 'কাবাক কেমানে', লম্বা গলাবিশিষ্ট 'ইয়ায়লি তানবুর', 'জুরনা' বাঁশি, 'নে' বাঁশি এবং বিভিন্ন ধরনের 'লাইর'।

ঘরের এক পাশে কুমারী মরিয়মের বিশাল প্রতিকৃতির নিচে সাজিয়ে রাখা তার পনেরো ধরনের 'নে' বাঁশির মধ্যে দুটি বাঁশির পার্থক্য দেখানোর সুযোগ পেয়ে তিনি যেন উৎফুল্ল হয়ে ওঠেন। তার ভাষায়, এর একটি থেকে তুলনামূলকভাবে আরও তীক্ষ্ণ ও দন্ত্যধ্বনির মতো সুর বের হয়।

তাবাকিস বিশ্বাস করেন, যিশুখ্রিস্টের জননী শুধু তার জন্ম রক্ষা করেননি, সাম্প্রতিক সময়ে তার সঙ্গীতজীবনের সাফল্যও তারই আশীর্বাদের ফল। প্রায় চার বছর আগে তিনি অত্যন্ত সাধারণ ও স্বনির্ভর উপায়ে নিজের গান রেকর্ড করা শুরু করেন। তার ছেলে তাকে সঙ্গীত প্রযোজনার সফটওয়্যার ব্যবহার করতে শেখায়, আর ওপরতলার প্রতিবেশী তাকে গিটার বাজানো শেখান।

গির্জায় পরিচয় হওয়া ২৩ বছর বয়সী এভজেনিয়া সিমেলা আরমেনি তার গানে কণ্ঠ দেন। তিনি নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্ল্যাটে মোবাইল ফোন দিয়ে নিজের কণ্ঠ রেকর্ড করে তা পাঠিয়ে দিতেন। প্রায় একই সময়ে তিনি নিজের গান ইউটিউবে প্রকাশ করতে শুরু করেন। তবে তিনি বলেন, 'বিখ্যাত হওয়ার কোনো আকাঙ্ক্ষাই আমার কখনো ছিল না।' তার চ্যানেলের অনুসারীর সংখ্যা ধীরে ধীরে প্রায় চার হাজারে পৌঁছায়।

তবে সেই অনুসারীদের একজন ছিলেন থেসালোনিকির অত্যন্ত আধুনিক ও পরীক্ষাধর্মী সঙ্গীত প্রতিষ্ঠান 'এলহেলহেল'-এর প্রতিষ্ঠাতা নিকোলাস রাফায়েল। তাবাকিসের সঙ্গীত শুনেই তিনি মুহূর্তের মধ্যে মুগ্ধ হয়ে যান। তিনি বলেন, 'এখনকার দিনে সঙ্গীতশিল্পীরা যেন খুব নির্দিষ্ট কিছু ছাঁচের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।' তিনি আরও বলেন, 'প্রত্যেকেই যেন আরেকজনের অনুকরণের অনুকরণের অনুকরণের অনুকরণ।' তাবাকিস সেই পুরো ধারার সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। তিনি বলেন, 'প্রচলিত ধরনের শিল্পীদের তুলনায় তিনি এক মনোমুগ্ধকর পরিবর্তন।'

পরে তিনি একটি খ্রিস্টান অনলাইন আলোচনামঞ্চে খুঁজে বের করেন তাবাকিসের ই-মেইল ঠিকানা এবং তাকে একটি অ্যালবাম তৈরির প্রস্তাব দেন। 'প্যারাডাইস মেটাল' যেন এক রোমাঞ্চকর সঙ্গীতভ্রমণ, যেখানে বাইজান্টাইন সঙ্গীত, খ্রিস্টীয় অর্থোডক্স বিশ্বাস, ভারী ধাতব সঙ্গীত, র‍্যাপ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নৃত্যসঙ্গীত একসঙ্গে মিলিত হয়েছে।

অ্যালবামের অধিকাংশ গানে গভীর অনুরণনময় ধর্মীয় উচ্চারণ শোনা যায়, তবে প্রতিটি মোড়েই অপেক্ষা করে অপ্রত্যাশিত চমক। 'টেকনো ইন আ মনাস্ট্রি' শিরোনামের একটি গান শুরু হয় একটি আহ্বানসূচক প্রশ্ন দিয়ে—'আপনি কি প্রস্তুত?' এরপরই শুরু হয় ছন্দময় ধর্মীয় স্তোত্র, যার ওপর ভর করে বেজে চলে অশুভ আবহ তৈরি করা যন্ত্রসঙ্গীতের তালে নির্মিত প্রযুক্তিনির্ভর সুর। সঙ্গীতবিষয়ক সাময়িকী 'পিচফর্ক' গানটিকে বর্ণনা করেছে এভাবে—'এ যেন সম্ভাবনার এক অফুরন্ত খেলার মাঠ।' তাদের মতে, গানটি যেমন উচ্চাভিলাষী, তেমনি নিজের কাছ থেকে খুব কমই প্রত্যাশা করে এমন।

তাবাকিস বলেন, 'আমি সব সময় নতুন কিছু নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে এবং অনুসন্ধান চালাতে চেষ্টা করি।' এরপর তিনি গ্রিক কবি ইয়ানিস রিৎসোসের একটি পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করেন— 'আমি কখনো বড় বড় বাড়ি দেখে ঈর্ষান্বিত হইনি, বরং বড় বড় জানালা দেখে হয়েছি।' এরপর তিনি যোগ করেন, 'কারণ প্রতিটি বাদ্যযন্ত্রই একটি জানালার মতো, যার মধ্য দিয়ে আপনি মহাবিশ্বের একটি অংশ, আকাশের একটি অংশ দেখতে পারেন।' শব্দের উৎপত্তি নিয়ে আগ্রহী এই যাজক আরও বলেন, 'মেটাল সঙ্গীত' শব্দটির মূল এসেছে 'মেতাল্লাও' থেকে, যার অর্থ হলো খনন করা, অনুসন্ধান করা।

তার একটি গানের শিরোনাম 'ফ্লেক্সারেইস কার্গা, এক্লিসিয়াস্তিকি র‍্যাপ', যার মোটামুটি অর্থ দাঁড়ায়—'তুমি দারুণভাবে মেতে আছো (গির্জার র‍্যাপ)।' ফাদার তাবাকিস ব্যাখ্যা করেন, 'মেতে থাকা বলতে কোনো কিছুর সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে পড়াকে বোঝায়, আর "দারুণভাবে" বলতে বোঝায় অনেক বেশি।' তিনি বলেন, তিনি রাজনৈতিক শিল্পী নন। কারণ, তার মতে, আমরা যা দেখি, তার কতটুকু সত্য—সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

তবুও 'দুবাই পায়েই', যার অর্থ 'বিদায়, দুবাই', গানটি অনুপ্রাণিত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য পরিচিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের শহরে বোমা হামলার সময় মানুষের ব্যাপক পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে।

তিনি বলেন, 'এটি আমাকে "প্রকাশিত বাক্য" গ্রন্থে বর্ণিত ব্যাবিলনের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে, যে নগরী একসময় প্রায় জনশূন্য হয়ে গিয়েছিল। এটি আসলে সম্পদের অহংকার ও অসারতাকে ব্যঙ্গ করে লেখা একটি রচনা।'

ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

সম্ভবত সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, যাজক থেকে সঙ্গীতশিল্পী হয়ে ওঠা এই মানুষের অ্যালবামটিতে ধর্মীয় উপদেশ দেওয়ার প্রবণতা প্রায় নেই বললেই চলে। তিনি বলেন, র‍্যাপ সঙ্গীতের দিকে ঝোঁকার পেছনে তার উদ্দেশ্য ছিল বয়স্ক ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যকার ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করা। তার মতে, বয়স্ক প্রজন্ম অনেক সময় অনমনীয় হয়ে থাকে, আর তরুণেরা যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ভাষায় কথা বলে। তিনি বলেন, 'আমাকে ছন্দ মিলিয়ে কিছু কথা লিখতে হয়েছে।' এরপর যোগ করেন, 'এটি সহজ ছিল না। আমি প্রচলিত কথ্য শব্দ খুঁজতে ইন্টারনেটে খোঁজ করেছি এবং যতটা পেরেছি, ততটাই করেছি।'

তার কোনো সন্তানই খুব বেশি ধর্মপ্রাণ নয়। তাবাকিসের ২৫ বছর বয়সী মেয়ে একজন আলোকচিত্রী এবং তার শরীরে উল্কিচিত্র রয়েছে। তিনি এথেন্সে বসবাস করেন। তাবাকিস ইচ্ছাকৃতভাবেই নিজের বিশ্বাস বা আগ্রহ সন্তানদের ওপর চাপিয়ে দেননি।

অন্য যাজকরা তার এই সাফল্য সম্পর্কে কী ভাবেন?

তাবাকিস বলেন, 'তারা আমাদের কিছুই বলেননি, আর সেটাই ভালো।' এরপর তিনি বলেন, 'আমরা এখানকার মানুষ নই, তাই তাদের সঙ্গে খুব বেশি পরিচয়ও নেই।' যদিও তারা সেখানে ২৭ বছর ধরে বসবাস করছেন। 

তার কথায় ইঙ্গিত মেলে যে, পুরো গির্জার ভেতরেই একধরনের প্রতিযোগিতা রয়েছে। তার ধারণা, কেউ কেউ হয়তো প্রকৃত উদ্দেশ্যে এই পথে আসেননি, কিংবা তাদের কারও কারও কাছে ক্ষমতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

ধর্মনিরপেক্ষ সঙ্গীতকে শয়তানের সঙ্গে এক করে দেখার অর্থোডক্স গির্জার পুরোনো ধারণা তাকে মোটেই বিচলিত করে না। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, 'ঈশ্বরের রুচিবোধ অত্যন্ত উন্নত।' তিনি আরও বলেন, 'তিনি সুন্দর জিনিস ভালোবাসেন। তার রুচি কখনোই অমার্জিত নয়।'

তাবাকিসের বিশ্বাস, বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করেও যদি সুন্দর কিছু সৃষ্টি করা যায়, তবে সেটিও তার বিশ্বাসের প্রতি সম্মান প্রদর্শনেরই একটি উপায়। তবে ভবিষ্যতে একজন সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে তিনি কী করবেন, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে চান না। সঙ্গীতজীবনে যত বড় সফলতাই আসুক না কেন, তিনি কখনোই পূর্ণসময়ের সঙ্গীতশিল্পী হওয়ার জন্য গির্জার দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন না।

তিনি বলেন, 'লোকজন বলে, একজন যাজক একজন রাজার চেয়েও মহান। কারণ তিনি রুটিকে খ্রিস্টের দেহে রূপান্তরিত করতে পারেন। এমনকি কোনো স্বর্গদূতও তা করতে পারে না।'

স্ত্রীর সঙ্গে হাঁটতে বের হলেও কোনো না কোনোভাবে শেষ পর্যন্ত তিনি গির্জায় গিয়েই পৌঁছান। আমি যখন তাকে ভবিষ্যতে সরাসরি মঞ্চে পরিবেশনার পরিকল্পনা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি, তখন তিনি তার নিজস্ব কাব্যিক ভঙ্গিতে উত্তর দেন—যেখানে অর্ধেক গভীর আধ্যাত্মিক ভাবনা, আর অর্ধেক যেন অদ্ভুত রসবোধ।

তিনি বলেন, 'এটা যেন এমন, একটি মাছকে জল থেকে তুলে এনে তাকে একটু বিশুদ্ধ বাতাস খাওয়ানোর জন্য হাঁটতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।' কিছুক্ষণ থেমে তিনি আবার বলেন, 'আমি এতে খুব অস্বস্তি বোধ করি। তবে যদি এতে মানুষের আনন্দ হয়, তাহলে আমি তাতে আপত্তি করি না।'

Related Topics

টপ নিউজ

গ্রীক পুরোহিত / ফাদার ডায়োনিসিওস তাবাকিস / মেটাল সঙ্গীত / ‘প্যারাডাইস মেটাল’ / অ্যালবাম / গিটার / ডুম মেটাল অ্যালবাম / গ্রিস

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • ছবি: সংগৃহীত
    বাংলা কিউআর পেমেন্টে গ্রাহকের কোনো খরচ নেই, পুরো সেবাই ফ্রি
  • ছবি: সংগৃহীত
    যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বাদ দিয়ে’ ইরানের সঙ্গে চুক্তি করার পরিকল্পনা উপসাগরীয় দেশগুলোর!
  • প্রতীকী ছবি: সংগৃহীত
    এনপিএসবির আওতায় মার্চেন্ট পেমেন্টে সর্বনিম্ন এমডিআর ১ শতাংশ নির্ধারণ বাংলাদেশ ব্যাংকের
  • ফাইল ছবি: টিবিএস
    ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারে দাম কমল ৩৫৭ টাকা
  • ইনফোগ্রাফিক: টিবিএস
    গ্রিন এনার্জি খাতে বিনিয়োগ পেতে পারে কম সুদে ঋণ, কর ছাড়
  • ছবি: টিবিএস
    ডিজিটাল যুগে চট্টগ্রাম বন্দর: চালু হলো কাগজবিহীন কার্গো ডেলিভারি সিস্টেম

Related News

  • হাতির মলের ওপর নির্ভর করছে আপনার গিটারের ভবিষ্যৎ, কিন্তু কেন? 
  • ১ লাখ বছর ধরে ‘নিষ্ক্রিয়’ মনে করা গ্রিসের বিশাল আগ্নেয়গিরিতে জমছে ম্যাগমা
  • অ্যাঙ্গোলা থেকে ৬৯,০০০ টন এলএনজি নিয়ে মহেশখালীতে পানামার জাহাজ, ২২ এপ্রিল আসছে আরও একটি
  • বাংলাদেশি গিটার নিয়ে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন সিয়ামের
  • গ্রিস যাওয়ার পথে সাগরে সুনামগঞ্জের ৪ যুবকের মৃত্যু 

Most Read

1
ছবি: সংগৃহীত
অর্থনীতি

বাংলা কিউআর পেমেন্টে গ্রাহকের কোনো খরচ নেই, পুরো সেবাই ফ্রি

2
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বাদ দিয়ে’ ইরানের সঙ্গে চুক্তি করার পরিকল্পনা উপসাগরীয় দেশগুলোর!

3
প্রতীকী ছবি: সংগৃহীত
অর্থনীতি

এনপিএসবির আওতায় মার্চেন্ট পেমেন্টে সর্বনিম্ন এমডিআর ১ শতাংশ নির্ধারণ বাংলাদেশ ব্যাংকের

4
ফাইল ছবি: টিবিএস
অর্থনীতি

১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারে দাম কমল ৩৫৭ টাকা

5
ইনফোগ্রাফিক: টিবিএস
বাংলাদেশ

গ্রিন এনার্জি খাতে বিনিয়োগ পেতে পারে কম সুদে ঋণ, কর ছাড়

6
ছবি: টিবিএস
অর্থনীতি

ডিজিটাল যুগে চট্টগ্রাম বন্দর: চালু হলো কাগজবিহীন কার্গো ডেলিভারি সিস্টেম

EMAIL US
contact@tbsnews.net
FOLLOW US
WHATSAPP
+880 1847416158
The Business Standard
  • About Us
  • Contact us
  • Sitemap
  • Privacy Policy
  • Comment Policy
Copyright © 2026
The Business Standard All rights reserved
Technical Partner: RSI Lab

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net