গ্রিস যাওয়ার পথে সাগরে সুনামগঞ্জের ৪ যুবকের মৃত্যু
উত্তর আফ্রিকা থেকে সাগরপথে ইউরোপে যাওয়ার পথে সাগরে ভাসতে ভাসতে খাবার ও পানির অভাবে কয়েকজন বাংলাদেশি মারা গেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে চারজন সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বাসিন্দা।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) গ্রিসের কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সীমান্ত ও উপকূলীয় রক্ষা বাহিনী ফ্রন্টেক্সের একটি জাহাজ গ্রিসের বৃহত্তম এবং ভূমধ্যসাগরের পঞ্চম বৃহত্তম দ্বীপ ক্রিটের কাছ থেকে ২৬ জনকে উদ্ধার করে।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন নারী ও একটি শিশুও রয়েছে।
কোস্ট গার্ডের ভাষ্যমতে, নৌকাটি ২১ মার্চ পূর্ব লিবিয়ার তোবরুক বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। ছয় দিন ধরে খাবার ও পানীয় ছাড়াই সমুদ্রে ভাসতে থাকায় যাত্রীরা দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েন। প্রতিকূল আবহাওয়া, খাদ্য ও পানির সংকটে ২২ যাত্রী মারা যান।
নিহতদের মধ্যে চার বাংলাদেশির পরিচয় জানা গেছে। তারা সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বাসিন্দা। তারা হলেন- নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), সাজিদুর রহমান (২৮), শাহান মিয়া (২৫) ও মুজিবুর রহমান (৩৮)।
নিহত ময়নার মামা উমেদ আলী জানান, ওই নৌকায় থাকা একজন আমাকে ফোন করে ময়নার মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন। ময়না ছাড়াও দিরাইয়ের আরও তিনজনসহ বেশ কয়েকজন বাংলেদেশি মারা গেছেন বলে ফোনে জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের মুজিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে জনপ্রতি প্রায় ১২ লাখ টাকায় চুক্তি করে ময়নাসহ নিহত অপর তিনজন লিবিয়া হয়ে গ্রিসে যাওয়ার উদ্যোগ নেন। চুক্তি অনুযায়ী বড় ও নিরাপদ নৌকায় করে যাত্রার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাদের ছোট নৌকায় তুলে দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছ থেকে আমিও খবরটি শুনেছি। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য তিনি খোঁজখবর নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন।
