প্যারামাউন্টের কাছে ১১১ বিলিয়ন ডলারে ওয়ার্নার ব্রাদার্স বিক্রির অনুমোদন মার্কিন বিচার বিভাগের
১১ হাজার ১০০ কোটি (১১১ বিলিয়ন) ডলারের বিনিময়ে প্যারামাউন্টের কাছে 'ওয়ার্নার ব্রাদার্স' বিক্রির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। ফলে হলিউডের এই স্টুডিও অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলো। এর মাধ্যমে সিএনএন এবং এইচবিও'র মতো প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানের মালিকানা পেতে যাচ্ছে প্যারামাউন্ট।
তবে শুরু থেকেই এই বিক্রয়চুক্তিটি নানাভাবে বিতর্কিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে প্যারামাউন্ট ও নেটফ্লিক্সের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, গণমাধ্যম খাতে একচেটিয়াকরণের আশঙ্কা এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগও দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, প্যারামাউন্টের প্রধান ডেভিড এলিসন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম বড় দাতা ল্যারি এলিসনের ছেলে।
বিচার বিভাগ সবুজ সংকেত দিলেও চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত নয়। ক্যালিফোর্নিয়ার মতো অঙ্গরাজ্যগুলো এই বিক্রয় প্রক্রিয়াটি পর্যালোচনা করছে এবং এটি ঠেকাতে তারা আদালতে যাওয়ারও প্রস্তুতি নিতে পারে।
এক বিবৃতিতে মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই চুক্তিটি নিয়ে তারা কঠোর তদন্ত পরিচালনা করেছে। তাদের মতে, এই চুক্তির ফলে বাজার প্রতিযোগিতা বা মার্কিন ভোক্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বরং বিভাগটি দাবি করেছে, এই একীভূতকরণ মিডিয়া ও বিনোদন জগতে প্রতিযোগিতা বাড়াবে, যা মার্কিন ভোক্তা ও কর্মীদের জন্য সুফল বয়ে আনবে।
তবে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টা গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছিলেন, ওয়ার্নার ব্রাদার্সের এই মালিকানা হস্তান্তর বিনোদন শিল্পে প্রতিযোগিতাকে আরও সংকুচিত করবে।
উল্লেখ্য, এই শিল্পটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই ও বাজেট কাটছাঁটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
চলতি মাসের শুরুতে বোন্টা জানান, এই একীভূতকরণ ঠেকাতে আনুষ্ঠানিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে তিনি দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেবেন। তার একজন মুখপাত্র বিবিসি-কে বলেছেন, বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন এবং এ বিষয়ে নতুন কোনো আপডেট নেই।
গত এপ্রিলে হলিউডের এক হাজার ৪০০-এর বেশি অভিনেতা, পরিচালক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা এই চুক্তির বিরোধিতা করে একটি খোলা চিঠিতে সই করেন। ওই চিঠিতে তারা বলেন, 'এর চুক্তির ফলে নির্মাতাদের সুযোগ কমবে, পুরো প্রোডাকশন ইকোসিস্টেমে কর্মসংস্থান হ্রাস পাবে, খরচ বাড়বে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে দর্শকদের পছন্দের পরিধি কমে আসবে।'
২০২৫ সালে স্কাইড্যান্স ও প্যারামাউন্ট একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় তাদের প্রায় ১০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছিল। হলিউড সংশ্লিষ্টরা কর্মসংস্থান হারানো এবং গুটিকতক স্টুডিওর হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত হওয়ার ভয় পেলেও প্যারামাউন্ট নির্বাহীরা বলছেন, এই চুক্তির ফলে কয়েকশ কোটি ডলারের ব্যয় সাশ্রয় হবে।
ওয়ার্নার ব্রাদার্স অধিগ্রহণের মাধ্যমে প্যারামাউন্ট হলিউডের অন্যতম শক্তিশালী শক্তিতে পরিণত হতে যাচ্ছে। তাদের বর্তমান ঝুলিতে থাকা প্যারামাউন্ট পিকচার্স, সিবিএস, শোটাইম এবং নিকেলোডিয়নের পাশাপাশি এবার যুক্ত হবে সংবাদ নেটওয়ার্ক সিএনএন, টিভি নেটওয়ার্ক এইচবিও, টিবিএস, টিএনটি, টিসিএম এবং ডিসি স্টুডিওস ও নিউ লাইন সিনেমার মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলো।
এদিকে, সিবিএস নিউজ এবং তাদের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান '৬০ মিনিটস'-এর নিয়ন্ত্রণ প্যারামাউন্টের হাতে থাকায় তা নিয়ে কড়া সমালোচনা হচ্ছে। সমালোচকদের মতে, প্রতিষ্ঠানটির কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের অনুকূলে যাচ্ছে। এমনকি নতুন নেতৃত্ব আসার পর দীর্ঘদিনের পুরোনো কর্মী ও সুপরিচিত সাংবাদিকদের ছাঁটাই করার বিষয়টিকেও তারা ভালোভাবে দেখছেন না।
গত বছর ওয়ার্নার ব্রাদার্স নিজেদের বিক্রির ঘোষণা দিলে প্রাথমিকভাবে নেটফ্লিক্সের সঙ্গে ঋণসহ প্রায় ৮২ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি হয়েছিল। প্যারামাউন্ট তখন একটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রস্তাব দিলে ওয়ার্নার ব্রাদার্স প্রথমে তা প্রত্যাখ্যান করে।
তবে প্যারামাউন্ট পিছু না হটে তাদের প্রস্তাবিত অর্থের পরিমাণ বাড়াতে থাকে। একপর্যায়ে নেটফ্লিক্স জানায়, এই চুক্তিটি তাদের জন্য আর্থিকভাবে আর লাভজনক নয়।
