ইরান যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ
ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের দামের বৃদ্ধির কারণে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের পছন্দের মূল্যস্ফীতি সূচক বেড়ে ৩ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) প্রকাশিত নতুন তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে।
গত মার্চ মাসে ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয় (পিসিই) মূল্যসূচক ০.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও এপ্রিল মাসে তা ০.৪ শতাংশ বেড়েছে, যা কিছুটা ধীরগতির লক্ষণ। তবে বার্ষিক হিসাবে ৩.৮ শতাংশের এই মূল্যস্ফীতির হার ২০২৩ সালের মে মাসের পর থেকে সর্বোচ্চ। গ্যাস বা জ্বালানি এবং খাদ্য খরচ বাদ দিয়ে হিসাব করলে দেখা যায়, গত এপ্রিল পর্যন্ত এক বছরে 'মূল মূল্যস্ফীতি' ৩.৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ মাসিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সাধারণ গ্রাহকরাও এখন খরচের ক্ষেত্রে কিছুটা সাবধানী হয়েছেন। এপ্রিল মাসে ব্যয় বেড়েছে ০.৫ শতাংশ, যা এর আগের মাসের ১ শতাংশ বৃদ্ধির তুলনায় অনেকটাই কম। তবে মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিলে গ্রাহকদের প্রকৃত ব্যয় বেড়েছে মাত্র ০.১ শতাংশ।
'ফ্যাক্টসেট'-এর তথ্য অনুযায়ী, অর্থনীতিবিদরা ধারণা করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে মাসিক মূল্যস্ফীতি ০.৫ শতাংশ এবং বার্ষিক ৩.৯ শতাংশ হবে। পাশাপাশি ব্যয় বৃদ্ধির হার কমে ০.৩ শতাংশে নামবে বলে তারা আশা করেছিলেন। এপ্রিলে গ্যাসের দাম অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে; তবে প্রত্যাশা করা হয়েছিল যে ট্যাক্স রিফান্ডের কারণে অনেকের পকেট ভারী থাকলেও ক্রমবর্ধমান খরচের সাথে মার্কিন নাগরিকরা শেষ পর্যন্ত তাল মেলাতে পারবে না।
দেশটিতে গত মাসের ব্যয় বৃদ্ধির বড় অংশই ছিল গ্যাস এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাতে। জ্বালানি, ইউটিলিটি, আবাসন এবং খাদ্যের পেছনেই মোট ব্যয়ের প্রায় অর্ধেক খরচ হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গ্রাহকরা শৌখিন কেনাকাটা খুব একটা না কমালেও বিনোদন এবং রেস্তোরাঁয় খরচ বাড়িয়েছেন।
ইরানের সাথে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি করেছে। পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, সার এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল বাণিজ্যের প্রধান এই জলপথটি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। যুদ্ধের এই প্রভাব গ্যাসের দামকে তীব্রভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে এবং খাদ্যদ্রব্যের (বিশেষ করে তাজা শাকসবজি) দাম বাড়তে শুরু করেছে, যা অন্যান্য পণ্য ও সেবার দাম বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে৷
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আলাদা একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, প্রথম প্রান্তিকে মার্কিন অর্থনীতি পূর্বের ধারণার চেয়েও ধীরগতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই সময়ের মধ্যে গ্রাহক ব্যয় এবং ব্যবসায়িক বিনিয়োগ কমে যাওয়ার বিষয়টিকে জিডিপির সংশোধিত প্রাক্কলনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জানুয়ারি থেকে মার্চ- এই সময়ে জিডিপির বার্ষিক হার ১.৬ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছে, যা প্রাথমিকভাবে রিপোর্ট করা ২ শতাংশ থেকে কম হলেও পূর্ববর্তী প্রান্তিকের ০.৫ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি।
গ্রাহকদের সহনশীলতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে ব্যবসায়িক বিনিয়োগের কারণে প্রথম প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়েছে এবং সেই গতি সম্ভবত এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকেও বজায় থাকবে। দেশটির ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অফ আটলান্টার অনুমান অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪.৩ শতাংশের মতো শক্তিশালী অবস্থানে থাকতে পারে।
