ইরান কি সারা বিশ্বের ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দিতে পারবে?
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর অপারেশনাল কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন, হরমুজ প্রণালির নিচ দিয়ে যাওয়া সাবমেরিন ক্যাবল ব্যবহারের জন্য ফি আদায় করার পরিকল্পনা করছে ইরান। খবরটি অপ্রত্যাশিত না হলেও এটি পারস্য উপসাগরের ডিজিটাল অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
গত ১৮ মে থেকে 'পারস্য উপসাগরীয় প্রণালি কর্তৃপক্ষ' (পিজিএসএ) হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল কর্তৃক গঠিত এই নতুন সংস্থাটি তেহরান নির্ধারিত সামুদ্রিক নিয়মাবলি মেনে চলার বিষয়টি তদারকি করে। গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের শুরু করা নৌ-অবরোধের পাল্টা জবাব হিসেবে এই সংস্থাটি তৈরি করা হয়েছে।
তেহরান এখন পুরো হরমুজ প্রণালি এবং এর তলদেশের অবকাঠামোকে নিজেদের এখতিয়ারভুক্ত এলাকা এবং কৌশলগত নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে।
বর্তমান উত্তেজনার আগেও ইরানের সংবাদমাধ্যমে হরমুজ প্রণালির সাবমেরিন ক্যাবল নিয়ে আলোচনা দেখা গিয়েছিল। ২০১৯ সালের জুলাই মাসে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রথম বিষয়টি উঠে আসে। সে সময় একজন বিশেষজ্ঞ দাবি করেছিলেন, হরমুজ প্রণালির এই ক্যাবল কোনোভাবে বিচ্ছিন্ন বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিশ্বের ইন্টারনেট ট্রাফিকের প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত আক্রান্ত হতে পারে।
যদিও এই ৭০ শতাংশের হিসাবটি অতিরঞ্জিত মনে হয়—কারণ বৈশ্বিক ইন্টারনেটের বিকল্প রুট রয়েছে এবং ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে যোগাযোগের বড় অংশ লোহিত সাগর, মিশর এবং ভূমধ্যসাগরের মতো অন্যান্য পথের ওপর নির্ভরশীল—তবুও এই ধরনের বক্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
২০১৯ সালে আরব দেশগুলো এসব সতর্কবার্তাকে শুধুই কল্পনাপ্রসূত গল্প হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছিল। তবে তারা হয়তো ভুল ছিল।
২০১৯ সালে প্রকাশিত সেই বিশেষজ্ঞ মতামত শুধুমাত্র হরমুজ প্রণালির ক্যাবলগুলোর সম্ভাব্য দুর্বলতা এবং বড় ধরণের আঞ্চলিক উত্তেজনার ক্ষেত্রে এর আন্তর্জাতিক প্রভাবের কথা তুলে ধরেছিল। এটি ইরান সরকারের পক্ষ থেকে ক্যাবল কাটার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছিল না। তবে তখনই এটি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, ইরান হরমুজ প্রণালির সমুদ্রগর্ভস্থ ডিজিটাল অবকাঠামোকে একটি সম্ভাব্য কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করছে।
ইরান আসলেও হরমুজ প্রণালির ইন্টারনেট ক্যাবলগুলো কেটে দিতে প্রস্তুত কি না—এই প্রশ্নটিকে শুধুমাত্র একটি কারিগরি সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না; বরং এটি এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে কেন্দ্র করে তেহরানের চাপ সৃষ্টির এক বৃহত্তর কৌশলের অংশ।
ইরানের কাছে সমুদ্রগর্ভস্থ ডিজিটাল অবকাঠামো এখন তেল, ট্যাংকার চলাচল, বন্দর এবং জ্বালানি লজিস্টিকসের মতোই একটি নতুন হাতিয়ার। তবে অবকাঠামোর দুর্বলতাগুলো তুলে ধরা এবং বাস্তবে ক্যাবলগুলো ধ্বংস করার মধ্যে একটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।
২০২৬ সালে ইরান পুনরায় সমুদ্রগর্ভস্থ ইন্টারনেট ক্যাবলের বিষয়টি সামনে আনে এবং একে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। ২২ এপ্রিল ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদ সংস্থা তাসনিম পারস্য উপসাগরের ক্যাবল ও ক্লাউড অবকাঠামোর একটি মানচিত্র প্রকাশ করে। এটি মূলত একটি সতর্কবার্তা ছিল যে, তেহরান উপসাগরীয় দেশগুলোর ডিজিটাল অবকাঠামোকে যুদ্ধের আওতাভুক্ত এলাকা হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। প্রতিবেদনে জোর দিয়ে বলা হয়, ইরানের তুলনায় উপসাগরীয় রাজতন্ত্রের দেশগুলো সামুদ্রিক ইন্টারনেট রুটের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল।
২০২৬ সালের মে মাসে এই ধারণাটি একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপ নেয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো প্রচার শুরু করে, ইরান এখন থেকে হরমুজ প্রণালির নিচ দিয়ে যাওয়া ক্যাবলগুলো ব্যবহারের জন্য বিদেশি প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ফি আদায় করতে পারে। এটি শুধু অর্থের বিষয় ছিল না; এর মধ্যে নিয়ন্ত্রণমূলক তদারকি, অপারেটর ও বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইরানি নিয়মাবলি মেনে চলতে বাধ্য করা এবং ক্যাবল রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত পরিষেবার ওপর একাধিপত্য বিস্তারের চেষ্টাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইরানের এই ক্যাবল অবকাঠামোকে হুমকির মুখে ফেলার সক্ষমতা রয়েছে। হরমুজ প্রণালি বেশ অগভীর এবং এখানে জাহাজ চলাচল অত্যন্ত ঘন। ফলে ক্যাবলগুলো সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। সমুদ্রগর্ভস্থ ক্যাবলের বেশিরভাগ ক্ষতি অন্তর্ঘাত নয়, বরং জাহাজের নোঙর, মাছ ধরার সরঞ্জাম এবং নৌ-চলাচল সংক্রান্ত ভুলের কারণে ঘটে থাকে। তাই এই ক্যাবলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার একটি বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে। যখন সুনির্দিষ্ট সাইবার হামলার চেয়ে সরাসরি শারীরিক হস্তক্ষেপের বিষয়টি আসে, তখন এই ধরণের অবকাঠামোর দুর্বলতাগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
অর্থনৈতিকভাবে ইরান তাদের সামুদ্রিক সীমানার ভেতর দিয়ে যাওয়া সাবমেরিন ক্যাবলগুলো ব্যবহারের জন্য ফি দাবি করার অধিকারের কথা বলতে পারে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন অনুযায়ী, উপকূলীয় দেশগুলো তাদের তীরের কাছাকাছি এলাকায় এ ধরণের অবকাঠামো স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা রাখে। এই কারণেই তেহরান এই ক্যাবলগুলোকে শুধুই একটি আন্তর্জাতিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক হিসেবে নয়, বরং তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন সম্পদ হিসেবে দেখছে।
তবে এ ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া বা ইচ্ছাকৃতভাবে ক্যাবল কেটে দেওয়ার রাজনৈতিক ফলাফল ইরানের জন্য হবে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। এমন পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় দেশ এবং বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো শুধুমাত্র একটি সাধারণ পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে দেখবে না, বরং একে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অবকাঠামোতে হামলা হিসেবে গণ্য করবে।
তাছাড়া, এমন কোনো অভিযান গোপনে পরিচালনা করা ইরানের জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে। কারণ এই এলাকাটি বর্তমানে সার্বক্ষণিক সামরিক নজরদারিতে রয়েছে। অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের সামান্য প্রমাণও তেহরানের শত্রুদের কঠোর সামরিক জবাব দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ করে দেবে। এই কারণে হরমুজ প্রণালিতে সরাসরি ক্যাবল কাটার চেষ্টা হবে ইরানের জন্য এক চরম ঝুঁকিপূর্ণ চাল, যা বর্তমান সংঘাতকে এক নতুন ও ভয়াবহ মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে।
হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে সাতটি প্রধান যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রয়েছে, যা প্রায় ১৭টি আলাদা ক্যাবল লাইনে বিভক্ত। এর মধ্যে কয়েকটি ক্যাবল মূলত আঞ্চলিক প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়। যেমন— 'ফ্যালকন' সিস্টেম ভারতকে ওমান, ইরান, কাতার, সৌদি আরব এবং মিশরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
অন্যদিকে 'উরিডু গালফ পাথওয়ে' পারস্য উপসাগরের ভেতরের ডিজিটাল ট্রফিকের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। তবে অন্যান্য ক্যাবল সিস্টেমগুলো কৌশলগতভাবে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে রয়েছে 'সি-মি-উই ৫' যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এছাড়া 'টিজিএন-গালফ' উপসাগরীয় দেশগুলোর অবকাঠামোকে ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত করে।
সামরিক শক্তি ছাড়া এই ক্যাবলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এই ক্যাবল অবকাঠামো অত্যন্ত বিস্তৃত এবং সমুদ্রের তলদেশে উন্মুক্ত অবস্থায় থাকায় এগুলো সহজেই আক্রমণের শিকার হতে পারে। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোর পরিস্থিতি বলছে, কোনো পক্ষই তাদের সামরিক জাহাজগুলোকে বড় ধরণের ঝুঁকিতে ফেলতে আগ্রহী নয়।
ক্ষতিগ্রস্ত ক্যাবল মেরামত করাও আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ক্যাবল সচল করতে বিশেষ ধরণের জাহাজ ওই এলাকায় পাঠাতে হয় এবং তাদের কাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয়। সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এটি দ্রুত একটি প্রকৌশলগত সমস্যা থেকে রাজনৈতিক ও সামরিক সমস্যায় পরিণত হয়।
তেহরানের সরাসরি বা অন্তত পরোক্ষ সম্মতি ছাড়া প্রণালিতে মেরামতের কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে। এই পরিস্থিতি ক্যাবলের ক্ষয়ক্ষতির হুমকিকে ইরানের জন্য ক্ষমতার এক বড় হাতিয়ারে পরিণত করেছে। কারণ ক্যাবল যোগাযোগের বিঘ্ন ঘটানোই নয়, বরং মেরামতের প্রক্রিয়াটি জটিল করে তোলার ক্ষমতাও এখন ইরানের হাতে।
হরমুজ প্রণালির সাবমেরিন ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু ইন্টারনেটের গতিই কমবে না, বরং বিশ্বের বড় বড় আইটি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে এই অঞ্চলের সংযোগও বিচ্ছিন্ন হতে পারে। ক্লাউড সার্ভিস, ডাটা সেন্টার, করপোরেট প্ল্যাটফর্ম এবং আর্থিক ব্যবস্থার একটি বড় অংশ এই আন্তর্জাতিক তথ্য আদান-প্রদান রুটের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এই ডিজিটাল অবকাঠামোয় যেকোনো বড় ধরণের আঘাত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বিপর্যয়কর হতে পারে।
দক্ষিণ ইউরোপে আমাজন এবং মাইক্রোসফটের মতো বড় ক্লাউড সার্ভিস প্রোভাইডারদের বিশাল ডাটা সেন্টার রয়েছে। যদি সংঘাতের কারণে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর ডাটা ট্রাফিক হঠাৎ করে বিকল্প পথে পাঠাতে হয়, তবে পুরো নেটওয়ার্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে। এর ফলে ব্যবহারকারীরা ধীরগতি, অস্থিতিশীল সংযোগ এবং ক্লাউড প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রবেশের ক্ষেত্রে বড় ধরণের বাধার সম্মুখীন হতে পারেন।
সুনির্দিষ্টভাবে কোন পরিষেবাটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তা আগে থেকে বলা প্রায় অসম্ভব। কারণ স্থলপথের যোগাযোগ লাইন, বিকল্প রুট এবং ডাটা রিডিস্ট্রিবিউশন বা ট্রাফিক পরিবর্তনের নকশাগুলো সাধারণত সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকে না। তাই এর প্রভাব কতটা ভয়াবহ হবে তা নির্ভর করবে ঠিক কতগুলো ক্যাবল কাটা পড়েছে এবং ইন্টারনেট অপারেটররা কত দ্রুত বিকল্প পথে ডাটা পাঠাতে পারছে তার ওপর।
সাধারণত একটি ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে ইন্টারনেটে বড় ধরণের ধস নামে না; কারণ ডাটা তখন বিকল্প রুটে পাঠানো যায়। তবে যদি একযোগে একাধিক ক্যাবল অকেজো হয়ে পড়ে, তবে ইন্টারনেটের মান এবং গতি মারাত্মকভাবে কমে যাবে। উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এটি হবে একটি বিপর্যয়কর পরিস্থিতি। এর ফলে— ব্যাংকিং লেনদেন ও আর্থিক ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়বে, সরকারি ডিজিটাল সেবা এবং ই-গভর্নেন্স প্ল্যাটফর্মগুলো অকেজো হয়ে যাবে এবং করপোরেট যোগাযোগ, মেসেজিং অ্যাপ ও লজিস্টিক সিস্টেমগুলো বড় ধরণের বাধার মুখে পড়বে।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে টেলিগ্রামের মতো জনপ্রিয় অ্যাপগুলো পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে নির্দিষ্ট কিছু আরব দেশে এই পরিষেবাগুলো ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়বে। মেসেজ আদান-প্রদানে বিলম্ব হওয়া থেকে শুরু করে সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, বাস্তবে ক্যাবল কাটার চেয়ে এমন একটি পরিস্থিতির 'হুমকি' দেওয়াকেই ইরান বড় কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে। তেহরান শুধু এই সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করলেই তা আন্তর্জাতিক বাজারের আচরণ বদলে দিতে পারে। এর ফলে— অপারেটররা বাড়তি ঝুঁকি ও বিমা খরচের হিসাব করবে, মেরামতকারী জাহাজগুলো সংঘাতপূর্ণ এলাকায় প্রবেশে দ্বিধাবোধ করবে এবং বিনিয়োগকারীরা এই অঞ্চলের ডিজিটাল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে সংশয় প্রকাশ করবে।
সাবমেরিন ক্যাবল কাটা পড়লে বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বা সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হবে না ঠিকই, কারণ ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে যোগাযোগের আরও অনেক পথ রয়েছে। কিন্তু উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এর ফলাফল হবে অত্যন্ত গুরুতর। ইরানের জন্য এই ক্যাবলগুলো এখন 'কৌশলগত জবরদস্তির' এক মোক্ষম মাধ্যম। তারা বিশ্বকে দেখাতে চায়, নৌ-অবরোধ বা সামরিক চাপের জবাব শুধুমাত্র তেলের বাজারে নয়, ডিজিটাল জগতেও দেওয়া সম্ভব। তবে সরাসরি ক্যাবল কেটে দেওয়া হবে তেহরানের শেষ অস্ত্র, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং খুব একটা যৌক্তিক পদক্ষেপ হবে না।
