কিয়েভে বড় হামলার হুঁশিয়ারি রাশিয়ার, বিদেশি নাগরিকদের শহর ছাড়ার নির্দেশ
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের প্রতিরক্ষা শিল্প স্থাপনাগুলোতে 'ধারাবাহিক ও পদ্ধতিগত হামলা' চালানোর পরিকল্পনা করছে রাশিয়া। একই সঙ্গে বিদেশি নাগরিকদের দ্রুত শহরটি ছেড়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত সপ্তাহে অধিকৃত লুহানস্ক অঞ্চলের স্টারোবিলস্কে একটি ছাত্রাবাসে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে এই হামলা চালানো হবে। ওই হামলায় অন্তত ১৮ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন ড্রোন যুদ্ধে তাদের সক্ষমতা অনেক বাড়িয়েছে এবং রাশিয়ার বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু, বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামোতে সফলভাবে হামলা চালিয়েছে।
চার বছর আগে প্রতিবেশী দেশটিতে পূর্ণ মাত্রায় আক্রমণ শুরু করা মস্কো এই হামলাগুলোকে 'সন্ত্রাসবাদ' হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং বড় ধরণের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে এর জবাব দিয়েছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, স্টারোবিলস্কে চালানো হামলা ছিল তাদের ধৈর্যের 'শেষ সীমা'। এর প্রতিবাদে রাশিয়া এখন কিয়েভে সুশৃঙ্খলভাবে ধারাবাহিক হামলা শুরু করবে। এই হামলার মূল লক্ষ্য হবে সেই সব নির্দিষ্ট স্থান যেখানে ড্রোন নকশা, তৈরি, প্রোগ্রামিং এবং ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হয়।
ড্রোন তৈরির এসব স্থাপনা পুরো কিয়েভ জুড়ে ছড়িয়ে আছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'কূটনৈতিক মিশন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মীসহ সকল বিদেশি নাগরিককে যত দ্রুত সম্ভব শহর ত্যাগ করার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে।' এছাড়া কিয়েভের বাসিন্দাদেরও সামরিক ও প্রশাসনিক অবকাঠামোগুলো থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন এবং কিয়েভ থেকে মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
লাভরভ রুবিওকে টেলিফোনে জানিয়েছেন, রাশিয়ার ভূখণ্ডে সাধারণ মানুষ ও বেসামরিক স্থাপনায় কিয়েভ প্রশাসনের চলমান 'সন্ত্রাসী' হামলার জবাবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গত শুক্রবার স্টারোবিলস্কে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ৪২ জন আহত হয়েছে। এটি গত কয়েক মাসের মধ্যে রাশিয়া চালানো অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে একে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম অবমাননা এবং কিয়েভ প্রশাসনের 'নাৎসি ও সন্ত্রাসী' চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। রাশিয়ার অভিযোগ, ইউক্রেন পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক মানুষ ও শিশুদের ওপর হামলা চালাচ্ছে।
ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী অবশ্য বেসামরিক স্থাপনায় হামলার দায় অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, তারা একটি এলিট ড্রোন কমান্ড ইউনিটে আঘাত হেনেছে।
রাশিয়ার এই হুমকির প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা রাশিয়ার এমন 'ব্ল্যাকমেইল'-এর কাছে নতি স্বীকার না করেন।
এদিকে, সোমবার ৭০ জনেরও বেশি বিদেশি কূটনীতিক কিয়েভের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন। ফরাসি রাষ্ট্রদূত গায়েল ভেসিয়ের লক্ষ্য করেছেন, কিয়েভের সাধারণ মানুষ সোমবার কাজে ফিরেছেন এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেছেন, এটি ইউক্রেনের মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তির প্রমাণ এবং বিশ্ববাসীর উচিত তাদের এই মানসিকতাকে সমর্থন করা।
স্টারোবিলস্কে হামলার পর থেকে রাশিয়া কিয়েভ এবং এর আশপাশের এলাকায় ইতোমধ্যে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী কিয়েভ ও এর সংলগ্ন অঞ্চলে রাতভর চলা রুশ হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং ৬০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
রাশিয়া রবিবার নিশ্চিত করেছে, তারা এই অভিযানে 'ওরেশনিক' হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। মস্কোর চার বছরের দীর্ঘ এই যুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম এই অত্যাধুনিক অস্ত্রটি এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো ব্যবহার করা হলো।
অন্যদিকে সোমবার ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশটির পূর্বদিকের খারকিভ এবং দোনেৎস্ক অঞ্চলেও রুশ হামলায় বেশ কয়েকজন প্রাণ হারিয়েছেন।
