যুদ্ধে নিহত সেনাদের বিধবাদের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আইভিএফ সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা রাশিয়ার
ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত রুশ সেনাদের বিধবাদের রাষ্ট্রীয় খরচে প্রজনন চিকিৎসার (ফার্টিলিটি ট্রিটমেন্ট) সুযোগ দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে ক্রেমলিন।
নতুন আইনের আওতায়, স্বামীর মৃত্যুর পরবর্তী পাঁচ বছর পর্যন্ত—এবং এ সময়ের মধ্যে পুনরায় বিয়ে না করলে—যুদ্ধে নিহত সেনাদের বিধবারা বিনামূল্যে ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) ও কৃত্রিম প্রজনন (আর্টিফিশিয়াল ইনসেমিনেশন) সুবিধা পাবেন।
তবে এজন্য তাদের নোটারি দ্বারা সত্যায়িত এমন একটি দলিল জমা দিতে হবে, যাতে প্রমাণ থাকবে যে, জীবদ্দশায় তাদের স্বামী মৃত্যুর পর তার শুক্রাণু সংরক্ষণ ও ব্যবহারের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছিলেন।
বিলটির সঙ্গে সংযুক্ত ব্যাখ্যামূলক নোটে বলা হয়েছে, 'অনেক পুরুষ খুব অল্প বয়সেই মাতৃভূমি রক্ষার জন্য যুদ্ধে যান এবং তাদের অনেকেরই বাবা হওয়ার সুযোগ হয় না।'
এতে আরও বলা হয়, 'স্বল্প সময়ের ছুটিতেও তা সবসময় সম্ভব হয় না। যদি কোনো স্বামী যুদ্ধে নিহত হন, তাহলে তার স্ত্রী প্রিয় মানুষটির সন্তান ধারণ এবং মা হওয়ার সুযোগ হারান।'
দেশটিতে রেকর্ড পরিমাণ নিম্ন জন্মহার, যুদ্ধে বিপুল প্রাণহানি এবং কয়েক লাখ তরুণ পেশাজীবীর দেশত্যাগের প্রেক্ষাপটে জনসংখ্যা ভয়াবহ হারে কমে যাওয়ার বিষয়ে ইতোমধ্যে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ক্রেমলিনের কর্মকর্তারা।
বর্তমানে রাশিয়ার নারীরা গড়ে ১ দশমিক ৪-এরও কম সন্তানের জন্ম দিচ্ছেন। অথচ জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় প্রতিস্থাপন হার ২ দশমিক ১। এক দশক আগের তুলনায় বর্তমান জন্মহার প্রায় ২০ শতাংশ কম।
গত বছর রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরিসংখ্যান সংস্থা রসস্ট্যাট জন্ম ও মৃত্যুর মাসিক তথ্য প্রকাশ বন্ধ করে দেয়। ধারণা করা হয়, রুশ সামরিক বাহিনীতে বিপুল জনবল ক্ষতির তথ্য আড়াল করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে ক্রেমলিনের কাছে 'বিদেশি এজেন্ট' হিসেবে চিহ্নিত জনমিতি বিশেষজ্ঞ আলেক্সেই রাকশা বলেন, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে জন্ম হয়েছে মাত্র ২ লাখ ৭২ হাজার শিশুর। প্রায় দুই শতাব্দীর মধ্যে কোনো প্রান্তিকে এটিই সর্বনিম্ন জন্মসংখ্যা। ধারণা করা হচ্ছে, বছরে জন্মের তুলনায় মৃত্যু প্রায় ৬ লাখ বেশি হচ্ছে।
এই সংকট মোকাবিলায় ভ্লাদিমির পুতিনের সরকার মায়েদের জন্য আর্থিক প্রণোদনা চালু করেছে, গর্ভপাতের ওপর বিভিন্ন অঞ্চলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে এবং রক্ষণশীল মূল্যবোধে ফিরে যাওয়ার প্রচার চালাচ্ছে।
এর আগে পুতিন পরিবারগুলোকে ৮ থেকে ১০টি সন্তান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ২০২৩ সালে তিনি বলেছিলেন, 'অনেক সন্তান এবং বড় পরিবার গড়ে তোলা অবশ্যই সমাজের স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হতে হবে।'
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রুশ সেনাদের বিধবাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের রাষ্ট্রীয় সুবিধাও বাড়িয়েছে সরকার। গত এপ্রিলে পুতিন একটি আইনে স্বাক্ষর করেন, যার ফলে নিহত সেনাদের জীবিত স্বামী বা স্ত্রী রাশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ না নিয়েই বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন।
অবশ্য মৃত্যুর পর সন্তান ধারণের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু মস্কোই ব্যতিক্রম নয়। ইসরায়েলের আদালতও যুদ্ধে নিহত সেনাদের মৃত্যুর পর তাদের শুক্রাণু সংগ্রহের অনুমতি দিয়েছে। ৭ অক্টোবরের হামলার পর এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫০টি পরিবার তাদের স্বজনদের শুক্রাণু সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করেছে।
