ইসরায়েলকে সহায়তা দেওয়ার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ডেমোক্র্যাট ভোটার: জরিপ
গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার ও নিষ্ঠুর যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আর এই ক্ষোভের জের ধরে গত কয়েক বছরে মার্কিন মিত্র হিসেবে ইসরায়েলের প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন নাটকীয়ভাবে কমে গেছে।
সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমস/সিয়েনা-র একটি নতুন জরিপে উঠে এসেছে চমকপ্রদ এক তথ্য। ডেমোক্রেটিক পার্টির সাথে যুক্ত মার্কিন ভোটারদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই এখন ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
তিন বছর আগেও এই বিরোধিতার হার ছিল মাত্র ৪৫ শতাংশ, যা প্রমাণ করে মার্কিন ভোটারদের কাছে ইসরায়েল এখন কতটা অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
বুধবার (২১ মে) প্রকাশিত এই জরিপে আরও দেখা গেছে যে, ডেমোক্রেটিক ভোটারদের প্রায় অর্ধেক মনে করেন তাদের দল ইসরায়েলকে একটু বেশিই সমর্থন করে ফেলছে। সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই ভোটারদের ৯৫ শতাংশই ইরান-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের ঘোর বিরোধী।
গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে আগ্রাসী সামরিক অভিযানের প্রতি আমেরিকার মানুষের ক্ষোভ কিভাবে বাড়ছে, এই জরিপ মূলত তারই সবশেষ প্রতিফলন।
ঐতিহাসিকভাবেই ইসরায়েল সব সময় যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন পেয়ে এসেছে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে, বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট এবং প্রগতিশীল অংশের কাছে ইসরায়েলের জনপ্রিয়তা যেন বালির বাঁধের মতো ধসে পড়ছে।
জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, ৬০ শতাংশ ডেমোক্র্যাট ভোটার বলেছেন যে তারা ইসরায়েলের চেয়ে ফিলিস্তিনিদের প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল, যেখানে মাত্র ১৫ শতাংশ ইসরায়েলের পক্ষে তাদের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন।
আমেরিকায় এখন ইসরায়েলকে যারা সমর্থন দিচ্ছেন, তাদের বেশিরভাগই বয়সে প্রবীণ।
গত এপ্রিলে পিউ রিসার্চ সেন্টারের প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, ১৮ থেকে ৪৯ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাটদের ৮৪ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের ৫৭ শতাংশই ইসরায়েলের ব্যাপারে নেতিবাচক ধারণা রাখেন। অন্যদিকে, ৫০ বা তার চেয়ে বেশি বয়সী ভোটারদের ক্ষেত্রে এই নেতিবাচক হার ছিল যথাক্রমে ৭৬ এবং ২৪ শতাংশ।
কিন্তু জনসাধারণের এই বড় পরিবর্তনের কোনো আঁচ ডেমোক্রেটিক দলের ওপর মহল বা নীতিনির্ধারকদের গায়ে লাগেনি। হাউজ লিডার হেকিম জেফরিজ এবং সেনেট লিডার চাক শুমারের মতো নেতারা এখনো ইসরায়েলকে জোরালো সমর্থন দিয়েই যাচ্ছেন।
এদিকে, বর্তমান রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবেই তাঁর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের চাওয়া পূরণ করে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে একসঙ্গে যুদ্ধেও নামেন।
মার্কিন রাজনীতিতে ট্রাম্পের 'মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন' আদর্শে বিশ্বাসীদের একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও ইসরায়েলকে এমন নিঃশর্ত সমর্থন দেওয়ার কড়া সমালোচনা করেছে। কিন্তু তারপরেও পিউ জরিপ বলছে যে, ৭৩ শতাংশ রিপাবলিকান বিশ্বাস করেন—ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সঠিক সিদ্ধান্তই নেবেন।
