যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বন্ধে চূড়ান্ত প্রচেষ্টা হিসেবে তেহরানে পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ এবং একটি বৃহত্তর সমঝোতার লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করতে শুক্রবার তেহরান সফরে গেছেন পাকিস্তানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। পাকিস্তানের একটি নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'অ্যাক্সিওস' এই তথ্য জানিয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটি জানায়, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছেন আসিম মুনির। গত কয়েক দিন ধরে আলোচনার পর তার এই তেহরান সফর মূলত একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে একটি 'চূড়ান্ত প্রচেষ্টা' বলে মনে করা হচ্ছে।
মধ্যস্থতাকারীরা বর্তমানে একটি 'লেটার অফ ইনটেন্ট' বা সম্মতিপত্র চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছেন। এই খসড়া প্রস্তাবে যুদ্ধ শেষ করার চুক্তির পাশাপাশি আরও ৩০ দিন মেয়াদী একটি আলোচনার রূপরেখা রয়েছে, যেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের পাশাপাশি কাতার, সৌদি আরব, মিশর ও তুরস্কও সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছে।
তবে তেহরান এই মুহূর্তে এমন কোনো নথিতে স্বাক্ষর করতে রাজি হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ মনে করছেন যে বর্তমানে দরকষাকষির ক্ষেত্রে তারা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেন, "কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। আমি বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করতে চাই না, তবে সামান্য কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে এবং এটি ভালো দিক।"
তবে ইরানের বিষয়ে ওয়াশিংটনের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মৌলিক দাবি হলো—ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র হাতে পাবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যেকোনো চুক্তিতে অবশ্যই ইরানের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ এবং ভবিষ্যতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নীতির বিষয়টি সুরাহা হতে হবে।
এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে ইরানের 'টোল' বা মাশুল আদায়ের পরিকল্পনা নিয়েও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রুবিও। তিনি বলেন, ইরানকে হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের মাশুল ব্যবস্থা চালু করার অনুমতি দেওয়া হবে না। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ইরান ফের ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে মাশুল আদায়ের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল।
