ইরানের নতুন প্রস্তাব ‘যথেষ্ট নয়’, আবার যুদ্ধ শুরু হতে পারে: মার্কিন কর্মকর্তা
যুদ্ধ অবসানে ইরানের দেওয়া একটি নতুন প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণ করেনি। হোয়াইট হাউসের ধারণা, এই প্রস্তাবে তেমন কোনো বড় উন্নতি হয়নি এবং একটি চূড়ান্ত চুক্তির জন্য এটি একেবারেই অপর্যাপ্ত। এক শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা এবং এই বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে এ কথা জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করতে ইচ্ছুক। কিন্তু ট্রাম্পের একাধিক দাবি ইরান প্রত্যাখ্যান করায় এবং নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে কোনো অর্থবহ ছাড় দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় যুদ্ধ শুরু করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, এ নিয়ে পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ আলোচনা করার জন্য মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের 'সিচুয়েশন রুমে' শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসতে পারেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
এক শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, 'ইরান যদি নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রকে বোমার মাধ্যমেই এই আলোচনা এগিয়ে নিতে হবে।'
রোববার ইরানের নতুন প্রস্তাব হাতে আসার আগে অ্যাক্সিওসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, 'সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। ইরান যদি নমনীয়তা না দেখায়, তবে তারা আগের চেয়ে অনেক কঠিন আঘাতের শিকার হবে।'
কী আছে ইরানের নতুন প্রস্তাবে?
রোববার রাতে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের পাল্টা প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এসে পৌঁছায়। তবে শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তার মতে, এই প্রস্তাবে আগেরটির তুলনায় মাত্র 'নামমাত্র পরিবর্তন' আনা হয়েছে।
নতুন প্রস্তাবে ইরান তাদের পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির প্রতিশ্রুতির কথা কিছুটা বিস্তারিতভাবে জানিয়েছে। তবে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত করার বিষয়ে বা ইতিমধ্যে মজুত করা উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করার ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এমন খবর প্রচার করা হচ্ছিল যে, আলোচনা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেলের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে সম্মত হয়েছে। তবে ওই মার্কিন কর্মকর্তা পরিষ্কার করে জানিয়েছেন যে, ইরান কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ না নিলে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞাই "বিনামূল্যে" তুলে নেওয়া হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি
মার্কিন শীর্ষ ওই কর্মকর্তা বলেন, 'আমরা আসলেই খুব একটা এগোতে পারছি না। আমরা আজ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছি। এখন সঠিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানানোর পুরো চাপ ইরানের ওপর।'
তিনি আরও বলেন, 'এখন ইরানিদের কিছু ছাড় দেওয়া উচিত। তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে একটি বাস্তব এবং খুঁটিনাটি আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। যদি তা না হয়, তবে আমরা বোমার মাধ্যমে কথা বলব, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক হবে।'
কী ঘটছে পর্দার আড়ালে?
মার্কিন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চুক্তির মূল শর্তগুলো নিয়ে সরাসরি কোনো আলোচনা করছে না। এর বদলে তারা পরোক্ষভাবে এই আলোচনা কোন রূপ নেবে, তা নিয়ে ঐক্যমত তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
মার্কিন ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, সামান্য হলেও ইরান যে পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছে, তা থেকেই বোঝা যায় যে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরও সামরিক হামলার ভয়ে চিন্তিত।
অন্যদিকে, ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে, ট্রাম্প নিজেই একটি চুক্তির জন্য বেপরোয়া হয়ে আছেন এবং পরিস্থিতি ইরানেরই পক্ষে।
