২০০৯ সালের বিমান দুর্ঘটনা: অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের দায়ে এয়ার ফ্রান্স ও এয়ারবাসকে দোষী সাব্যস্ত
২০০৯ সালে একটি বিমান দুর্ঘটনায় ২২৮ জন মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় এয়ার ফ্রান্স এবং এয়ারবাসকে অনিচ্ছাকৃত হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
প্যারিসের আপিল আদালত রিও ডি জেনিরো এবং প্যারিসের মধ্যে চলাচলকারী ফ্লাইট এফ৪৪৭ আটলান্টিক মহাসাগরে বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় এয়ারলাইন্স এবং বিমান প্রস্তুতকারক সংস্থাটিকে অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে। যাত্রীবাহী জেটটি ঝড়ের কবলে পড়ে মাঝ আকাশে অচল হয়ে যায় এবং সমুদ্রে আছড়ে পড়ে, যার ফলে বিমানে থাকা সকল আরোহীর মৃত্যু হয়।
এর আগে ২০২৩ সালের এপ্রিলে একটি আদালত কোম্পানিগুলোকে খালাস দিয়েছিল, কিন্তু এই আপিলের পর তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হলো।
২০০৯ সালের ১ জুন ঝড়ের সময় এয়ারবাস এ৩৩০ মডেলের বিমানটি রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিখোঁজ হয়। দীর্ঘ তল্লাশির পর সমুদ্রতলের ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে এর ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। ২০১১ সালে কয়েক মাস গভীর সমুদ্রে তল্লাশির পর ব্ল্যাক বক্সটি উদ্ধার করা হয়।
৩৮ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে বিমানটি সমুদ্রে আছড়ে পড়লে বিমানে থাকা ১২ জন ক্রু এবং ২১৬ জন যাত্রীসহ মোট ২২৮ জন নিহত হন, যা ফরাসি বিমান চালনার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা হিসেবে পরিচিত। নিহতদের মধ্যে প্রধানত ফরাসি, ব্রাজিলীয় এবং জার্মান নাগরিকরা ছিলেন। বৃহস্পতিবার রায়ের সময় তাদের স্বজনরা আদালতে সমবেত হয়েছিলেন।
আদালত কোম্পানি দুটিকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ২৫ হাজার ইউরো করে জরিমানা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কেউ কেউ এই পরিমাণটিকে কেবল 'প্রতীকী জরিমানা' হিসেবে অভিহিত করে সমালোচনা করেছেন। তবে এই রায় কোম্পানিগুলোর খ্যাতির জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
গত নভেম্বরে চূড়ান্ত যুক্তিতর্কের সময় ডেপুটি প্রসিকিউটররা বলেছিলেন যে, কোম্পানিগুলোর আচরণ ছিল 'অগ্রহণযোগ্য'। তারা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে 'বাজে কথা বলা এবং কল্পনাপ্রসূত যুক্তি দেখানোর' অভিযোগ আনেন।
এয়ারবাস এবং এয়ার ফ্রান্স উভয়ই বারবার তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং ফরাসি আইনজীবীরা মনে করছেন যে তারা সম্ভবত আরও উচ্চতর আদালতে আপিল করবে। এ
বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বিবিসির পক্ষ থেকে এয়ারবাস এবং এয়ার ফ্রান্সের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে।
দক্ষিণ আমেরিকার উপকূল থেকে ৭০০ মাইল দূরে আটলান্টিক মহাসাগরের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ায় উদ্ধার অভিযান ছিল অত্যন্ত জটিল। প্রাথমিক তল্লাশির সময় ফরাসি সরকার দুর্ঘটনা তদন্তের দায়িত্বে ছিল এবং ব্রাজিলীয় বাহিনী মরদেহ উদ্ধারের দায়িত্ব নিয়েছিল।
তল্লাশির প্রথম ২৬ দিনে ৫১টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে অনেকের শরীর তখনও সিটবেল্ট দিয়ে সিটের সাথে আটকানো ছিল।
২০১৯ সালে বিবিসি নিউজ ব্রাজিলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিহত একজনের পরিবারের সদস্য জানিয়েছিলেন যে, দুর্ঘটনার দুই বছর পর তিনি তার ছেলের অবশিষ্টাংশ সমাহিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তার ছেলে ৪০ বছর বয়সী প্রকৌশলী নেলসন মারিনহো ফিলহো রিও ডি জেনিরোর গ্যালিও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটটি ধরতে প্রায় ব্যর্থই হয়েছিলেন। এয়ার ফ্রান্সের কর্মীদের মতে, তিনিই ছিলেন বিমানে ওঠা শেষ যাত্রী।
