তেলের দামে অস্থিরতা ও স্বর্ণের চাহিদায় ভারতীয় রুপির রেকর্ড দরপতন
শান্তি প্রস্তাবের যে জবাব ইরান দিয়েছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাতে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম লাফিয়ে বেড়েছে। এর জেরে সোমবার ভারতীয় রুপির মানে বড় ধরণের ধস নেমেছে এবং দিনের লেনদেন শেষে মুদ্রাটি ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। সোমবার ডলারের বিপরীতে রুপির মান প্রায় ০.৯ শতাংশ কমে ৯৫.৩১-এ দাঁড়িয়েছে, যা গত ২৭ মার্চের পর এক দিনে মুদ্রাটির সর্বোচ্চ দরপতন।
বিশ্বব্যাপী তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) প্রবাহের প্রধান পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে থাকায়— ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২.৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৩.৮ ডলারে পৌঁছেছে।
এই অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে ভারতের পুঁজিবাজারেও। দেশটির প্রধান শেয়ার বাজারসূচক- এনএসইআই ১.৫ শতাংশ কমেছে এবং সরকারি বন্ডের দরেও পতন লক্ষ্য করা গেছে। অন্যদিকে, ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের আয়ের হার ৬ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি বেড়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে জ্বালানি সাশ্রয়, আমদানি কমানো এবং স্বর্ণ কেনা ও বিদেশ ভ্রমণ সীমিত করার মতো জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার মজুদের ওপর বড় ধরণের চাপ সৃষ্টি করায় তিনি এমন আহ্বান জানান।
স্বর্ণ কেনা কমানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য স্বর্ণ আমদানিকারকদের মধ্যে এক ধরণের আতঙ্ক তৈরি করে। ফলে সোমবার তারা ব্যাপক হারে ডলার কিনতে শুরু করেন বলে একটি বড় বেসরকারি ব্যাংকের ট্রেডার জানিয়েছেন। ওই কর্মকর্তার মতে, ডলারের এই চাহিদা ছিল স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। যদিও অতীতে চাহিদা নিয়ন্ত্রণে স্বর্ণ আমদানিতে কর বাড়ানোর নজির রয়েছে, তবে সোমবার সরকারি কর্মকর্তারা এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
তেলের দামের ঝুঁকি
ভারতের মতো জ্বালানি আমদানিকারক দেশের জন্য তেলের উচ্চমূল্য একটি বড় ঝুঁকি। এটি দেশটির চলতি হিসাবের ঘাটতি বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর করার পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতিকেও উসকে দিতে পারে।
শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক ব্যাংক এএনজে-এর বিশ্লেষকরা এক নোটে জানিয়েছেন, "কাঠামোগতভাবে দুর্বল বাহ্যিক অর্থায়ন পরিস্থিতির কারণে চলতি হিসাবের ঘাটতি সামান্য বাড়লেও— তা ভারতীয় রুপি ও দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর অব্যাহত চাপ সৃষ্টি করবে।"
ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ মে পর্যন্ত দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৬৯০.৬৯ বিলিয়ন ডলার। যদিও এটি কয়েক মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত, তবে গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে থাকা রেকর্ড ৭২৮ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
অন্যদিকে বৈশ্বিক বাজারে ডলারের সূচকে বিশেষ পরিবর্তন হয়নি এবং এটি ৯৮ পয়েন্টের কাছাকাছি অবস্থান করছে। একই সাথে মার্কিন শেয়ার বাজার ওয়াল স্ট্রিটে লেনদেনের একটি স্থিতিশীল সূচনার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
