ট্রাম্পের লাগামহীন মন্তব্যে ভেস্তে যাচ্ছে ইরান আলোচনা, জানালেন তারই সহকারীরা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে জনসমক্ষে লাগামহীন মন্তব্য করে ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা ভেস্তে দিচ্ছেন বলে সিএনএনকে জানিয়েছেন তার কয়েকজন উপদেষ্টা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, শুক্রবার এই আলোচনা যখন একটি বড় সফলতার দ্বারপ্রান্তে ছিল, ঠিক তখনই ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে দীর্ঘ ফোনালাপে এ নিয়ে নানা মন্তব্য করতে শুরু করেন।
ওই সাক্ষাৎকারগুলোতে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরান নিজেদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পুরো মজুত ছেড়ে দেওয়া থেকে শুরু করে আলোচনার প্রতিটি বিতর্কিত পয়েন্টেই রাজি হয়েছে। তবে ইরানি কর্মকর্তারা দ্রুত ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন।
মার্কিন কর্মকর্তারাও সিএনএন-এর কাছে স্বীকার করেছেন যে, আলোচনাটি যখন একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে ছিল, ঠিক তখনই প্রেসিডেন্ট এসব বিষয়ে কথা বলা শুরু করেন। আর তার এসব মন্তব্য ওয়াশিংটনের প্রতি ইরানের গভীর অবিশ্বাস দূর করার ক্ষেত্রে কোনো কাজেই আসেনি।
এই প্রতিবেদনের জবাবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, 'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অসাধারণ আলোচনার দক্ষতার কারণেই ওবামা প্রশাসনের করা সেই জঘন্য চুক্তির বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানের সঙ্গে একটি ভালো চুক্তির সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। যারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দীর্ঘমেয়াদী এই কৌশল বুঝতে অক্ষম, তারা হয় বোকা, নয়তো ইচ্ছাকৃতভাবেই অবুঝ সাজছেন।'
তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প সাংবাদিকদের সঙ্গে ক্রমাগত ফোনে কথা বলে এবং প্রতিদিন 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ ডজনখানেক পোস্ট করে এই আলোচনার আরও ক্ষতি করেছেন।
রোববার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, নিরাপত্তার কারণে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য ইরান আলোচনার দ্বিতীয় দফায় অংশ নেবেন না। তবে হোয়াইট হাউস পরে স্পষ্ট করে জানায় যে, ভ্যান্সই পাকিস্তানে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন।
এরপর সোমবার এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ভ্যান্স এরই মধ্যে ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। অথচ তিনি তখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনেই ছিলেন এবং মঙ্গলবার পর্যন্ত তাঁর যাওয়ার কোনো কথাই ছিল না।
সোমবার দিনের শেষভাগে ট্রাম্প আবার দাবি করেন যে, আজকের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়ে যাবে। অথচ মঙ্গলবার ছাড়া এই আলোচনা শুরু হওয়ার কোনো পূর্বনির্ধারিত সূচি ছিল না এবং তেহরান এতে অংশ নেবে কি না, তা-ও নিশ্চিত করেনি।
সবশেষে ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান যে, ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বুধবার রাতে শেষ হচ্ছে। অথচ এটি তার নিজের বেঁধে দেওয়া মূল সময়সীমার এক দিন পরের তারিখ।
