বিটিএসের প্রতিষ্ঠাতাকে কেন গ্রেপ্তার করতে চাইছে পুলিশ
জনপ্রিয় দক্ষিণ কোরীয় ব্যান্ড 'বিটিএস'-এর প্রতিষ্ঠাতা ব্যাং সি-হিউককে গ্রেপ্তারের আবেদন জানিয়েছে সে দেশের পুলিশ। তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান 'হাইব' পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার সময় জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
দক্ষিণ কোরিয়া পুলিশের দাবি, ২০১৯ সালে ব্যাং সি-হিউক বিনিয়োগকারীদের কাছে তথ্য গোপন করেছিলেন। সে সময় হাইব-কে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার গোপন প্রস্তুতি নিলেও তিনি দাবি করেছিলেন, এমন কোনো পরিকল্পনা তার নেই। ২০২০ সালের অক্টোবরে কোম্পানিটি তালিকাভুক্ত হওয়ার পর ব্যাং প্রায় ২০ হাজার কোটি উওন (১৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার) হাতিয়ে নেন বলে পুলিশ জানায়। তবে শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন ব্যাং।
জালিয়াতির এই অভিযোগ বেশ পুরনো। চলমান তদন্তের কারণে গত আগস্ট থেকে ব্যাং সি-হিউকের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এর আগে তার কোম্পানির সদর দপ্তরে তল্লাশি চালানো হয় এবং তার কিছু সম্পদ জব্দ করা হয়। চার বছর বিরতির পর বিটিএসের বিশ্ব সফর শুরুর কয়েক সপ্তাহের মাথায় পুলিশ এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন করল। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, বিটিএসের এই সফর থেকে হাইব ১০০ কোটি ডলারের বেশি আয় করতে পারে।
কে এই ব্যাং সি-হিউক?
৫৩ বছর বয়সী ব্যাং সি-হিউক দক্ষিণ কোরিয়ার বিনোদন জগতের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি। ১৯৯৭ সালে তিনি 'জেওয়াইপি এন্টারটেইনমেন্ট' সহ-প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ২০০৫ সালে নিজের প্রতিষ্ঠান 'বিগ হিট এন্টারটেইনমেন্ট' চালু করেন, যা বর্তমানে 'হাইব' নামে পরিচিত। তার হাত ধরেই বিটিএস আজকের বিশ্বজোড়া খ্যাতি পেয়েছে। বর্তমানে ব্যাং-এর ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। গত মাস পর্যন্ত তার কাছে হাইবের ১ কোটি ৩০ লাখের অধিক শেয়ার ছিল, যার বাজারমূল্য ৫ ট্রিলিয়ন উওনের কাছাকাছি।
দক্ষিণ কোরিয়ার আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার অভিযোগ, ব্যাং সি-হিউক শেয়ারবাজারের সঠিক নিয়ম না মেনে কিছু বেসরকারি ইকুইটি ফান্ডের সঙ্গে গোপন চুক্তি করেছিলেন। তিনি পুরনো বিনিয়োগকারীদের বিশ্বাস করাতে সক্ষম হন যে হাইবের পুঁজিবাজারে আসার কোনো পরিকল্পনা নেই। ফলে অনেক বিনিয়োগকারী তাদের শেয়ার বিক্রি করে দেন। সেই শেয়ার ব্যাং-এর সাথে সংশ্লিষ্ট একটি বেসরকারি ফান্ড কিনে নেয়। পরে কোম্পানিটি তালিকাভুক্ত হলে সেই শেয়ার বিক্রি করে তিনি বিপুল পরিমাণ অবৈধ মুনাফা করেন।
অবশ্য হাইব এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। মঙ্গলবার ব্যাং-এর আইনজীবীরা এক বিবৃতিতে জানান, পুলিশের এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদনে তারা 'মর্মাহত'। আইনগতভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
কঠোর অবস্থানে সরকার
দক্ষিণ কোরিয়ার আইনে ৫শ কোটি উওন বা তার বেশি অবৈধ মুনাফা করলে সর্বনিম্ন পাঁচ বছর থেকে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। সম্প্রতি দেশটিতে শেয়ারবাজার জালিয়াতি দমনে সরকার কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং জালিয়াতির ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তির নির্দেশ দিয়েছেন। নতুন নীতি অনুযায়ী, অবৈধ লেনদেনে কোনো অ্যাকাউন্টের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তা দ্রুত বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে মঙ্গলবার পুঁজিবাজারে হাইবের শেয়ারের দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমে গেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যান্য বড় বিনোদন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের ওপরও।
