পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও আস্থা ফেরাতে ‘সংস্কার কমিশন’ গঠনের পরিকল্পনা সরকারের
পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে একটি 'পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন' গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন।
রোববার (২১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী দেশের আর্থিক খাতের উন্নয়নে সরকারের এসব সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। সংসদ সদস্য তার প্রশ্নে দেশের ভঙ্গুর আর্থিক খাত উন্নয়নে সরকারের কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ আছে কিনা, তা জানতে চেয়েছিলেন।
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের বর্তমান ভঙ্গুর আর্থিক খাত পুনরুদ্ধার, স্থিতিশীলকরণ এবং পর্যায়ক্রমে একে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সরকার কার্যকর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে গত ১০ এপ্রিল অর্থ বিভাগে অনুষ্ঠিত কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল সভায় মুদ্রানীতি, রাজস্বনীতি, বিনিময় হার নীতি ও মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামোর একটি সমন্বিত কৌশল উপস্থাপন করা হয়েছে। সভায় ২০২৬-২৭ থেকে ২০২৮-২৯ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক কাঠামো অনুমোদিত হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে আর্থিক খাতের দুর্বলতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতি সুদহার ১০ শতাংশে বহাল রাখা হয়েছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। অর্থমন্ত্রী তথ্য দেন যে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ১৪.১০ শতাংশ, যা ২০২৬ সালের মার্চ মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়ে ৮.২৪ শতাংশে নেমে এসেছে।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও বিনিময় হার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের স্থিতিতে উন্নতি হচ্ছে। গত ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৮৭৩ দশমিক ৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী এই রিজার্ভের পরিমাণ ৩০ হাজার ২০১ দশমিক ৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
পুঁজিবাজারের আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, 'পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার কেবল 'পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন' গঠনই নয়, বরং শক্তিশালী বন্ড ও ইক্যুইটি মার্কেট গড়ে তোলা, লেনদেনে ব্লকচেইন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রবাসীদের জন্য বিশেষ 'ইনভেস্টমেন্ট গেটওয়ে' চালুর পরিকল্পনা করছে। এছাড়া বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টিকেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।'
দেশের উৎপাদন ও আর্থিক খাতের সংকট কাটাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে বিশেষ সহায়তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে সংসদকে জানান অর্থমন্ত্রী। সবশেষে অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, মুদ্রা সরবরাহ এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও কার্যকর অর্থায়ন ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে। সরকারের এই সমন্বিত নীতিকাঠামো দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক খাতের পুনরুদ্ধারকে টেকসই করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
