ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলো, চাঙ্গা শেয়ারবাজার
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। একই সাথে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে খুব শিগগিরই তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল শুরু হতে পারে বলেও জানিয়েছে তেহরান।
যুদ্ধবিরতির খবর আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১৫ শতাংশের বেশি কমে প্রতি ব্যারেল ৯৫ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। একইভাবে বিশ্ববাজারের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১২.৮৮ শতাংশ কমে ৯৫.১২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। যদিও এই দাম যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের তুলনায় এখনও বেশি, তবে সাম্প্রতিক রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির তুলনায় এটি অনেকটা কম।
অন্যদিকে, তেলের দাম কমায় বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডাও ফিউচারস ২ শতাংশ বা প্রায় ৯০০ পয়েন্ট বেড়েছে। এশিয়াজুড়ে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বুধবার সকালে জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ৪.৯ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৫.৭ শতাংশ বেড়েছে। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচকও ২.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ট্রাম্প ইরানে ভয়াবহ হামলার যে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন, তা শেষ হওয়ার মাত্র দুই ঘণ্টা আগে তিনি এই যুদ্ধবিরতিতে রাজি হন। ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ জানান, ইরানের কাছ থেকে ১০ দফার একটি প্রস্তাব পাওয়ার পর তারা আলোচনার একটি কার্যকর ভিত্তি খুঁজে পেয়েছেন। তিনি আরও স্পষ্ট করেন, এই পুরো সমঝোতাটি নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ওপর।
তবে, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা বলা হলেও সংশয় কাটছে না বিশ্লেষকদের। রাপিদান এনার্জি গ্রুপের সভাপতি বব ম্যাকনালি বলেন, "বাজার ভালো সংবাদের জন্য অধীর অপেক্ষায় ছিল, তবে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয় কি না সেটিই এখন দেখার বিষয়।"
ইরান এই যুদ্ধবিরতিকে কেবল 'সাময়িক' হিসেবে বর্ণনা করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় নিউজ চ্যানেলে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "এটি যুদ্ধের সমাপ্তি নয়। তবে সর্বোচ্চ নেতার আদেশ মেনে সব সামরিক বাহিনীকে আপাতত গুলিবর্ষণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।" ইরান আরও দাবি করেছে, তাদের সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করবে, যা তাদের ভূ-রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে রাখবে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেলের সরবরাহে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছিল। প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল তেলের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সাময়িক স্বস্তি এলেও দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল বুঝতে আরও সময় লাগবে। করপেই কারেন্সি রিসার্চের কার্ল শামোট্টা বলেন, "এই সংকটের মাধ্যমে ইরান বিশ্ববাজারকে চাপে ফেলার ক্ষমতা প্রদর্শন করেছে এবং নিজের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করেছে।"
