১ লাখ ডলার ফি করার পরও যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ভিসা আবেদনের সংখ্যা কমেনি, দাবি বিশেষজ্ঞের
সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এইচ-১বি ভিসা আবেদনের জন্য নির্ধারিত ১ লাখ ডলারের ফি ভিসার সংখ্যাকে কমাতে পারেনি, কারণ অধিকাংশ সুবিধাভোগী আগেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া এই ফি মূলত তাদের জন্য প্রযোজ্য, যারা আবেদন করার সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকেন। তবে যারা ইতোমধ্যে অন্য কোনো ভিসা কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে চলে এসেছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ফি প্রযোজ্য নয়—প্রতিবেদনে এমনটাই যুক্তি দিয়েছেন জন মিয়ানো। মিয়ানো বিদেশি শ্রমিকদের প্রযুক্তি খাতে প্রভাব নিয়ে গবেষণাকারী একজন বিশেষজ্ঞ।
তবে প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরই বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ক্যাটো ইনস্টিটিউটের ইমিগ্রেশন স্টাডিজ বিভাগের পরিচালক ডেভিড জে. বিয়ার এটিকে 'ভুল যুক্তি' বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, সম্ভাব্য এইচ-১বি আবেদনকারীদের অর্ধেক যদি যুক্তরাষ্ট্রে থেকেও থাকে, তবুও বাকি অর্ধেককে বাদ দেওয়া হলে তা বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
মিয়ানো তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালে এইচ-১বি ভিসা সুবিধাভোগীদের ৫৪ শতাংশই ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অন্য কোনো স্ট্যাটাসে ছিলেন।
তিনি বলেন, 'যদি ধরা হয় সম্ভাব্য সুবিধাভোগীদের ৫৪ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন, তাহলে এর অর্থ দাঁড়ায় ১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি কর্মী আগেই যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। এমনকি এইচ-১বি প্রক্রিয়ায় কোনো কৌশল প্রয়োগ না করলেও—যেমন সাময়িকভাবে অন্য ভিসায় লোকজনকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা—লটারিতে অংশ নেওয়া এবং ১ লাখ ডলারের ফি থেকে অব্যাহতি পাওয়া (অর্থাৎ যারা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন) আবেদনকারীর সংখ্যা ভিসা কোটা সংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশি।'
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে—যেখানে বলা হয়েছে চলতি অর্থবছর ২০২৭-এর এইচ-১বি লটারিতে আবেদনকারীর সংখ্যা কমেছে এবং এতে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে—মিয়ানো বলেন, এই ফি আসলে কোনো প্রভাব ফেলেনি। কারণ প্রতি বছরের মতো এবারও ৮৫ হাজার ভিসার কোটা পূরণ হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, 'গত বছর এবং তার আগের বছরের মতো এবারও ৮৫ হাজার কোটা ভিসা থাকবে। ১ লাখ ডলারের ফি এই সংখ্যায় কোনো প্রভাব ফেলেনি। ট্রাম্প প্রশাসন বেশি ভিসা দেয়নি বা অনুমোদন করেনি। শুধু লটারিতে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে; অনুমোদনের হার বেড়েছে, কিন্তু অনুমোদনের মোট সংখ্যা নয়। এখন একমাত্র প্রশ্ন হলো, কোটা বহির্ভূত যে ভিসাগুলো বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয়, সেগুলোর ওপর এই ফি কী প্রভাব ফেলবে। ২০২৪ অর্থবছরে এ ধরনের ভিসা ছিল ৫৬ হাজার। অর্থবছরের শেষে না গেলে এর প্রভাব বোঝা যাবে না।'
অন্যদিকে বিয়ার ভিন্নমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, এর ফলে এখনও অনেক ভিসা কমে যাচ্ছে, কারণ যারা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন তারা এইচ-১বি পেলে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন না—তাদের কেবল ভিসার ধরন পরিবর্তন হয়।
তিনি আরও বলেন, এটি অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর, কারণ যারা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন তারা হয়তো আগেই অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন, কিন্তু নতুন বিদেশি প্রতিভা যুক্তরাষ্ট্রে আসার সুযোগ কমে যাচ্ছে।
বিয়ার বলেন, 'এমনকি যদি আমরা স্ট্যাটাস পরিবর্তন এবং নতুন ভিসা—উভয় দিক বিবেচনা করি, তবুও এই ফি শেষ পর্যন্ত ভিসার সংখ্যা কমিয়ে দেবে, কারণ এটি কোটা-বহির্ভূত প্রায় ৫০ হাজার কর্মীর ভিসা ইস্যু কমিয়ে দেবে।'
