তেহরান ‘পরমাণু উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছাড়তে’ নারাজ, ‘উপযুক্ত সময়ে’ ইরানকে ‘শেষ’ করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান তার পরমাণু উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছাড়তে রাজি নয়। ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে এই দাবি করেন তিনি।
পোস্টে ট্রাম্প আরও বলেন, অনেক দিক থেকে যেসব বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি, সেগুলো আমাদের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার চেয়ে ভালো। কিন্তু এসব কিছুই গুরুত্বপূর্ণ না, যদি এমন অস্থির, কঠিন ও অনির্ভরযোগ্য মানুষের হাতে পারমাণবিক শক্তি চলে যায়।'
ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, 'ইরানের কখনোই কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।'
পৃথক পোস্টে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ওয়াশিংটন 'প্রস্তুত' রয়েছে এবং এর সেনাবাহিনী 'উপযুক্ত সময়ে' ইরানকে 'শেষ' করে দেবে।
ইসলামাবাদে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্প এ হুমকি দিলেন।
সূত্র: আল জাজিরা
ট্রাম্পের হরমুজ অবরোধের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন ডেমোক্র্যাট সিনেটরের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি অবরোধের ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার।
তিনি সিএনএনকে বলেছেন, 'আমি বুঝতে পারছি না, প্রণালিটি অবরোধ করা কীভাবে ইরানকে এটি খুলে দিতে বাধ্য করবে।'
তিনি আরও বলেন, 'আমি এর মধ্যে কোনো যোগসূত্র খুঁজে পাচ্ছি না।'
সূত্র: আল জাজিরা
ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে নিহত বেড়ে ২,০৫৫
লেবাননে গত ২ মার্চ ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৫৫ জন মানুষ প্রাণ হরিয়েছেন। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। এ ছাড়াও আহত হয়েছেন অন্তত ৬ হাজার ৫৮৮ জন।
সূত্র: আল জাজিরা
হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণকারী জাহাজ পাঠাবে যুক্তরাজ্য ও মিত্ররা: ট্রাম্প
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাজ্য এবং আরও কয়েকটি দেশ হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণকারী নৌযান পাঠাবে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) গতকাল শনিবার জানিয়েছে, তারা 'মাইন অপসারণের জন্য পরিস্থিতি তৈরি করা' শুরু করেছে।
শুক্রবার নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানায় যে, মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করেন, ইরান হরমুজ প্রণালিতে পেতে রাখা মাইনগুলো অপসারণ করতে পারছে না। কারণ, তারা সেগুলোর অবস্থান শনাক্ত করতে পারছে না।
ট্রাম্প বলেন, 'আমি যা বুঝতে পারছি, যুক্তরাজ্য এবং আরও কয়েকটি দেশ মাইন অপসারণকারী জাহাজ পাঠাচ্ছে।'
সূত্র: আল জাজিরা
হরমুজের 'প্রাণঘাতী ঘূর্ণিতে' শত্রুদের ফাঁদে ফেলার হুমকি আইআরজিসির
ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি অবরোধের ঘোষণার পর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর দাবি করেছে, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী হরমুজ প্রণালিকে 'সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে' রেখেছে।
এটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, 'যেকোনো ভুল পদক্ষেপ শত্রুকে প্রণালির প্রাণঘাতী ঘূর্ণিতে আটকে ফেলবে।'
সূত্র: আল জাজিরা
'আমি একদিনেই ইরানকে শেষ করে দিতে পারি': ট্রাম্প
হরমুজ প্রণালি অবরোধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই জলপথ দিয়ে কোন কোন জাহাজ চলাচল করবে, তা ইরান নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হয় এই জলপথ দিয়ে প্রতিটি জাহাজ নিরাপদে চলাচল করতে পারবে, নয়তো একটিও পারবে না।
'ইরানকে তাদের পছন্দের লোকেদের কাছে তেল বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করতে আমরা দেব না। হয় সবটা, নয়তো কিছুই না এবং এটাই নিয়ম', যোগ করেন ট্রাম্প।
তিনি বলেন, এই অবরোধটি ভেনেজুয়েলার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধের মতোই হবে, তবে তা হবে আরও বড় পরিসরে।
ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, এর ফলে আরও বেশি ট্যাঙ্কার তেল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রে আসবে।
ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং অন্যান্য বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করার হুমকিও পুনর্ব্যক্ত করে ট্রাম্প বলেন, 'আমি একদিনেই ইরানকে শেষ করে দিতে পারি… আমি তাদের পুরো জ্বালানি ব্যবস্থা, সবকিছু, তাদের প্রতিটি প্ল্যান্ট, তাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ধ্বংস করে দিতে পারি, যা একটি বিরাট ব্যাপার।'
সূত্র: আল জাজিরা
ইরান যুদ্ধে প্রাথমিক খরচ ১১.৫ বিলিয়ন ডলার: ইসরায়েলের অর্থ মন্ত্রণালয়
ইরানের সাথে সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইসরায়েলের প্রায় ৩৫ বিলিয়ন শেকেল (১১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) ব্যয় হয়েছে বলে প্রাথমিক এক হিসাব দিয়েছে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়।
মূলত সামরিক অভিযান এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য ব্যয়ের ওপর ভিত্তি করে এই হিসাব করা হয়েছে।
ইসরায়েলি অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধের ফলে উচ্চ অর্থনৈতিক মূল্য দিতে হয়েছে। এর মধ্যে যেমন মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি-র ক্ষতি রয়েছে, তেমনি রাষ্ট্রীয় ব্যয়ও অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। তবে যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদী এবং সামগ্রিক আর্থিক প্রভাব ভবিষ্যতে আরও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়।
সূত্র; টাইমস অব ইসরায়েল
হরমুজ প্রণালি অবরোধের ঘোষণা ট্রাম্পের
ইরানের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে এবার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে অবরোধ করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জলসীমায় যেসব জাহাজ ইরানকে 'টোল' প্রদান করেছে, সেগুলোকে আটক বা গতিরোধ করার জন্য মার্কিন নৌবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
রোববার (১২ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই হুঁশিয়ারি দেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর তিনি এই ঘোষণা দিলেন।
সূত্র: আল জাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে প্রস্তুত রাশিয়া: পেজেশকিয়ানকের সঙ্গে ফোনালাপে পুতিন
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
সংবাদ সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোনালাপে পুতিন বলেছেন, রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে সহায়তা অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত।
ক্রেমলিন এ বিষয়ে আরও জানিয়েছে, ভ্লাদিমির পুতিন এই সংঘাতের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও সুগম করতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তি অর্জনের প্রচেষ্টায় মধ্যস্থতা করতে সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।
সূত্র: আল জাজিরা
হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে নেই: অ্যাডনক প্রধান
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল সংস্থা অ্যাডনকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতান আল-জাবের বলেছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করা বা এই জলপথ দিয়ে নৌ চলাচল সীমিত করার অধিকার কখনোই ইরানের ছিল না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে তিনি বলেন, যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি, খাদ্য ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলবে। আর এ ধরনের একটি নজির স্থাপন করা হবে 'বিপজ্জনক ও অগ্রহণযোগ্য'।
তিনি আরও বলেন, "বিশ্ব এটা কোনোভাবেই বহন করতে পারবে না এবং এর অনুমতি দিতে পারে না।'
সূত্র: আল জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৩,৩৭৫
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের ভয়াবহতায় এখন পর্যন্ত ৩,৩৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে তেহরান। ইরানের ফরেনসিক মেডিসিন সংস্থার প্রধান আব্বাস মাসজেদি আরানি এই তথ্য জানিয়েছেন।
ইরানি গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে আরানি বলেন, কর্তৃপক্ষ যুদ্ধে নিহত ৩,৩৭৫ জনের মরদেহ শনাক্ত করেছে। তিনি নিহতের সংখ্যার একটি লিঙ্গভিত্তিক পরিসংখ্যান দিয়ে জানান, নিহতদের মধ্যে ২,৮৭৫ জন পুরুষ এবং প্রায় ৫০০ জন নারী রয়েছেন।
নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণের কাজ শেষে এই দাপ্তরিক তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক এই যুদ্ধের ফলে ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে যে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে, এই পরিসংখ্যান তারই একটি আনুষ্ঠানিক চিত্র তুলে ধরল।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানি প্রতিনিধিদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে: গালিবাফ
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আলোচনা শেষ হওয়ার পর নিজের প্রথম আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। সেখানে তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই আলোচনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানি প্রতিনিধিদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক ধারাবাহিক পোস্টে গালিবাফ বলেন, আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন যে ইরানের পক্ষ থেকে 'প্রয়োজনীয় সদিচ্ছা ও ইচ্ছা' রয়েছে। তবে অতীতের দুটি যুদ্ধের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে প্রতিপক্ষ বা বিরোধী পক্ষের ওপর তাদের কোনো আস্থা নেই।
তিনি আরও বলেন, 'আলোচনার এই পর্বে বিরোধী পক্ষ শেষ পর্যন্ত ইরানি প্রতিনিধি দলের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।'
আলোচনা আয়োজনে সহায়তার জন্য পাকিস্তানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে গালিবাফ বলেন, 'এই আলোচনা প্রক্রিয়া সহজতর করার ক্ষেত্রে বন্ধুপ্রতিম ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ পাকিস্তানের প্রচেষ্টার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। পাকিস্তানের জনগণের প্রতি আমি আমার শুভেচ্ছা জানাই।'
২ মাসের মধ্যে তেল শোধন ক্ষমতা ৮০ শতাংশে ফেরাতে চায় ইরান
ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত তেল শোধনাগার এবং বিতরণ ব্যবস্থা আগামী দুই মাসের মধ্যে আগের সক্ষমতার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। দেশটির জ্বালানি উপমন্ত্রী মোহাম্মদ সাদেক আজিমিনফার এই তথ্য জানিয়েছেন।
এসএনএন নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আজিমিনফার বলেন, পুরো দেশজুড়ে ইরানের শোধনাগার, সঞ্চালন লাইন, তেল ডিপো এবং বিমানে জ্বালানি সরবরাহকারী স্থাপনাগুলো 'বারবার হামলার শিকার হয়েছে'।
তিনি আরও জানান, ধ্বংসাবশেষ অপসারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনের জন্য এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় কারিগরি দল মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে লাভান আইল্যান্ডের একটি শোধনাগারে দ্রুততার সঙ্গে মেরামতের কাজ চলছে।
কর্তৃপক্ষ আগামী ১০ দিনের মধ্যে ওই শোধনাগারের একটি অংশের কার্যক্রম পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
ইসলামাবাদে যখন শান্তি আলোচনা, মিয়ামিতে তখন ইউএফসি লড়াইয়ে মগ্ন ট্রাম্প
যখন পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনা চলছিল, তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফ্লোরিডার মিয়ামিতে একটি ইউএফসি লড়াই উপভোগ করতে দেখা গেছে। এ সময় তার সঙ্গে পরিবারের কয়েকজন সদস্য এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপস্থিত ছিলেন।
ইসলামাবাদে আলোচনা চলাকালীন মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, পুরো সময়টাতেই তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে 'নিরবচ্ছিন্ন' যোগাযোগ রক্ষা করেছেন।
ভ্যান্স বলেন, 'আমি ঠিক জানি না আমরা কতবার তার সঙ্গে কথা বলেছি—গত ২১ ঘণ্টায় সম্ভবত ছয় থেকে বারো বার কথা হয়েছে।' তিনি আরও যোগ করেন, 'আমরা দলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগে ছিলাম কারণ আমরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিলাম।'
তথ্যসূত্র: বিবিসি
যুক্তরাষ্ট্রের 'অতিরিক্ত' দাবিতে ইসলামাবাদ আলোচনা ব্যর্থ, তবে কূটনীতি চলবে: ইরান
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনা কোনো ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, কূটনীতি কখনো শেষ হয়ে যায় না। আমেরিকার পক্ষ থেকে 'অতিরিক্ত দাবি'র কারণে কোনো সমঝোতা ছাড়াই এই আলোচনা শেষ হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আলোচনা প্রসঙ্গে বাঘাই বলেন, বেশ কিছু বিষয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি 'সমঝোতায় পৌঁছেছে', তবে '২ থেকে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ' বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। তিনি আরও জানান, এই দফার আলোচনা ছিল গত এক বছরের মধ্যে দীর্ঘতম, যা মোট ২৪ থেকে ২৫ ঘণ্টা স্থায়ী হয়েছে।
বাঘাই বলেন, 'এই আলোচনা হয়েছে ৪০ দিনের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের পর এবং এটি অনুষ্ঠিত হয়েছে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও সন্দেহের পরিবেশে। তাই শুরু থেকেই এমনটা আশা করা উচিত ছিল না যে মাত্র একটি বৈঠকেই কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এমনকি এমন প্রত্যাশা আসলে কারও ছিল না।'
তিনি জোর দিয়ে বলেন যে 'কূটনীতি কখনো শেষ হয় না' এবং বলেন, 'এই হাতিয়ার জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য, আর যুদ্ধ বা শান্তি—যেকোনো সময়েই কূটনীতিকদের তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।' বাঘাইয়ের মতে, আলোচনার সফলতা নির্ভর করছে 'প্রতিপক্ষের গাম্ভীর্য ও সদিচ্ছার' ওপর এবং ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থের স্বীকৃতির ওপর।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিষয়গুলোর জটিলতা উল্লেখ করে বলেন, 'এই আলোচনায় নতুন কিছু বিষয় যুক্ত হয়েছে, যেমন—হরমুজ প্রণালির ইস্যুটি, যার প্রতিটিই নিজস্ব জটিলতা রয়েছে।' তিনি আরও বলেন, 'যেকোনো পরিস্থিতিতেই কূটনৈতিক ব্যবস্থাকে অবশ্যই ইরানের জনগণের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যেতে হবে।'
সবশেষে তিনি পাকিস্তান সরকার, সে দেশের জনগণ এবং কর্মকর্তাদের প্রতি ধন্যবাদ জানান। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির এবং পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইশহাক দারের নাম উল্লেখ করেন তিনি। বাঘাই বলেন, 'আমরা তাদের চমৎকার আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানাই এবং আমরা নিশ্চিত যে ইরান, পাকিস্তান এবং অঞ্চলের অন্যান্য বন্ধুদের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।'
তথ্যসূত্র: তাসনিম নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পরবর্তী দফায় আলোচনার কোনো পরিকল্পনা নেই ইরানের: ফার্স নিউজ
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা 'ফার্স নিউজ' জানিয়েছে, বর্তমানে পরবর্তী দফার আলোচনার বিষয়ে ইরানের 'কোনো পরিকল্পনা নেই'।
প্রতিনিধি দলের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে ফার্স নিউজ জানিয়েছে, 'ইরানের কোনো তাড়াহুড়ো নেই। যতক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র একটি যুক্তিসঙ্গত চুক্তিতে রাজি হচ্ছে না, ততক্ষণ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির বর্তমান অবস্থায় কোনো পরিবর্তন আসবে না।'
ইসলামাবাদে রাতভর চলা এই ম্যারাথন আলোচনা কোনো ফল বয়ে না আনায় দুই পক্ষ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই ফলাফলকে ইরানের জন্য 'খারাপ খবর' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে, ইরানের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আতাউল্লাহ মোহাজেরানি ফারস নিউজকে বলেছেন, 'এই ফলাফল আমেরিকার জন্য আরও বেশি খারাপ সংবাদ।'
মোহাজেরানি আরও বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল, মধ্যস্থতাকারীর ব্যবস্থা করেছিল এবং আলোচনার জন্য ইরানের দেওয়া ১০টি শর্তে রাজিও হয়েছিল। তবে তারা চেয়েছিল যুদ্ধক্ষেত্রে যা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে, তা আলোচনার টেবিলে হাসিল করতে।'
ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, স্থানীয় সময় মধ্যরাত নাগাদ ইরানের প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে যুদ্ধবিরতি রক্ষার আহ্বান পাকিস্তানের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক সরাসরি আলোচনা কোনো ধরনের সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দুই পক্ষকে যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার।
বৈঠক শেষে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইশহাক দার বলেন, 'উভয় পক্ষকে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা এবং তা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।' পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইশহাক দার আরও জানান যে, আগামী দিনগুলোতেও পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন অব্যাহত রাখবে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সংলাপের পথ প্রশস্ত করতে পাকিস্তান নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তথ্যসূত্র: এপি
ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা রুখতে চায় ওয়াশিংটন, একেই 'প্রধান লক্ষ্য' বললেন জেডি ভ্যান্স
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সংক্রান্ত বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ করা ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
জেডি ভ্যান্স বলেন, 'সহজ কথা হলো, আমাদের এমন একটি ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি দরকার যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং এমন কোনো সরঞ্জামও খুঁজবে না যা তাদের দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনে সক্ষম করে তোলে।' তিনি বিষয়টিকে ট্রাম্পের 'প্রধান লক্ষ্য' হিসেবে বর্ণনা করেন।
ভ্যান্স আরও বলেন যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ইতিমধ্যে 'ধ্বংস করা হয়েছে'। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে যাতে ইরান আর কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করে, সেজন্য তাদের কাছ থেকে একটি 'মৌলিক সদিচ্ছার প্রতিশ্রুতি' প্রয়োজন।
তিনি বর্তমান পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, 'আমরা এখনও তা দেখিনি। আশা করি আমরা তা দেখতে পাব।'
তথ্যসূত্র: বিবিসি
বেশ কিছু ইস্যুতে ঐকমত্যে পৌঁছায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র, দুই-তিন বিষয়ে মতপার্থক্য
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছু বিষয়ে একটি 'সমঝোতায় পৌঁছেছে' বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইসমাইল বাকাই জানান, বেশ কিছু বিষয়ে ঐকমত্য হলেও ২ থেকে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো 'মতপার্থক্য' রয়ে গেছে।
আলোচনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, 'এই আলোচনা হয়েছে ৪০ দিনের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের পর এবং এটি অনুষ্ঠিত হয়েছে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও সন্দেহের পরিবেশে। তাই শুরু থেকেই এমনটা আশা করা উচিত ছিল না যে মাত্র একটি বৈঠকেই কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'এমন প্রত্যাশা আসলে কারও ছিল না।'
তথ্যসূত্র: ডন
যুদ্ধে যা পায়নি, আলোচনায় তার সবই চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র: ইরান
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সংলাপে যুক্তরাষ্ট্র এমন সব অন্যায্য দাবি তুলেছে যা তারা যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছিল। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ ইরানি প্রতিনিধি দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে।
ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র এমন সব বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছে, যা তারা 'যুদ্ধে চলাকালীন অর্জন করতে পারেনি'। ওই সূত্রটি দাবি করেছে যে, যুদ্ধক্ষেত্রে সুবিধা করতে না পেরে ওয়াশিংটন এখন আলোচনার টেবিলে সেই লক্ষ্যগুলো হাসিল করতে চাইছে।
পাকিস্তানি সংবাদদাতাদের বরাতে ওই সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, 'হরমুজ প্রণালি, শান্তিপূর্ণ পরমাণু শক্তি এবং আরও বেশ কিছু বিষয়ে আমেরিকার দেওয়া 'উচ্চাভিলাষী শর্তাবলী' মেনে নেয়নি ইরান।'
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
সব পক্ষকে যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি বজায় রাখতে হবে: পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইশহাক দার
পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার জোর দিয়ে বলেছেন, এটি অত্যন্ত জরুরি যে 'পক্ষগুলো তাদের যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি বজায় রাখবে।'
ইশহাক দার তার মিডিয়া বিবৃতিতে আরও বলেন, 'পাকিস্তান গত দিনগুলোতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যোগাযোগ ও সংলাপের পথ প্রশস্ত করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে এবং আগামী দিনগুলোতেও তা অব্যাহত রাখবে।'
তথ্যসূত্র: ডন
আলোচনায় বসার 'বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে', কোনো 'তাড়াহুড়ো নেই' ইরানের
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এক নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, আলোচনার 'বল এখন আমেরিকার কোর্টে' এবং 'ইরান কোনো তাড়াহুড়ো করছে না'।
সেই সূত্রটি বলেছে, 'ইরান আলোচনায় অত্যন্ত যৌক্তিক উদ্যোগ এবং প্রস্তাব পেশ করেছে। এখন সময় এসেছে আমেরিকার, যাতে তারা বিষয়গুলোকে বাস্তবসম্মতভাবে দেখে।'
সংশ্লিষ্ট সূত্রটি অভিযোগ করেছে যে, যুদ্ধের মতো আলোচনার ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র ভুল হিসাব কষছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, 'যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র একটি যুক্তিসঙ্গত চুক্তিতে রাজি হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না।'
সূত্রটি আরও যোগ করেছে যে, আলোচনার জন্য ইরানের পক্ষ থেকে 'কোনো তাড়াহুড়ো নেই'। উল্লেখ্য, পরবর্তী দফার আলোচনার জন্য এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ বা স্থান চূড়ান্ত করা হয়নি।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
ইরানকে 'চূড়ান্ত ও সেরা প্রস্তাব' দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, সিদ্ধান্ত তেহরানের ওপর: জেডি ভ্যান্স
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের 'চূড়ান্ত এবং সেরা প্রস্তাব' পেশ করেছে।
তিনি জানান, আলোচনা চলাকালীন পুরোটা সময় জুড়েই মার্কিন প্রতিনিধি দল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছিল।
ভ্যান্স বলেন, 'আমরা ক্রমাগত প্রেসিডেন্টের সাথে কথা বলছিলাম। গত ২১ ঘণ্টায় আমরা তার সাথে কতবার কথা বলেছি তা আমি ঠিক জানি না—হতে পারে আধ ডজন বা এক ডজন বার।'
তিনি আরও বলেন, 'সুতরাং, দেখুন, আমরা দলের সাথে ক্রমাগত যোগাযোগে ছিলাম, কারণ আমরা সততার সাথে আলোচনা করছিলাম। এবং আমরা এখান থেকে একটি খুব সহজ প্রস্তাব নিয়ে চলে যাচ্ছি, একটি সমঝোতার পদ্ধতি যা আমাদের চূড়ান্ত এবং সেরা প্রস্তাব। এখন দেখা যাক ইরানিরা এটি গ্রহণ করে কি না।'
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে এবং এখন বল পুরোপুরি ইরানের কোর্টে বলে মনে করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের 'শান্তি আলোচনা ব্যর্থ', পাকিস্তান ছাড়ল মার্কিন প্রতিনিধি দল
পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনা শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এরপরই আলোচনার জন্য পাকিস্তানে আসা মার্কিন প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদ ত্যাগ করে বলে জানা গেছে।
আলোচনার পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে ভ্যান্স জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের 'রেড লাইন' স্পষ্টভাবে তুলে ধরলেও ইরান সেই শর্তে সম্মত হয়নি।
তিনি বলেন, "আমরা এমন একটি অবস্থায় পৌঁছাতে পারিনি যেখানে ইরান আমাদের শর্ত মেনে নেবে।"
ইরানের জব্দকৃত সম্পদের ব্যাপারে তিনি বলেন, 'আমরা এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি, পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় নিয়েও কথা হয়েছে।'
ভ্যান্স আরও জানান, আলোচনার সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন। 'গত ২১ ঘণ্টায় আমরা কতবার তার সঙ্গে কথা বলেছি ঠিক জানি না—হয়তো ছয়বার, হয়তো বারোবার,' বলেন তিনি।
'তবে খারাপ খবর হলো, আমরা কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারিনি,' যোগ করেন ভ্যান্স।
একই সঙ্গে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল পাকিস্তান ত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'আলোচনায় যেসব সীমাবদ্ধতা ছিল, তা পাকিস্তানের কারণে নয়। তারা অসাধারণ কাজ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র নমনীয়তা ও সদিচ্ছা নিয়েই আলোচনায় অংশ নিয়েছিল। তবে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা না হওয়াটা দুঃখজনক।'
তথ্যসূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা
