লেবানন-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি শুরু; ইরানের সঙ্গে চুক্তির ‘খুব কাছাকাছি’, সই করতে পাকিস্তান যেতে পারি: ট্রাম্প
পুরানো অবস্থায় ফিরতে ২ বছর সময় লাগবে: মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি উৎপাদন নিয়ে আইইএ-র পূর্বাভাস
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরল জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যে পরিমাণ জ্বালানি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে। সুইজারল্যান্ডের পত্রিকা 'নয়ো জুরখার জাইতুং'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই কথা বলেন।
ফাতিহ বিরল উল্লেখ করেন যে, এই সংকট কাটিয়ে ওঠার সময়সীমা পুরো অঞ্চলে সমান হবে না। কোনো দেশের ক্ষেত্রে এটি অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি সময় নিতে পারে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, 'ইরাকের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া সৌদি আরবের তুলনায় অনেক বেশি দীর্ঘ হবে।'
তিনি আরও জানান যে, আইইএ-র প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি উৎপাদন ব্যবস্থা পুনরায় যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরতে গড়ে প্রায় দুই বছরের মতো সময় লাগবে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ৪০ দেশের বৈঠক ডাকল যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স
হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আলোচনার জন্য যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স আজ তাদের মিত্রদের নিয়ে একটি বৈঠক আহ্বান করেছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কার্যালয় জানিয়েছে, আজ বিকেলের এই বৈঠকে প্রায় ৪০টি দেশ অংশ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য থাকবে অঞ্চলের বর্তমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে সমর্থন করা এবং দীর্ঘমেয়াদে এই নৌপথটি পুনরায় সচল ও নিরাপদ রাখা নিশ্চিত করা।
মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার জবাবে তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বন্ধ করে দিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোতে নিজস্ব নৌ-অবরোধ শুরু করেছে। এসব কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বৈঠকে বলবেন যে, এই প্রণালি 'নিঃশর্ত এবং অবিলম্বে পুনরায় খুলে দেওয়া একটি বৈশ্বিক দায়িত্ব'।
এএফপি-র দেখা এলিসি প্রাসাদের (ফরাসি প্রেসিডেন্ট ভবন) এক আমন্ত্রণপত্র অনুযায়ী, বৈঠকে 'নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার উদ্দেশে একটি কঠোরভাবে রক্ষণাত্মক বহুজাতিক সামরিক মিশন' মোতায়েন করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করা হবে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
কার্যকর হওয়ার ৬ ঘণ্টা পরও বজায় রয়েছে যুদ্ধবিরতি, ঘরে ফিরছে মানুষ
লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ছয় ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে এবং এটি মূলত এখনো বজায় রয়েছে। বর্তমানে আমরা বৈরুত ও দক্ষিণ লেবাননকে যুক্ত করা প্রধান মহাসড়কের পাশে অবস্থান করছি।
সেখানে দেখা যাচ্ছে যানবাহনের অবিচ্ছিন্ন সারি; মানুষ নিজের বাড়িতে ফিরে যাচ্ছে। মূলত যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকেই মানুষ নিজ এলাকার দিকে রওনা হতে শুরু করে।
অবশ্য এখনো অনেক ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে বিধায় কেউ কেউ ফিরতে বিলম্ব করছেন। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত লেবাননের কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে এখনই বাড়ি না ফেরার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
লেবানন-ইসরায়েল ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর
লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহান্তেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। এই ঘোষণাগুলোতে দীর্ঘস্থায়ী ইরান যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরান আগামী ২০ বছরের বেশি সময় ধরে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহান্তে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ছিল প্রধান মতবিরোধের বিষয়। হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, 'আমরা দেখব কী ঘটে। তবে আমি মনে করি আমরা ইরানের সাথে একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি।' এর কয়েক ঘণ্টা পর নেভাদার লাস ভেগাসে একটি অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, এই যুদ্ধ 'খুব শিগগিরই শেষ হওয়া উচিত।'
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। লেবাননের এই সাময়িক শান্তি যদি ইরানের সাথে একটি বড় চুক্তির পথ প্রশস্ত করে, তবে এটি হবে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বিশাল কূটনৈতিক জয়। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রুখে দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার সাথে সাথে বৈরুতের বিভিন্ন অংশে উল্লাস ও ফাঁকা গুলির শব্দ শোনা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রায় আধঘণ্টা ধরে রকেট ফুটিয়ে আনন্দ প্রকাশ করা হয়।
তবে এই স্থিতাবস্থা বেশ নাজুক বলে মনে করা হচ্ছে। লেবাননের সেনাবাহিনী শুক্রবার ভোরে অভিযোগ করেছে যে, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পরও ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি গ্রামে বিচ্ছিন্নভাবে গোলাবর্ষণ করে তা লঙ্ঘন করেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে তারা জানিয়েছিল যে তাদের বাহিনী ওই এলাকায় মোতায়েন থাকবে। এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র আভিচাই আদরাই বলেন, হিজবুল্লাহর অব্যাহত তৎপরতার জবাবেই এই অবস্থান।
হিজবুল্লাহ একটি দীর্ঘ বিবৃতি প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, বৃহস্পতিবার দিনভর তারা অভিযান চালিয়েছে এবং তাদের সর্বশেষ হামলাটি ছিল স্থানীয় সময় রাত ১১:৫০ মিনিটে, অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার ঠিক ১০ মিনিট আগে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হিজবুল্লাহকে এই শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'আমি আশা করি হিজবুল্লাহ এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সংযত আচরণ করবে। এটি তাদের জন্য একটি বড় মুহূর্ত হবে। আর হত্যা নয়, অবশ্যই শান্তি আসতে হবে।'
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
ইরানের সঙ্গে চুক্তির 'খুব কাছাকাছি', সই করতে পাকিস্তানে যেতে পারি: ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি শান্তি চুক্তির 'খুব কাছাকাছি' রয়েছে এবং তেহরান তাদের মজুত করা পরিশোধিত ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে সম্মত হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, চুক্তিটি স্বাক্ষরের জন্য তিনি প্রয়োজনে পাকিস্তান সফর করতে পারেন।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, 'আমরা ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি করার খুব কাছাকাছি। আমাদের নিশ্চিত করতে হতো যে ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র না পায়… তারা এতে পুরোপুরি রাজি হয়েছে। তারা প্রায় সবকিছুতেই সম্মত হয়েছে, তাই হয়তো তারা যদি আলোচনার টেবিলে আসতে পারে, তবে একটি পরিবর্তন আসবে।'
পাকিস্তানে চুক্তি স্বাক্ষর করতে তিনি যাবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, 'আমি যেতেও পারি, হ্যাঁ। যদি ইসলামাবাদে চুক্তি সই হয়, তাহলে আমি যেতে পারি।' তিনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতার ভূমিকার জন্য পাকিস্তানের 'সত্যিকার অর্থেই অসাধারণ' প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং প্রভাবশালী সেনাপ্রধান অসীম মুনিরের প্রশংসাও করেন।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহান্তে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করলেও কোনো চুক্তি ছাড়াই ফিরে আসে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফা আলোচনার জন্য যোগাযোগ চলছে, যা সম্ভবত আবারও পাকিস্তানেই অনুষ্ঠিত হবে।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান তাদের কাছে থাকা পরিশোধিত ইউরেনিয়ামের ভান্ডার হস্তান্তর করতে সম্মত হয়েছে, যা যেকোনো চুক্তির জন্য একটি প্রধান বাধা ছিল। তিনি বিষয়টিকে নিজের ভাষায় উল্লেখ করে বলেন, 'তারা আমাদের 'নিউক্লিয়ার ডাস্ট' ফিরিয়ে দিতে রাজি হয়েছে।' যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, এই পরিশোধিত ইউরেনিয়াম পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।
তথ্যসূত্র: এএফপি
