মধ্যপ্রাচ্যের জেট ফুয়েল সরবরাহে ‘এয়ার গ্যাপ’, সংকট পৌঁছাতে যাচ্ছে চূড়ান্ত পর্যায়ে
সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী বিশাল তেলবাহী ট্যাংকার রং লিন ওয়ান গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোরের আগে কুয়েতের মিনা আল আহমাদি বন্দর ছেড়ে ইউরোপীয় গন্তব্যের উদ্দেশ্যে জেট ফুয়েল নিয়ে যাত্রা শুরু করে। মেরিন ট্র্যাকার ও আর্গাস মিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ১১ এপ্রিলের মধ্যে এটি মাল্টায় পৌঁছানোর কথা—এবং এটিই হবে শেষ দীর্ঘ-পাল্লার ট্যাংকার, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জেট ফুয়েল বহন করেছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে পারস্য উপসাগরের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে প্রতিদিন আনুমানিক ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য পরিবাহিত হতো। বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ২০ শতাংশ আসত ইরান, কাতার, কুয়েত, ইরাক ও সৌদি আরব থেকে।
বর্তমানে ইউরোপ ও এশিয়ার বিমানবন্দরগুলোয় যে পরিশোধিত জেট ফুয়েল ব্যবহার করা হচ্ছে, তার বড় অংশই যুদ্ধ শুরুর আগে মধ্যপ্রাচ্য থেকে রপ্তানি হয়েছিল। বাজার বিশ্লেষক সংস্থা কেপলার-এর হিসাবে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সমুদ্রপথে বৈশ্বিক জেট ফুয়েল সরবরাহের প্রায় ২১ শতাংশ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ইউরোপে দৈনিক প্রায় ৩ লাখ ব্যারেল আমদানি কমেছে, যার ৮০ শতাংশেরও বেশি যায় উত্তর-পশ্চিম ইউরোপে—যা তেল বণ্টনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় এক নজিরবিহীন এবং ক্রমবর্ধমান 'এয়ার গ্যাপ' তৈরি হয়েছে—অর্থাৎ উৎপাদন ও চূড়ান্ত ব্যবহারের মধ্যে এক বড় ফাঁক সৃষ্টি হয়েছে, যার প্রভাব এখনো পুরোপুরি বাজারে এসে পৌঁছায়নি। এর মধ্যে রয়েছে বিমানগুলোর ট্যাংকে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলও।
সংঘাত আরও বাড়ুক বা যুদ্ধবিরতি হোক—উভয় ক্ষেত্রেই এপ্রিলের দ্বিতীয়ার্ধ হবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়, যখন এই যুদ্ধের প্রভাব শেষ পর্যন্ত বৈশ্বিক বিমান চলাচলের জ্বালানি সরবরাহে পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়ে উঠবে।
