যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করছে পাকিস্তান; সঙ্গে আছে তুরস্ক, মিসর: ইসহাক দার
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাকিস্তানের মাধ্যমে 'পরোক্ষ আলোচনা' চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন তেহরানকে ১৫ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছে, যা বর্তমানে ইরান বিবেচনা করে দেখছে।
ইসহাক দার বলেন, 'মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে শান্তি আলোচনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে নানামুখী জল্পনা চলছে। বাস্তবতা হলো, পাকিস্তানের মাধ্যমে আদান-প্রদান করা বার্তার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ সংলাপ চলছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ১৫ দফা তুলে ধরেছে, যা ইরান বর্তমানে পর্যালোচনা করছে।'
তিনি আরও জানান, তুরস্ক এবং মিসরসহ আরও কয়েকটি বন্ধুপ্রতিম দেশ এই উদ্যোগে সমর্থন দিচ্ছে। পাকিস্তান এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সংলাপই সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তার এই পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে ট্যাগ করা হয়েছে।
এদিকে, এই আলোচনার খবরের মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দাবি করেছেন, ইরানি আলোচকরা চুক্তির জন্য 'মিনতি' করছেন। ইরান সামরিকভাবে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দাবি করে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'তাদের উচিত খুব দ্রুত সিরিয়াস হওয়া, না হলে অনেক দেরি হয়ে যাবে। আর একবার যদি তা (চরম সংঘাত) ঘটে, তবে সেখান থেকে ফিরে আসার কোনো পথ থাকবে না এবং তা মোটেও সুখকর হবে না।'
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম 'চ্যানেল ১২'-এর বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফার মূল লক্ষ্য হলো—ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা, ইরানের মিসাইল প্রোগ্রামের পরিধি ও সংখ্যা সীমিত করা, লেবাননের হিজবুল্লাহ, গাজার হামাস এবং ইয়েমেনের হুথিদের সহায়তা বন্ধ করা। বিনিময়ে ইরান থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পারমাণবিক সক্ষমতা উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম 'প্রেস টিভি' জানিয়েছে, তেহরান এই প্রস্তাবে প্রাথমিকভাবে 'নেতিবাচক সাড়া' দিয়েছে। ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুদ্ধের সমাপ্তির সময় নির্ধারণ করতে দেবে না ইরান। ইরান নিজস্ব শর্ত পূরণ হলেই কেবল যুদ্ধ বন্ধ করবে।
ইরান পাল্টা পাঁচটি শর্ত দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: শত্রুপক্ষের হামলা ও হত্যাকাণ্ড সম্পূর্ণ বন্ধ করা, ভবিষ্যতে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হবে না এমন নিশ্চয়তা প্রদান, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা, সব ফ্রন্টে (প্রতিরোধ গোষ্ঠীসহ) যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের সার্বভৌম ক্ষমতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট গত বুধবার এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন যে, আলোচনা এখনও চলছে এবং একে 'ফলপ্রসূ' বলে অভিহিত করেছেন তিনি। লেভিট দাবি করেন, ইরানের সক্ষমতা 'ঘণ্টায় ঘণ্টায় কমছে', তাই তারা এখন একটি সম্মানজনক প্রস্থানের পথ খুঁজছে। তবে সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ১৫ দফার খসড়াটি পুরোপুরি সঠিক নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি চূড়ান্ত ও অর্থবহ আলোচনার জন্য স্বাগতিক দেশ হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, 'দুই দেশ সম্মত হলে পাকিস্তান এই ঐতিহাসিক আলোচনার আয়োজন করতে প্রস্তুত।' শাহবাজ শরিফের এই প্রস্তাবটি ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যালে শেয়ার করেছেন।
