ইরানে ইতোমধ্যে ‘সরকার পরিবর্তন’ হয়ে গেছে: দাবি ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর হামলাগুলো কার্যত 'সরকার পরিবর্তন' বা রেজিম চেঞ্জের সমতুল্য।
ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করার ঘোষণা দেওয়ার সময় তিনি এ দাবি করেছিলেন। এরপর সম্প্রতি এয়ার ফোর্সেস ওয়ানে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালেও তিনি সেই একই কথার পুনরাবৃত্তি করেন।
বাস্তবিক অর্থে ইরানের সামগ্রিক ইসলামী প্রজাতন্ত্র শাসনব্যবস্থা এখনও ভেঙে পড়েনি। তবে ট্রাম্প স্পষ্টতই সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি এবং আরও ডজনখানেক শীর্ষ কর্মকর্তাকে হত্যা করাকে পুরানো সরকারের পতন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন।
এয়ার ফোর্সেস ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, 'একটি শাসনব্যবস্থা ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে, তারা সবাই মারা গেছে। পরবর্তী স্তরের নেতারাও প্রায় শেষ। এখন আমরা এমন এক তৃতীয় স্তরের নেতৃত্বের সাথে কাজ করছি যাদের সাথে আগে কেউ কাজ করেনি... এবং সত্যি বলতে, তারা অত্যন্ত যুক্তিবাদী আচরণ করছে।'
যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সাথে কাজ করার চেষ্টা করছে। তবে গালিবাফ ইসলামী রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত এবং অধিকাংশ বিশ্লেষক মনে করেন, তিনি আগের নেতাদের মতোই কট্টরপন্থী এবং মার্কিন দাবিগুলো মেনে নিতে অনিচ্ছুক।
ট্রাম্পের দাবি, 'এটি সত্যিই একটি রেজিম চেঞ্জ... এর চেয়ে ভালো আর কিছু হতে পারে না।'
আলী খামেনি ছেলে মোজতাবা খামেনির—যাকে ইরানি আলেমরা তার বাবার উত্তরসূরি হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন—তার সম্পর্কে ট্রাম্প আবারও বলেন, তিনি বর্তমানে লোকচক্ষুর অন্তরালে বা যোগাযোগবিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছেন। ট্রাম্প বলেন, 'সে বেচে থাকতে পারে, কিন্তু সে স্পষ্টতই খুব গুরুতরভাবে... আহত।'
ধারণা করা হয়, যুদ্ধের প্রথম দিনে যখন তার বাবা ও অন্যান্য কর্মকর্তারা নিহত হন, সেই হামলাতেই তরুণ খামেনি আহত হয়েছিলেন।
ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য স্থল অভিযান সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর দেননি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুদ্ধ নির্ধারিত সময়ের চেয়ে 'কয়েক সপ্তাহ' এগিয়ে আছে। যদিও হোয়াইট হাউস বৃহস্পতিবার আবারও তাদের ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের সময়সীমার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে, অথচ গত শনিবারেই যুদ্ধটি চার সপ্তাহ শেষ হয়েছে।
জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ডের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট কি না, এমন প্রশ্নে ট্রাম্প কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানান।
গ্যাবার্ড যুদ্ধের আগে ইরানকে তাৎক্ষণিক হুমকি হিসেবে স্বীকার করতে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন এবং কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় বলেছিলেন, কেবল মার্কিন প্রেসিডেন্টই এই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
ট্রাম্প বলেন, 'চিন্তাধারার দিক থেকে সে আমার চেয়ে কিছুটা আলাদা। আমি মনে করি আমি এই বিষয়ে খুব কঠোরভাবেই ইরানকে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না... সে সম্ভবত এই বিষয়ে কিছুটা নরম, তবে তাতে সমস্যা নেই।'
ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকারী জাহাজগুলোর ওপর টোল বা মাশুল আরোপের খবরের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, 'আমাকে খুঁজে বের করতে হবে এটি সত্যি কি না।' তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'আমরা দুই মিনিটের মধ্যে এটি [হরমুজ প্রণালী] বন্ধ করে দিতে পারি।'
তিনি কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেন, উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা লড়াই করছে।
তবে গণমাধ্যমের প্রকাশ্য প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিজেদের ভূখণ্ডে ইরানের হামলার জবাবে উপসাগরীয় দেশগুলোর ভূমিকা কেবল ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার মতো আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
