আরব আমিরাতের কোম্পানির মাধ্যমে চীন থেকে সামরিক স্যাটেলাইট সরঞ্জাম কিনেছে ইরান
ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) তাদের ড্রোন কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চীনা স্যাটেলাইট সরঞ্জাম কিনতে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক একটি কোম্পানিকে ব্যবহার করেছে।
গতকাল রোববার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফাঁস হওয়া বাণিজ্যিক চুক্তি ও জাহাজ পরিবহন নথি অনুযায়ী, আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স ২০২৫ সালের শেষের দিকে স্টারউইন নির্মিত চীনা ৪.৫ মিটার মোটরচালিত স্যাটেলাইট অ্যান্টেনা সংগ্রহ করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রযুক্তিটি সাংহাই থেকে চীনা কনটেইনার জাহাজ ঝং গু ইন চুয়ানের মাধ্যমে ইরানের বন্দর আব্বাস বন্দরে পাঠানো হয়।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি ২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট দুবাইয়ে পৌঁছানোর পর একটি কনটেইনার সেখানে রেখে যায়। পরে ২৩ নভেম্বর সেটি ইরানি জাহাজ রামা থ্রি সংগ্রহ করে।
জাহাজটির জিপিএস তথ্য অনুযায়ী, রামা থ্রি পারস্য উপসাগর থেকে যাত্রা করে ওমান উপকূলের কাছে অল্প সময়ের জন্য থেমেছিল। তবে একই দিনের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস দেখতে পায়, জাহাজটি আসলে ঘোষিত অবস্থানে ছিল না। এতে ধারণা করা হচ্ছে, জাহাজটি হয়তো 'স্পুফিং' (সিস্টেমকে বিভ্রান্ত করার জন্য মিথ্যা তথ্য প্রদান বা প্রতারণামূলক কৌশল অবলম্বন) বা ভুয়া জিপিএস সংকেত দিয়েছিল।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানায় ২০২৫ সালের অক্টোবরের তারিখযুক্ত চালানটি কাস্টমস নথিতে 'অ্যান্টেনা ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম' হিসেবে উল্লেখ ছিল। ছয়টি বাক্সে ভাগ করা এ চালানের মোট ওজন ছিল প্রায় ১.৮ টন।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের হাতে আসা একটি চুক্তিপত্র অনুযায়ী, ইরানের সামান ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রুপের একটি প্রকল্পে কাজ করা ইরানি টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান এরতেবাতাত ফারাগোস্তার কিশের (ইএফকে) পক্ষে এই সরঞ্জাম সংগ্রহ করে টেলিসান।
উল্লেখ্য, এই টেলিসান নিজেদের 'মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাজুড়ে স্থায়ী ও মোবাইল স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থার সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সরবরাহকারী' বলে থাকে।
এ বিষয়ে জানতে টেলিসান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং লন্ডনে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসে যোগাযোগ করলেও তারা ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
দুই সপ্তাহ আগে, নিউ ইয়র্ক টাইমস মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানায়, চীনা কোম্পানিগুলো গোপনে ইরানে অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা করছে এবং অস্ত্রের উৎস গোপন রাখতে অন্যান্য দেশের মাধ্যমে সেগুলো পরিবহনের চেষ্টা করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এমন গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করেছে, যা ইঙ্গিত দেয়- অস্ত্র বিক্রি নিয়ে চীনা কোম্পানিগুলো ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
তবে এখনো কোনো অস্ত্র পাঠানো হয়েছে কি না বা চীনা কর্মকর্তারা কতগুলো বিক্রির অনুমোদন দিয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, অস্ত্র চালানের প্রকৃত উৎস আড়াল করতে চীন যেসব দেশ ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছিল, তার অন্তত একটি আফ্রিকায় অবস্থিত।
