ইরানের কাছ থেকে হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি চায় যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান প্রকাশ্যে এই ঘোষণা দিক যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সেই সঙ্গে ইরানের কাছ থেকে এই জলপথ দিয়ে চলাচল করা বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানো বন্ধের প্রতিশ্রুতিও চায় যুক্তরাষ্ট্র।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, তেহরান ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের জানিয়েছে যে জাহাজে গুলি চালানোর ঘটনা ছিল একটি ভুল। তবে ইরানের দাবি, এর জন্য দায়ী ছিল তাদের ভেতরের একটি নিয়ন্ত্রণহীন বা বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী।
ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এ সপ্তাহে হওয়া হামলা-পাল্টা হামলা সত্ত্বেও উভয় পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউসের মতে, এই সংঘর্ষ যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির দাবি, তার দেশ যুদ্ধবিরতির 'প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে'। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি দাবি করেন, বরং চুক্তি ভঙ্গ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই করে, যার অংশ হিসেবে ইরান বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
সিবিএস নিউজকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানান, ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, কট্টরপন্থিদের একটি 'বিচ্যুত' গোষ্ঠী আলোচনাকে ভণ্ডুল করার উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালিয়েছিল।
এক মার্কিন কর্মকর্তা সিবিএসকে বলেন, "তারা (ইরান) আবার আলোচনায় ফিরে এসে বলেছে, 'আমরা ভুল করেছি। এটা আমাদের ভুল ছিল। চলুন, আলোচনা চালিয়ে যাই'।"
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার শনিবারের মধ্যে ওমানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
একই সময়ে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও ওমানে অবস্থান করছেন এবং দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
এর আগের দফার আলোচনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পাকিস্তান বা কাতারের মধ্যস্থতায় পরোক্ষভাবে আলোচনা চালিয়েছিল।
শুক্রবার সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের নেতৃত্বের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে। সেখানে ইরানকে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিতে বলা হয়েছে যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকবে এবং তারা আর বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালাবে না।
রয়টার্সের উদ্ধৃতিতে এক কর্মকর্তা বলেন, "তারা হয় আমাদের সেই ঘোষণা দেবে, নয়তো তাদের জন্য পরিস্থিতি ভালো হবে না।"
সিবিএসের খবরে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউস আরও চায় ইরান প্রকাশ্যে স্বীকার করুক যে জাহাজে গুলি চালানো ছিল একটি ভুল।
শুক্রবার ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, "ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান আমাদের কাছে আবার আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছে।"
তিনি আরও লেখেন, "আমরা এতে সম্মত হয়েছি। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে যুদ্ধবিরতি এখন শেষ।"
