‘শত্রুভাবাপন্ন নয়’ এমন জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারবে: জাতিসংঘকে ইরান
ইরান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থাকে (আইএমও) জানিয়েছে, 'শত্রুভাবাপন্ন নয়' এমন জাহাজগুলো ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স মঙ্গলবার ইরানের পাঠানো একটি চিঠির বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের যুদ্ধের কারণে বর্তমানে এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশের সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরণের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এই চিঠিটি গত রবিবার জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্য রাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তীতে মঙ্গলবার লন্ডনে অবস্থিত জাতিসংঘের জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত সংস্থা আইএমও-এর ১৭৬টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে এটি বিতরণ করা হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, 'অন্যান্য রাষ্ট্রের মালিকানাধীন বা সংশ্লিষ্ট জাহাজসহ যেসব জলযান শত্রুভাবাপন্ন নয়, তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবে। তবে শর্ত হলো—তাদের ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরণের আগ্রাসনে অংশ নেওয়া বা সমর্থন দেওয়া যাবে না এবং ঘোষিত সকল নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিধি পুরোপুরি মেনে চলতে হবে। এক্ষেত্রে যথাযথ ইরানি কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে এই জলপথ ব্যবহারের সুবিধা নেওয়া যাবে।'
এতে আরও বলা হয়, ইরান প্রয়োজনীয় ও সামঞ্জস্যপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে যাতে আক্রমণকারী পক্ষ ও তাদের সমর্থকরা হরমুজ প্রণালিকে ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক কার্যক্রমে ব্যবহার করতে না পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল বা আগ্রাসনে জড়িত অন্য পক্ষের জাহাজ, সরঞ্জাম বা সম্পদ 'নিরাপদ বা নিরীহ চলাচল'-এর সুবিধা পাবে না।
ব্রিটিশ দৈনিক ফিন্যান্সিয়াল টাইমস প্রথম জানায়, চিঠিটি মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
