বসন্তের ছুটিতে শিক্ষার্থীদের ‘প্রেমে পড়ার’ পরামর্শ দিল চীনের বিশ্ববিদ্যালয়
চীনে শিক্ষার্থীদের কাছে ভালো ফল বা গ্রেড পাওয়াই যেন জীবনের ধ্যানজ্ঞান। কিন্তু সেই দেশেই একটি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার বিরতির ছুটিতে বইখাতা সরিয়ে রেখে 'ফুল উপভোগ করার এবং প্রেমে পড়ার' পরামর্শ দিয়েছে।
দেশে বিয়ে ও অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় বাড়াতে কর্তৃপক্ষ যখন নানা উপায় খুঁজছে, ঠিক তখনই এমন একটি ব্যতিক্রমী নির্দেশনা এল।
সিচুয়ান সাউথওয়েস্ট ভোকেশনাল কলেজ অব এভিয়েশন তাদের অফিশিয়াল উইচ্যাট অ্যাকাউন্টে জানিয়েছে, আগামী ১ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত বসন্তকালীন ছুটির মূল থিম বা প্রতিপাদ্যই হলো 'ফুল দেখা এবং রোমান্স উপভোগ করা'।
মঙ্গলবার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বইপত্র দূরে সরিয়ে রাখার এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রথাগত গ্রীষ্ম ও শীতকালীন ছুটির পাশাপাশি স্কুলগুলোতে বসন্ত ও শরৎকালীন ছুটি চালুর সরকারি ঘোষণার প্রায় দুই সপ্তাহ পরই এই নোটিশ এল।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কর্মীরা যাতে ছুটির মূল মৌসুমের বাইরে বা কম ভিড়ের সময়ে ভ্রমণ করতে পারেন, সে জন্য তাদের পর্যায়ক্রমিক সবেতন ছুটি নিতেও উৎসাহিত করা হবে।
সিচুয়ান ও পূর্ব জিয়াংসুর মতো প্রদেশগুলোর পাশাপাশি সুজৌ এবং নানজিংয়ের মতো শহরগুলোও বসন্তকালীন ছুটির পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এর বেশিরভাগই এপ্রিল বা মে মাসের শুরুর দিকে নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভ্রমণ ও বিনোদনমূলক কার্যক্রম উৎসাহিত করার মাধ্যমে ১৪০ কোটি মানুষের এই দেশে অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় বাড়াতে চাইছে চীন।
কর্তৃপক্ষের আশা, মানুষের হাতে অবসর সময় বাড়লে তা জন্মহার বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে এবং ক্রমহ্রাসমান জনসংখ্যার উদ্বেগজনক পতন ঠেকানো সম্ভব হবে।
২০২৫ সালে টানা চতুর্থবারের মতো চীনের জনসংখ্যা কমেছে। এ সময় জন্মহার রেকর্ড তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, জনসংখ্যা কমার এই ধারা ভবিষ্যতে আরও তীব্র হতে পারে।
শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারক সংস্থা ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিফর্ম কমিশন (এনডিআরসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, শিশুবান্ধব উন্নয়ন উৎসাহিত করতে বেইজিং গত মঙ্গলবার একটি নির্দেশিকাও জারি করেছে।
এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে ভ্রমণ, খেলাধুলা ও বিনোদনের মতো বিভিন্ন সরকারি সেবার মানোন্নয়নের মাধ্যমে 'শিশুবান্ধব শহর' গড়ে তুলতে সমন্বিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চীনা ট্রাভেল কোম্পানি 'ট্রিপ'-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং বিশিষ্ট জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞ জেমস লিয়াং এ ধরনের আরও উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, সন্তান লালনপালনের জন্য সমাজে মানুষের পর্যাপ্ত সময় এবং অর্থের প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, 'বড় পরিবারের সামাজিক ও ব্যক্তিগত সুবিধাগুলো সম্পর্কে তরুণদের সচেতন করতে আরও জোরদার পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।'
তিনি মনে করেন, সম্পদের পুনর্বণ্টন এবং আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকার এ বিষয়ে একটি বৃহত্তর সহায়তামূলক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
