লারিজানিকে হত্যা ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করবে না: আরাগচি
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রভাবশালী সচিব আলি লারিজানিকে ইসরায়েলি বাহিনীর হত্যা ইরানের নেতৃত্বের জন্য কোনো মরণোত্তর আঘাত হবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখনো বুঝতে পারেনি যে ইরানের সরকার একক কোনো ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে না। বুধবার ভোরে তেহরানের পক্ষ থেকে লারিজানি হত্যার খবর নিশ্চিত করার পর এই সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হয়।
আরাগচি বলেন, 'আমি জানি না কেন আমেরিকান এবং ইসরায়েলিরা এখনো এই বিষয়টি বুঝতে পারেনি: ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক কাঠামো রয়েছে যেখানে সুপ্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি এই কাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলে না। অবশ্যই ব্যক্তিবর্গ প্রভাবশালী এবং প্রত্যেকেই নিজ নিজ ভূমিকা পালন করেন—কেউ ভালো বা কেউ মন্দ। কিন্তু আসল বিষয় হলো ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা একটি অত্যন্ত মজবুত কাঠামো।'
আরাগচি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বিশাল জাতীয় ক্ষতি সত্ত্বেও 'ব্যবস্থাটি সচল রয়েছে'। তিনি বলেন, 'আমাদের কাছে খোদ নেতার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেউ ছিল না। নেতা শহীদ হওয়ার পরও ব্যবস্থাটি সচল রয়েছে এবং অবিলম্বে তার স্থলাভিষিক্ত নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্য কেউ শহীদ হলেও চিত্রটি একই থাকবে। এমনকি পররাষ্ট্রমন্ত্রী শহীদ হলেও শেষ পর্যন্ত তার জায়গায় অন্য কেউ আসবে।'
৬৭ বছর বয়সী আলি লারিজানি ছিলেন নিহত আয়াতুল্লাহ খামেনি এবং তার ছেলে ও উত্তরসূরি মোজতবা খামেনির অত্যন্ত বিশ্বস্ত ব্যক্তি। গত ১৯ দিন আগে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে খামেনির পর লারিজানিই তেহরান নেতৃত্বের নিহত হওয়া সবচেয়ে উচ্চপদস্থ ব্যক্তিত্ব।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম মঙ্গলবার আইআরজিসি-র আধাসামরিক বাহিনী 'বাসিজ'-এর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলামরেজা সোলাইমানির মৃত্যুর খবরও নিশ্চিত করেছে। তিনি 'আমেরিকান-জায়নবাদী শত্রুর' হামলায় নিহত হন বলে জানানো হয়েছে। সোলাইমানিকে গত ছয় বছর ধরে ইরানের শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান এবং এই যুদ্ধের পাল্টা লড়াইয়ের অন্যতম প্রধান রূপকার হিসেবে দেখা হতো।
আল জাজিরার জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারা বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হত্যা করা যুদ্ধের কোনো স্বাভাবিক রীতি নয়। তিনি বলেন, 'যুদ্ধে আপনি নির্বাচিত নেতাসহ রাজনৈতিক নেতাদের হত্যা করে শুরু করেন না। এই গুপ্তহত্যার কর্মসূচি হলো গ্যাংস্টারদের মতো আচরণ এবং এটি সন্ত্রাসবাদ; যুদ্ধের রীতি এমন নয়।'
বিশারা মনে করেন, ইরানের ব্যবস্থাটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং একজন নেতাকে হত্যা করলেই এটি ভেঙে পড়বে না। তবে এ ধরনের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা এক ধরণের প্রভাব ফেলে।
এদিকে সাক্ষাৎকারে আরাগচি আবারও বলেন, এই যুদ্ধ তেহরানের পছন্দ নয় এবং এর জন্য শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী হতে হবে। তিনি বলেন, 'আমি আবারও বলছি: এই যুদ্ধ আমাদের যুদ্ধ নয়। আমরা এটি শুরু করিনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এটি শুরু করেছে এবং এই যুদ্ধের সমস্ত মানবিক ও আর্থিক পরিণতির জন্য তারাই দায়ী—সেটি ইরানের জন্য হোক, এই অঞ্চলের জন্য হোক বা পুরো বিশ্বের জন্য হোক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই এর জবাবদিহি করতে হবে।'
