যুদ্ধবিরতি অথবা যুদ্ধ—যেকোনো একটি বেছে নিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে; 'একসঙ্গে দুটি চলতে পারে না': ইরান
যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধবিরতি এবং 'ইসরায়েলের মাধ্যমে চলমান যুদ্ধের' মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে হবে বলে বুধবার সতর্ক করেছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন একই সাথে দুটি অবস্থান বজায় রাখতে পারে না। তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি মার্কিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, "ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো পরিষ্কার এবং সুনির্দিষ্ট: যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই বেছে নিতে হবে—যুদ্ধবিরতি না কি ইসরায়েলের মাধ্যমে চলমান যুদ্ধ। তারা একই সাথে উভয়টি করতে পারে না।"
লেবানন পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে আরাকচি আরও বলেন, "বিশ্ববাসী লেবাননের এই গণহত্যা দেখছে। এখন বল যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে এবং বিশ্ব তাকিয়ে আছে তারা তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করে কি না।"
এর আগে ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি একটি অভিজ্ঞ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, ইসরায়েল যদি লেবাননে হামলার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন অব্যাহত রাখে, তবে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সাথে করা এই সমঝোতা থেকে সরে দাঁড়াবে।
এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা বৈরুত, বেকা উপত্যকা এবং দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় 'মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে' ১০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। বর্তমান লেবানন অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এটিই ছিল তাদের বৃহত্তম সমন্বিত হামলা।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর আক্রমণের পাশাপাশি ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে বিমান ও স্থল অভিযান চালিয়ে আসছে। গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহর আন্তঃসীমান্ত হামলার প্রতিক্রিয়ায় তারা এই অভিযান শুরু করে, যদিও ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি সেখানে কার্যকর ছিল।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মঙ্গলবার ইরানের সাথে দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন। সে সময় ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তেহরান আলোচনার জন্য একটি 'কার্যকর' ১০-দফা প্রস্তাব পেশ করেছে।
ট্রাম্পের দেওয়া চূড়ান্ত সময়সীমা বা ডেডলাইন শেষ হওয়ার দুই ঘণ্টারও কম সময় আগে এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণাটি আসে। হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং চুক্তিতে রাজি হওয়ার জন্য ইরানকে বারবার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন ট্রাম্প। অন্যথায় দেশটিকে 'পুরো সভ্যতা ধ্বংস' করে দেওয়ার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলে তিনি হুমকি দিয়েছিলেন।
