ইরান যুদ্ধে পাশে না থাকায় ন্যাটোভুক্ত কিছু দেশকে ‘শাস্তি’ দেয়ার কথা ভাবছেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন ন্যাটো মিত্রদের শাস্তি দেওয়ার একটি পরিকল্পনা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছেন, যারা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
গত বুধবার (৮ এপ্রিল) ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনার অধীনে 'অপারেশন এপিক ফিউরি'-তে সহায়তা না করা ন্যাটো দেশগুলো থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়া হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন বা ন্যাটোর সদস্যদের শাস্তি দিতে হোয়াইট হাউসের বিবেচনায় থাকা বেশ কয়েকটি পরিকল্পনার মধ্যে এটি অন্যতম।
সম্প্রতি ট্রাম্প ন্যাটোর সদস্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নতুন করে মূল্যায়ন করার হুমকি দিয়েছেন। ইরান যুদ্ধে সহযোগিতা না করা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে জোটের ব্যর্থতার কারণেই তাঁর এই ক্ষোভ।
বুধবার রাতে ট্রুথ সোশ্যাল-এ এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, 'যখন আমাদের প্রয়োজন ছিল, তখন ন্যাটো সেখানে ছিল না। আর ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলেও তারা থাকবে না।' তিনি আরও লেখেন, 'গ্রিনল্যান্ডের কথা মনে আছে? ওই বিশাল, অগোছালো বরফের খণ্ডটা!!! প্রেসিডেন্ট ডিজেটি (ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প)।'
এই উত্তেজনার মধ্যেই বুধবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে। এই বিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে নিউইয়র্ক পোস্টকে কোনো মন্তব্য করেনি।
জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে প্রায় ৮৪ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। এই ঘাঁটিগুলো স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙা রাখার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক অভিযানের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। এছাড়া এরা রুশ আগ্রাসন প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রশাসনের দুজন কর্মকর্তা জানান, বিচেনাধীন ওই পরিকল্পনার অধীনে স্পেন অথবা জার্মানির কোনো মার্কিন ঘাঁটি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
ইরান অভিযানের সময় জড়িত মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলোর জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছিল স্পেন। অন্যদিকে, জার্মানির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টাইনমায়ার ইরান যুদ্ধকে একটি 'বিপর্যয়কর ভুল' হিসেবে বর্ণনা করে যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত করেছিলেন।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেসব দেশ থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে, তাদের পোল্যান্ড, রোমানিয়া, লিথুনিয়া এবং গ্রিসের মতো দেশে পুনঃমোতায়েন করা হতে পারে। এসব দেশ মার্কিন সেনা পেলে লাভবান হবে। ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে, এই দেশগুলো যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সমর্থন জুগিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ইরান মিশনে মার্কিন বিমানবাহিনীকে নিজেদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল রোমানিয়া।
ট্রাম্প ও রুটের সাক্ষাতের আগে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের জানান, জোট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে আসার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। লেভিট বলেন, 'এটি এমন একটি বিষয় যা নিয়ে প্রেসিডেন্ট আলোচনা করেছেন এবং আমার মনে হয়, আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি মহাসচিবের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা করবেন।'
লেভিট এরপর ন্যাটো নিয়ে ট্রাম্পের একটি বিবৃতি তুলে ধরেন: 'তাদের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল এবং তারা ব্যর্থ হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'গত ছয় সপ্তাহে ন্যাটো যেভাবে মার্কিন জনগণের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তা সত্যিই বেশ হতাশাজনক। অথচ এই মার্কিন জনগণই তাদের প্রতিরক্ষার জন্য অর্থ জোগান দিয়ে আসছে।'
ন্যাটোর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ট্রাম্প ও রুটের মধ্যে 'আমাদের অভিন্ন নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে, যার মধ্যে ইরানের প্রসঙ্গটিও ছিল।'
ওই মুখপাত্র আরও যোগ করেন, 'একটি আরও শক্তিশালী এবং ন্যায্য জোট গড়ে তুলতে মিত্রদের এগিয়ে আসার ধারা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিয়েছেন মহাসচিব।'
