রণক্ষেত্র থেকে রাজনীতির মাঠ: ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধে যেভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অ্যাডমিরাল কুপার
২০২৪ সালের গ্রীষ্ম। লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের জন্য তখন চরম এক আতঙ্কের সময়।
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে লাগাতার হামলা চালাচ্ছিল। বাধ্য হয়ে অনেক জাহাজকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ এড়িয়ে আফ্রিকার চারপাশ দিয়ে হাজার হাজার মাইল ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছিল।
আগস্ট মাসের মধ্যেই হুথিদের হামলায় দুটি জাহাজ ডুবে যায় এবং বেশ কয়েকজন ক্রু নিহত হন। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের হামলাও তাদের থামাতে পারছিল না।
এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) তৎকালীন সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ভাইস অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সমস্যাটি নিজের চোখে দেখতে চাইলেন।
প্রতিরক্ষা দপ্তরে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দপ্তরে কাজ করা ড্যান শাপিরো জানান, হুথিদের মোকাবিলার পরিকল্পনা তৈরির দায়িত্বে ছিলেন কুপার।
বাহরাইনভিত্তিক নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সাবেক কমান্ডার হিসেবে তিনি এই জলসীমা খুব ভালো করেই চিনতেন।
সমস্যাটি সরাসরি দেখার অর্থ ছিল, কুপারকে নিজের চেয়ে অনেক জুনিয়র কর্মকর্তাদের কমান্ডের অধীনে কাজ করতে হবে।
শাপিরো সিএনএনকে বলেন, 'জাহাজের কমান্ডারদের রিপোর্ট পড়ে বসে না থেকে তিনি সরাসরি তাদের সঙ্গে সমুদ্রে নেমেছিলেন।
তিনি নিজেকে বিপদের মুখে ফেলেছিলেন। এতেই বোঝা যায়, মাঠপর্যায়ের খবরাখবর এবং যুদ্ধকৌশলের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে, সে বিষয়ে তার উপলব্ধি কতটা প্রখর।'
দুই বছর পর সেই কুপার এখন একজন অ্যাডমিরাল। বর্তমানে তিনি সেন্টকমের দায়িত্বে রয়েছেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ যুদ্ধ পরিচালনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
২৮ ফেব্রুয়ারি এই অভিযান শুরু করার নির্দেশ দেওয়ার ঠিক আগের দিন, কুপার হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সম্ভাব্য সামরিক বিকল্পগুলো সম্পর্কে ব্রিফ করেছিলেন।
তবে ইরান যখন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা, উপসাগরীয় প্রতিবেশী এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালাচ্ছে, তখন এই যুদ্ধের শেষ কোথায় তা ক্রমশ অস্পষ্ট হয়ে উঠছে। আর এর সঙ্গে জড়িত ঝুঁকিগুলোও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সেন্টকমের সাবেক কমান্ডার জেনারেল নরম্যান শোয়ার্জকফ এবং ডেভিড পেট্রাউসের মতো, যারা আগে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন, কুপারও এখন একটি চূড়ান্ত বিজয় এনে দেওয়ার জন্য প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রয়েছেন।
তাকে এমন একটি যুদ্ধ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা পেন্টাগনে কয়েক বছর ধরেই কোনো না কোনোভাবে ছিল। কিন্তু এর ভয়াবহ পরিণতির কথা ভেবেই হয়তো আগের প্রেসিডেন্টরা এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সাহস দেখাননি।
বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি চলাচলের পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
১৩ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত এবং আরও ১৪০ জন আহত হয়েছেন। এদিকে, ইরানের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে মার্কিন হামলায় ১৬৮ জন শিশু নিহত হওয়ার ঘটনায় ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের নেতারাই জবাবদিহিতা দাবি করছেন।
যুদ্ধ শেষ করার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এই সামরিক অভিযানকে সঠিক পথে রাখার দায়িত্ব এখন কুপারের কাঁধেই, তা যতদিনই লাগুক না কেন।
কুপারের সঙ্গে কাজ করেছেন এমন সূত্রগুলো বলছেন, এই মুহূর্তের জন্য তিনি বিশেষভাবে যোগ্য। শুধু তার রণকৌশলের জন্যই নয়, বরং তার রাজনৈতিক বিচক্ষণতার কারণেও।
তিনি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাল পরিস্থিতি এবং ওয়াশিংটনের ক্ষমতার করিডোর, দুটিই সমান দক্ষতায় সামলাতে জানেন। তবে সেন্টকমের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই প্রতিবেদনের জন্য কুপার সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হননি।
কিন্তু বর্তমান ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তা, প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা, আইনপ্রণেতা এবং কংগ্রেসের সহযোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় যে, তিন দশকেরও বেশি সময়ের নৌ-ক্যারিয়ারে কুপার যেমন তার বাজেটের তদারকি করা কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গে, তেমনি মধ্যপ্রাচ্যে মিত্র দেশগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গেও অত্যন্ত সফলভাবে কাজ করেছেন।
বিশেষ করে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যৌথ সামরিক অভিযান পরিচালনাকারী ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) ক্ষেত্রে এটি শতভাগ সত্য।
পঞ্চম নৌবহরে কুপারের মেয়াদকাল সম্পর্কে ইসরায়েলের এক বর্তমান সামরিক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, 'ওই অঞ্চলে পাঁচ বছর কাটানোর পর ইসরায়েলে এমন কোনো জেনারেল ছিলেন বলে আমার মনে হয় না যিনি তাকে চিনতেন না।'
কুপার এতবার ইসরায়েল সফর করেছেন যে অনেক ইসরায়েলি কর্নেলের নামও তার মুখস্থ ছিল বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
তিনি আরও জানান, কুপার প্রায় প্রতিদিনই, আর কখনো কখনো দিনে কয়েকবার ইসরায়েলি সেনাপ্রধান লে. জেনারেল হারজি হালেভির সঙ্গে কথা বলতেন।
একজন সামরিক কর্মকর্তার জন্য এটি বেশ বিরল ঘটনা হলেও, গত মাসে ওমানে ইরানের সঙ্গে পরোক্ষ কূটনৈতিক আলোচনায় কুপার ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন।
কুপারের আমন্ত্রণে কুশনার এবং উইটকফ পরের দিন ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরীও পরিদর্শন করেন।
'তিনি সবাইকে খুশি রাখতে জানেন'
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার দুই মাস পর, ২০২৫ সালের আগস্টে সেন্টকমের দায়িত্ব নেন কুপার। সেন্টকমের নেতৃত্বে আসা তিনি মাত্র দ্বিতীয় নৌ-অ্যাডমিরাল।
কর্মকর্তারা বলছেন, কুপার তার পূর্বসূরি অবসরপ্রাপ্ত আর্মি জেনারেল মাইকেল 'এরিক' কুরিলার সম্পূর্ণ বিপরীত। কুরিলার ব্যক্তিত্ব কিছুটা রূঢ় ছিল এবং তিনি মূলত পর্দার আড়ালে থাকতেই পছন্দ করতেন। অন্যদিকে, কুপার পাদপ্রদীপের আলোয় থাকতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
স্পেশাল অপারেশন ফোর্সের কমান্ডিংসহ সামরিক ক্যারিয়ারের কারণে কুরিলা সেনাবাহিনীর একটি অংশের কাছে প্রায় মিথ বা রূপকথার নায়কের মতো।
ইরাকে একাধিকবার গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও তিনি লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন। একজন সাবেক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, কুরিলা যখন কোনো ঘরে থাকতেন, তখন 'কে ইনচার্জ বা দায়িত্বে আছেন, তা নিয়ে কারও সন্দেহ থাকত না।'
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, কুরিলা একজন 'অসাধারণ অপারেটর' ছিলেন।
কিন্তু কুপার যিনি শারীরিক গড়নে কিছুটা ছোট এবং শান্ত স্বভাবের, যার ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময় কেটেছে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে, তিনি কুরিলার চেয়ে অনেক দ্রুত তার কাজের রাজনৈতিক দিকগুলোর সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছেন।
সাবেক ওই কর্মকর্তা বলেন, 'তিনি একজন রাজনীতিবিদের মতো, সবার সাথে হাত মেলান, আপনি যা-ই বলুন না কেন তা মনোযোগ দিয়ে শোনেন, মানুষের নাম মনে রাখেন, চার তারকার বা ফোর-স্টার জেনারেল হিসেবে কীভাবে চলতে হয়, তা তিনি কুরিলার চেয়ে অনেক ভালো বোঝেন।'
ওই কর্মকর্তার মতে, কুপারের অধীনে সেন্টকমের বার্তাগুলো কিছুটা বেশি রাজনৈতিক হয়ে উঠেছে। তাদের প্রেস রিলিজ এবং ভিডিওগুলোতে ট্রাম্পের নাম বেশি উল্লেখ করা হচ্ছে।
তার ব্যবহৃত ভাষাও অনেক সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের মতো শোনায়। ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হওয়ার সময় কুপার তার সৈন্যদের 'ভয়ংকরভাবে প্রাণঘাতী' হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যে শব্দটি হেগসেথ এবং তার পেন্টাগন দল প্রায়ই ব্যবহার করেন।
সাবেক ওই প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, 'তিনি সবাইকে খুশি রাখতে জানেন। তার সাক্ষ্য দেওয়ার সময় সেটা স্পষ্ট বোঝা যায় তার মধ্যে আলাবামার সেই 'বিনয়ী ভঙ্গি' রয়েছে।'
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর গাজা যুদ্ধ শুরু হলে কুরিলা এবং কুপার ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছিলেন।
বাইডেন প্রশাসনের সময় কুপারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকার সাবেক হোয়াইট হাউস সমন্বয়ক ব্রেট ম্যাকগার্ক বলেন, 'মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে সম্ভবত অন্যতম চ্যালেঞ্জিং সময়ে এরিক এবং ব্র্যাড এক দারুণ দল হিসেবে কাজ করেছেন।'
বর্তমানে সিএনএন-এর বৈশ্বিক বিষয়ক বিশ্লেষক ম্যাকগার্ক আরও বলেন, 'সেই সময়ে আমরা যা মোকাবিলা করেছিলাম, তার আসল গল্প ইতিহাস এখনও লেখেনি। ইরান তখন মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে নতুন ফ্রন্ট খুলছিল, ইরাক, সিরিয়া, জর্ডানে আমেরিকান কর্মীদের ওপর এবং লোহিত সাগরে আমেরিকান জাহাজে হামলা চালাচ্ছিল।'
সিএনএনকে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ বলেন, কুপারের ওপর তার 'পূর্ণ আস্থা' রয়েছে। তিনি আরও বলেন, কুপারের 'অঞ্চলের গভীর বোঝাপড়া এবং লড়াইয়ের প্রতি মনোযোগ মিশনটির জন্য অপরিহার্য এবং আজ 'অপারেশন এপিক ফিউরি'-তে সমর্থনকারী আমাদের যোদ্ধাদের ধারাবাহিক সাফল্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।'
হেগসেথ বলেন, কুরিলার তত্ত্বাবধানে গত গ্রীষ্মে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার 'পূর্ণ সাফল্য' ছাড়া বর্তমান অভিযান সম্ভব হতো না। হেগসেথ বলেন, 'উভয় কমান্ডারের অধীনেই সেন্টকম মূল আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করেছে, পাশাপাশি আমাদের বাহিনীকে হুমকি মোকাবিলা এবং আমেরিকান স্বার্থ রক্ষায় ফোকাস রেখেছে।'
সাবেক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, কুরিলা অবসরে যাওয়ার সময় কুপার যাতে এই দায়িত্ব পান, সেজন্য তিনি তদবির করেছিলেন। অন্যান্য নাম প্রস্তাব করা হলেও তিনি ট্রাম্পকে সরাসরি বলেছিলেন কুপারকেই পরবর্তী সেন্টকম কমান্ডার করা উচিত। ট্রাম্প কুরিলাকে সম্মান করতেন, তাই তিনি তার সুপারিশ গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেন।
ওয়াশিংটনের রাজনীতির মাঠে
পেশাদার এক সেনা কর্মকর্তার ছেলে কুপার ১৯৮৯ সালে ইউএস নেভাল একাডেমি থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। তিনি হার্ভার্ড এবং টাফটস ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স ইউনিভার্সিটি থেকে স্ট্র্যাটেজিক ইন্টেলিজেন্স বা কৌশলগত গোয়েন্দা বিদ্যায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেছেন।
কুপারের ক্যারিয়ারে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং বাহরাইনভিত্তিক কমান্ডের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের নেতৃত্ব দেওয়ার আগে তিনি সেখানে বেশ কয়েকটি কমান্ডের দায়িত্ব পালন করেছেন।
ওয়াশিংটনে তিনি হোয়াইট হাউস এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর কার্যালয়ে নির্বাহী ও সামরিক সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি নৌবাহিনীর আইনী বিষয়ক বা লেজিসলেটিভ অ্যাফেয়ার্স দপ্তরের প্রধান ছিলেন।
বারাক ওবামার অধীনে হোয়াইট হাউসে সামরিক সহকারী হিসেবে কুপার তৎকালীন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামার একটি উদ্যোগের দায়িত্বে ছিলেন। প্রেসিডেন্ট যখন ইরাক থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার করছিলেন, তখন ভেটেরান বা সাবেক সেনাদের চাকরি এবং শিক্ষার ব্যবস্থা করাই ছিল ওই উদ্যোগের লক্ষ্য।
নৌবাহিনীর আইনী বিষয়ক দপ্তরে কাজ করার সুবাদে কুপার কংগ্রেসের সেই কমিটিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করেছিলেন, যারা এখন ইরানে মার্কিন যুদ্ধের তদারকি করছে এবং এর জন্য যেকোনো অতিরিক্ত ব্যয়ের অনুরোধ পর্যালোচনা করছে।
হাউজ আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান এবং টেক্সাসের রিপাবলিকান প্রতিনিধি ম্যাক থর্নবেরি বলেন, এই কাজটি সিনিয়র কমান্ডারদের ওয়াশিংটনের 'রাজনৈতিক' জলসীমায় পথ চলতে শিখতে সাহায্য করে।
থর্নবেরি বলেন, 'আমাদের যেকোনো কমব্যাট্যান্ট কমান্ডারকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয় যা অনেক যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে যায়। লেগ (অ্যাফেয়ার্স) জব বা আইনী বিষয়ক কাজ তাদের এই বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতন হতে সাহায্য করে।
তাছাড়া, পরিষ্কারভাবেই এটি তাদের তহবিল কোথা থেকে আসে তা সরাসরি দেখতে সাহায্য করে।'
পঞ্চম নৌবহরের দায়িত্ব নেওয়ার পর কুপার আরও বেশি আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে দেখা করতে শুরু করেন। সামরিক বিষয়ে সক্রিয় হাউসের এক ডেমোক্র্যাট কুপারকে 'স্মার্ট এবং চিন্তাশীল' বলে প্রশংসা করেছেন।
তিনি হরমুজ প্রণালিতে ড্রোন ব্যবহার করে কুপারের নেতৃত্বে একটি উদ্ভাবনী টাস্কফোর্সের কথা উল্লেখ করেন।
কংগ্রেসের এক ডেমোক্র্যাটিক সহযোগী সিএনএনকে বলেন, 'তিনি স্পষ্টভাষী হিসেবে পরিচিত।
আমার মনে হয় ক্যাপিটল হিলের সবাই মানুষ হিসেবে তাকে পছন্দ করেন। আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, তিনি পেশাদার এবং খুব খোলামেলা।'
ইসরায়েলের সাথে গভীর সম্পর্ক
কুপারের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা এক সাবেক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তার মতে, বছরের পর বছর ধরে ইসরায়েলের সাথে কুপারের গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, যা 'তার হৃদয় থেকে' আসে।
এই সম্পর্কের শুরু কুপার যখন পঞ্চম নৌবহরের কমান্ডার ছিলেন তখন থেকে।
সাবেক ওই ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা বলেন, 'ইসরায়েলি নৌবাহিনীর সাথে তার অভূতপূর্ব সহযোগিতা ছিল।
সে সময় অন্যতম প্রধান সিদ্ধান্ত ছিল ইসরায়েলি নৌবাহিনীতে একজন আমেরিকান লিয়াজোঁ অফিসার এবং মানামায় নৌ ঘাঁটিতে একজন ইসরায়েলি লিয়াজোঁ অফিসার নিয়োগ দেওয়া, যা অংশীদারিত্বের গভীরতা প্রমাণ করে।'
তিনি আরও জানান, কুপার ওই অঞ্চলের নৌবাহিনীগুলোর মধ্যে বৈঠকের আয়োজন করেন এবং নৌ কমান্ডারদের যুক্ত করে 'সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একটি আঞ্চলিক মেরিটাইম ওয়াচ' বা নজরদারি ব্যবস্থা তৈরি করেন।
ইসরায়েলের সাথে কুপারের সম্পর্ক পেশাদারিত্বের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে। নভেম্বরে তিনি ইসরায়েলি আমেরিকান জিম্মি ওমার নিউট্রার শেষকৃত্যে বক্তব্য রাখেন।
গাজায় দুই বছরের যুদ্ধের পর হামাস তার দেহাবশেষ হস্তান্তর করে। কুপার বলেন, 'ওমার এমন এক চূড়ান্ত আত্মত্যাগ করেছে, যা আমরা আশা করি কোনো সেনাকে কখনো করতে হবে না। তবে বৃহত্তর স্বার্থে অনেকেই এই আত্মত্যাগ করেছেন।'
২০২৪ সালের এপ্রিলে ইরান যখন প্রথমবারের মতো ইসরায়েলে ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ড্রোন হামলা চালায়, তখন কুরিলা পুরো মধ্যপ্রাচ্য চষে বেড়িয়েছিলেন।
ইসরায়েলের সাথে সব দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও তিনি দেশগুলোকে নিয়ে একটি আঞ্চলিক মিসাইল প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিলেন।
গত আগস্টে কুপার যখন সেন্টকমের প্রধান হিসেবে পদোন্নতি পান, তখন তিনি কুরিলার রেখে যাওয়া কাজ এগিয়ে নেন।
কর্মকর্তারা সিএনএনকে বলেছেন, তার পূর্বসূরি যে সম্পর্কগুলো তৈরি করেছিলেন, তিনি সেগুলোকে আরও গভীর করেছেন।
ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা জানান, গত জুনে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের অভিযানের পর কুপার নিজেই এর পর্যালোচনা বা ডিব্রিফিং করেন।
এ সময় তিনি তার পূর্বসূরির সঙ্গেও যোগাযোগ রেখেছিলেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, দুই দেশ পরবর্তী সংঘাতের ক্ষেত্রে কীভাবে 'সহযোগিতা এবং সমন্বয়' করা যায় তা নিয়ে আলোচনা শুরু করে।
তারা তাদের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে নেয় এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন দৃশ্যপট নিয়ে চিন্তাভাবনা করে।
এই আলোচনাগুলোই গত মাসে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পটভূমি তৈরি করেছিল।
একজন ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা বলেন, 'এটি বেশ সহায়ক যে আপনাদের মনোভাব একই এবং নাটকীয়ভাবে কোনো পরিবর্তন হয়নি। আর নতুন কমান্ডার আগের কমান্ডারের পথ ধরেই এগিয়ে চলেছেন।'
