মার্কিন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় অস্কারে যেতে পারছেন না ফিলিস্তিনি অভিনেতা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের দেওয়া ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে আসন্ন একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বা অস্কার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারছেন না ফিলিস্তিনি অভিনেতা মোতাজ মালহিস।
এবারের অস্কারে সেরা আন্তর্জাতিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে তার অভিনীত একটি ছবি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় এই মর্যাদাপূর্ণ আসরে তার অংশ নেওয়া হচ্ছে না।
চলচ্চিত্রটির নাম 'দ্য ভয়েস অব হিন্দ রাজাব'। ২০২৪ সালে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় নিহত পাঁচ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রাজাবকে নিয়ে এই ছবি তৈরি হয়েছে।
এতে মালহিস একটি কল সেন্টারের কর্মীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যিনি ওই শিশুটিকে সাহায্য করার চেষ্টা করেন।
ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে মালহিস বলেন, 'ফিলিস্তিনি নাগরিক হওয়ার কারণে আমাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। অস্কারে যেতে না পারার বিষয়টি আমাকে ব্যথিত করেছে।'
গত ডিসেম্বরে বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ সীমিত করার এক ঘোষণায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, 'ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের ইস্যু করা বা অনুমোদিত ভ্রমণ নথিপত্র ব্যবহার করে যারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে চান, তাদের ওপর আমি সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ও বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে কিছু দেশের নাগরিকদের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়, যা চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পররাষ্ট্র দপ্তরের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
ছবিটির গল্প যে বাস্তব ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি, তা অত্যন্ত মর্মান্তিক। ইসরায়েলি হামলায় শিশু হিন্দ রাজাবের সঙ্গে তার পরিবারের আরও পাঁচ সদস্য নিহত হয়।
এমনকি তাকে বাঁচাতে যাওয়া দুজন অ্যাম্বুলেন্স কর্মীও ইসরায়েলি গুলিতে প্রাণ হারায়। ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা ঘটনাটি পর্যালোচনা করে দেখছে।
মালহিস জানিয়েছেন, ছবির অন্যান্য ফিলিস্তিনি অভিনয়শিল্পীদের এমন দেশের নাগরিকত্ব রয়েছে যা দিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করতে পারবেন। কিন্তু তার কাছে কেবল ফিলিস্তিনি পাসপোর্টই রয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিলিস্তিনপন্থী বিদেশি কণ্ঠস্বরগুলোকে বিতাড়িত করারও চেষ্টা চালাচ্ছেন ট্রাম্প।
শুক্রবার এক অভিবাসন বিচারক লেকা কোর্ডিয়াকে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন।
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিজের পরিবারের ১৭০ জনেরও বেশি সদস্যকে হারিয়েছেন লেকা এবং তিনি এক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে আটক আছেন।
এর আগে দুবার মুক্তির আদেশ দেওয়া হলেও তাকে এখনো মুক্তি দেওয়া হয়নি।
