কে এই বালেন্দ্র শাহ? ৩৫ বছর বয়সী যে র্যাপ তারকা হতে যাচ্ছেন নেপালের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী
গত বছর 'জেন জি' বা প্রজন্মের তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা গণ-অভ্যুত্থানে এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিলেন নেপালি র্যাপ তারকা বালেন্দ্র শাহ। সাম্প্রতিক সংসদীয় নির্বাচনে তার দলের বিশাল জয়ের পর এখন তিনিই দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন।
নেপালের নির্বাচন কমিশনের দেওয়া আংশিক ফলাফলে দেখা গেছে, বালেন্দ্র শাহের মধ্যপন্থী দল 'রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি' (আরএসপি) ভোট গণনায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছে। মাত্র চার বছর আগে এই দলটি গঠিত হয়।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর খবর অনুযায়ী, ফেডারেল পার্লামেন্টের প্রতিনিধি পরিষদের ১৬৫টি সরাসরি নির্বাচিত আসনের মধ্যে দলটি ইতিমধ্যেই ১১৭টি আসন নিশ্চিত করেছে। এছাড়া সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের আসন বরাদ্দের ক্ষেত্রে দলীয় ভোটের তালিকাতেও তারা এগিয়ে আছে।
৩ কোটি জনসংখ্যার এই হিমালয়কন্যার রাজনীতিতে এটি এক অভাবনীয় পটপরিবর্তন। চারবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রবীণ রাজনীতিক খড়্গ প্রসাদ শর্মা ওলিকে হারিয়ে এই জয় ছিনিয়ে এনেছেন শাহ।
৭৪ বছর বয়সী ওলি এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক পোস্টে শাহকে অভিনন্দন জানিয়ে তার 'সফল' মেয়াদ কামনা করেছেন।
কাঠমান্ডুর ৩৫ বছর বয়সী বাসিন্দা সাকিনা ভাট এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রত্যক্ষদর্শী। শাহের নেতৃত্বে দেশটিতে অভাবনীয় এক পরিবর্তনের আশা করছেন তিনি।
তিনি দ্য ইনডিপেনডেন্টকে বলেন, "এটি সত্যিই এক অন্যরকম অনুভূতি। কারণ আগে যখনই নির্বাচন হতো, আমরা খুব একটা টেরই পেতাম না। এমন উদ্দীপনা আগে কখনো দেখিনি। কিন্তু এবার মনে হলো এত মানুষ রাজনীতিতে অংশ নিচ্ছে, আগ্রহ দেখাচ্ছে।"
১৯৯০-এর দশক থেকে নেপালের রাজনীতি মূলত কয়েকটি প্রতিষ্ঠিত দলের হাতেই বন্দি ছিল। নেপালি কংগ্রেস এবং কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল (ইউনিফাইড মার্কসিস্ট-লেনিনিস্ট) বা ইউএমএল-এর নেতারাই এতকাল ঘুরেফিরে ক্ষমতায় এসেছেন।
মানুষের মনে এই নতুন আশার আলো জাগানোর মূল কৃতিত্ব দেওয়া হচ্ছে শাহকে, যিনি দেশজুড়ে 'বালেন' নামেই বেশি পরিচিত। বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় আরএসপি-র এই প্রধানমন্ত্রী প্রার্থীর সমর্থকরা তাকে ফুলের মালা, তোড়া আর স্কার্ফ দিয়ে বরণ করছেন, আবির মাখিয়ে বিজয় উদযাপন করছেন।
কাঠমান্ডুতে দলের সদর দপ্তরে আরএসপি-র সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবী খগেন্দ্র চাপাগাইন এপিকে বলেন, "ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী (শাহ) স্পষ্ট করে বলেছেন, দেশের উন্নয়নের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।"
র্যাপার থেকে রাজনীতির মাঠে
সোশ্যাল মিডিয়া আর প্রতিষ্ঠানবিরোধী আন্দোলনের এই যুগেও ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহের উত্থানের গল্পটা একটু অন্যরকম। তিনি পেশায় একজন প্রশিক্ষিত সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, কিন্তু প্রথম পরিচিতি পান র্যাপ গায়ক হিসেবে। এরপর তিনি কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হন। আর গত বছর দেশ কাঁপানো তরুণদের আন্দোলনে তিনি হয়ে ওঠেন অন্যতম প্রধান মুখ।
তরুণ ভোটারদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণের সময়ই তার উত্থান। তরুণদের অভিযোগ ছিল—নেপালের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলো দুর্নীতিগ্রস্ত, তারা শুধু নিজেদের লোকদের সুবিধা দেয় এবং বেকারত্ব দূর করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।
সাকিনা ভাট শাহকে ২০০১ সালের জনপ্রিয় হিন্দি সিনেমা 'নায়ক'-এর প্রধান চরিত্রের সঙ্গে তুলনা করেন। ওই সিনেমায় একজন সাধারণ মানুষ এক দিনের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়েছিলেন।
তিনি বলেন, "বালেন আমাকে 'নায়ক' সিনেমার কথাই বারবার মনে করিয়ে দেন। কারণ তিনি এমন সব কাজ করেছেন যা ক্ষমতাধরদের ক্ষুব্ধ করেছে। যেমন অবৈধ ঘরবাড়ি ও ইমারত ভেঙে সরকারি জমি উদ্ধার করা এবং রাস্তাঘাট বানানো। ওই সিনেমায় অনিল কাপুর যেমনটা করেছিলেন, তিনিও অনেকটা তেমনই করেছেন।"
তবে নেপালের এক বৈমানিক সুদীপ বিস্টা শাহের এই উত্থান নিয়ে কিছুটা সন্দিহান।
তিনি দ্য ইনডিপেনডেন্টকে বলেন, "এ যাবৎ আমরা বালেনকে শুধু কাঠমান্ডুর স্থানীয় সমস্যা সামলাতেই দেখেছি। তিনি নির্ভীক ছিলেন এবং গত কয়েক দশকের জমে থাকা সমস্যা সমাধানে বদ্ধপরিকর ছিলেন। তিনি সাধারণ মানুষের বিশাল সমর্থনও পেয়েছেন এবং শেষমেশ এই বিশাল জনাদেশ নিয়ে আবির্ভূত হয়েছেন।"
তবে ২০২৩ সালের নভেম্বরে কাঠমান্ডুর মেয়র থাকা অবস্থায় শাহ এক বড় ধরনের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক ঝড়ের জন্ম দিয়েছিলেন। ফেসবুকে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন এবং নেপালের রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে অকথ্য ভাষা ব্যবহার করে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন। তিনি লিখেছিলেন: "ফ*** আমেরিকা, ফ*** ইন্ডিয়া, ফ*** চীন, ফ*** ইউএমএল, ফ*** কংগ্রেস, ফ*** আরএসপি, ফ*** আরপিপি, ফ*** মাওবাদী। গোল্লায় যাও সবাই, তোমরা সবাই মিলেও কিচ্ছু করতে পারো না।"
হিন্দুস্তান টাইমসের খবর অনুযায়ী, এই পোস্টের পর রাজনৈতিক নেতা ও সাধারণ মানুষের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। অনেকেই বলেছিলেন, যিনি প্রধানমন্ত্রীর পদে লড়তে চান, তার দিক থেকে এমন মন্তব্য 'দায়িত্বহীনতার চরম সীমা'। পরে শাহ তার পোস্টটি মুছে ফেলেন।
বিস্টা বলেন, "কাজের ক্ষেত্রে বা বক্তৃতায় তিনি মাঝে মাঝেই খুব সোজাসাপ্টা কথা বলেন... কিন্তু আন্তর্জাতিক মঞ্চে তিনি কীভাবে সামলাবেন... সেটাই হবে আসল চ্যালেঞ্জ।"
'নেপাল হাসছে'
নির্বাচনী রাজনীতিতে আসার আগে শাহ মূলত নেপালের হিপ-হপ সংগীতের এক পরিচিত নাম ছিলেন।
২০১৩ সালে 'র বারজ' (Raw Barz) নামের একটি র্যাপ ব্যাটেলে অংশ নিয়ে তিনি প্রথম জাতীয় স্তরে নজর কাড়েন। এই পারফরম্যান্স তাকে দেশের সংগীত জগতে পরিচিতি এনে দেয়। রাজনৈতিক দুর্নীতি ও সামাজিক বৈষম্যের কঠোর সমালোচনা করে গাওয়া তার গানগুলো ধীরে ধীরে শ্রোতাদের মনে জায়গা করে নেয়।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার সংগীত তরুণ নেপালিদের মধ্যে এক রাজনৈতিক অনুসারী গোষ্ঠী তৈরি করে। তার একটি গান 'নেপাল হাসেকো' (হাসছে নেপাল) পরে ২০২৫ সালে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া প্রতিবাদী আন্দোলনের এক অঘোষিত সঙ্গীতে পরিণত হয়।
নেপালি ভাষার ওই গানে বলা হয়েছে: "যে সমাজে সুখ নেই, তার কী দরকার? চলো অন্ধকার অতীত মুছে ফেলি, এক বিপ্লব গড়ি, তোমরা (জনগণ) তোমরাই তো সবকিছুর মালিক।"
আন্দোলনের সময় গানটি অনলাইনে ব্যাপকভাবে শেয়ার করা হয় এবং ইউটিউবে এক কোটিরও বেশি ভিউ পায়।
দুর্নীতি ও দায়মুক্তির বিরুদ্ধে গাওয়া তার আরেকটি গান 'বলিদান'ও লাখ লাখ ভিউ পেয়েছে।
সাকিনা ভাট বলেন, শাহের র্যাপে নেপালের প্রতি তার গভীর উপলব্ধির ছাপ রয়েছে।
তিনি বলেন, "তার বেশিরভাগ র্যাপেই দেশের দুর্নীতি এবং তরুণদের কাজের খোঁজে বিদেশে পাড়ি দেওয়ার কষ্ট ফুটে উঠেছে। র্যাপাররা আসলে সমাজের গভীর পর্যবেক্ষক। তারা যা-ই গান, তার মধ্যে একটা সত্য লুকিয়ে থাকে।"
তিনি আরও বলেন, "বালেন নিজের দেশকে বোঝেন, দেশের মানুষকে বোঝেন এবং তরুণদের আবেগ-অনুভূতিও খুব ভালো করে জানেন।"
গালভরা দাড়ি, কালো পোশাক আর ট্রেডমার্ক কালো রোদচশমায় (সানগ্লাস) শাহের যে জনসমক্ষে ভাবমূর্তি, তা তরুণদের কাছে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
শোনা যায়, একসময় কাঠমান্ডুর দোকানগুলোতে তার পরা সানগ্লাসের মতো চশমার আকাল পড়েছিল। অনলাইনে সেগুলো 'বালেন শাহ গ্লাস' নামে বিক্রি হচ্ছিল।
ভাট হেসে বলেন, "অনেক মেয়েরই তার ওপর ক্রাশ আছে।"
'মেয়র' বালেন
২০২২ সালে সংগীতের জগত থেকে রাজনীতিতে পা রাখেন শাহ।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি ৬১,৭৬৭ ভোট পেয়ে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচনে জয়ী হন। তিনি নেপালি কংগ্রেস (৩৮,৩৪১ ভোট) এবং ইউএমএল (৩৮,১১৭ ভোট) প্রার্থীদের পেছনে ফেলে দেন। এই চমকপ্রদ ফলাফল মূলত রাজধানীর মানুষের প্রতিষ্ঠানবিরোধী ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ছিল।
মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় শাহ শহরের ব্যবস্থাপনার উন্নতিতে বেশ কিছু উদ্যোগ নেন। দীর্ঘদিনের ময়লা ফেলার সমস্যা সমাধানে তিনি বেসরকারি কোম্পানি এবং নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের সাথে মিলে রাস্তায় জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কারের ব্যবস্থা করেন।
মেয়রের নির্বাহী ক্ষমতাবলে পরিচালিত কাঠমান্ডু মেট্রোপলিটন সিটি অফিসের মুখপাত্র নবীন মানন্ধর কাঠমান্ডু পোস্টকে বলেন, "পুরো শহরজুড়েই ব্যাপক অনিয়ম ছিল। বেসমেন্টের পার্কিংয়ে ব্যবসা চলছিল, কোনো নকশার অনুমোদন ছাড়াই ভবন তৈরি হচ্ছিল। এর বেশিরভাগ অনিয়মই দূর করা হয়েছে এবং বাকিগুলোর ওপর নজরদারি চলছে।"
তবে তার কাজের ধরন সমালোচিতও হয়েছে। অবৈধ স্থাপনা ভাঙা এবং নদীর পাড় থেকে দখলদারদের উচ্ছেদের সময় অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে তার কিছু নীতি বেশ কঠোর ছিল। এছাড়া ফুটপাতে অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করে রাস্তা পরিষ্কার রাখার চেষ্টায় হকারদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের সমালোচনা করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
সরকারি স্কুল সংস্কারেও তিনি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। একসময় স্বজনপ্রীতির অভিযোগে দুষ্ট বেসরকারি স্কুলগুলোতে এখন মেধা, সামাজিক অনগ্রসরতা এবং আগে সরকারি স্কুলে পড়ার ওপর ভিত্তি করে অনলাইনে বৃত্তির ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
শিক্ষা খাত তদারকির দায়িত্বে থাকা সুরেন্দ্র বাজগাইন বলেন, "কাঠমান্ডু মেট্রোপলিটন সিটির স্কুলগুলোতে বৃত্তির ক্ষেত্রে যে স্বচ্ছতা আনা হয়েছে, তা এই স্থানীয় সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।"
প্রজন্মের বদল
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের ব্যাপক ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পরই নেপালের এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।
ওলি সরকার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো নিষিদ্ধ করার পর এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। এই সিদ্ধান্তটি তরুণদের মধ্যে দুর্নীতি, বৈষম্য এবং সুযোগের অভাব নিয়ে জমে থাকা দীর্ঘদিনের ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলে দেয়। দ্রুত তা এক বিশাল বিক্ষোভে রূপ নেয়।
আল জাজিরার খবর অনুযায়ী, এই সংঘাতে অন্তত ৭৭ জন নিহত হন, যাদের অনেকেই পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান। সংঘাতের সময় সরকারি ভবন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানেও হামলা চালানো হয়।
এই সংকটের মুখে ওলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এই আন্দোলন নেপালের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে পুরোপুরি বদলে দেয়। তরুণ ভোটাররা এই নির্বাচনকে পুরোনো ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করার এক বড় সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে।
শাহ পূর্ব নেপালের ঝাপা-৫ আসন থেকে নির্বাচনে দাঁড়ান, যা দীর্ঘদিন ধরে ওলির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। আর সেখানেই প্রবীণ এই রাজনীতিককে শোচনীয়ভাবে হারিয়ে দেন তিনি। শাহ পান ৬৮,৩৪৮ ভোট, আর ওলির ঝুলিতে যায় মাত্র ১৮,৭৩৪ ভোট।
সমর্থকদের কাছে এই ফলাফল প্রজন্মের বদলের প্রতীক।
নতুন দলের সামনে পাহাড়সম প্রত্যাশা
আরএসপি তাদের প্রচারণায় বড় বড় সমাবেশের পাশাপাশি তরুণ ভোটারদের টানতে ডিজিটাল কৌশলকেও দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে।
তাদের কৌশল নির্ধারণী দল এবং শত শত প্রচারকর্মী বিভিন্ন জেলায় রোড শো করেছেন এবং দলের অনলাইন প্রচারণার দিকটি সামলেছেন। সমর্থকরা এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি প্রচারণার গান বানিয়েছেন, যা সমাবেশে বাজানো হয়েছে।
শাহ নিজে গতানুগতিক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়া এড়িয়ে গেছেন। এর বদলে তিনি সোশ্যাল মিডিয়া, পডকাস্ট এবং টিভিতে কথা বলেছেন। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তার লাখ লাখ অনুসারী রয়েছে।
নেপালের জনসংখ্যার ৪০ শতাংশেরও বেশি মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। অথচ বড় রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের বেশিরভাগেরই বয়স সত্তরের কোঠায়।
এবার প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ভোটারের মধ্যে ৯ লাখেরও বেশি ছিলেন নতুন ভোটার। দেশে তরুণদের বেকারত্বের হার ২০.৬ শতাংশ। এই পরিস্থিতিতে শাহ ১২ লাখ কর্মসংস্থান তৈরি এবং বিদেশে শ্রমিক যাওয়া কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, শাহের কাছে মানুষের প্রত্যাশার পাহাড় জমেছে, যা সামলানো বেশ কঠিন হবে।
স্বাধীন বিশ্লেষক কেশব প্রসাদ পাওডেল এপিকে বলেন, "এই নতুন দলের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করা, কারণ তাদের কাছে সম্পদ ও প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থন খুব সীমিত। মানুষের অনেক প্রত্যাশা আছে বলেই যে নতুন দল তা পূরণ করতে পারবে, এমনটা নিশ্চিত করে বলা যায় না।"
