ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা চূড়ান্ত, ‘বড় শয়তান’ যুক্তরাষ্ট্রও নাম নিয়েছে তার
নিহত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় বিশেষজ্ঞ পরিষদ প্রায় সংখ্যাগরিষ্ঠ ঐকমত্যে পৌঁছেছে। রোববার (৮ মার্চ) পরিষদের সদস্য আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদমেহেদি মিরবাপেরি এই তথ্য জানিয়েছেন।
ইরানের মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে মিরবাপেরিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে এখনও 'কিছু বাধা' রয়ে গেছে যা সমাধান করা প্রয়োজন। এর আগে শনিবার বিশেষজ্ঞ পরিষদের একজন জ্যেষ্ঠ আলেম জানিয়েছিলেন, সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের জন্য সদস্যরা 'এক দিনের মধ্যে' বৈঠকে বসবেন।
'শত্রুর কাছে ঘৃণিত' হতে হবে পরবর্তী নেতাকে
ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিশেষজ্ঞ পরিষদের দুই সদস্য আয়াতুল্লাহ মহসিন হায়দারি আলে কাসির এবং আহমদ আলমোলহোদা জানিয়েছেন, পরিষদ ইতোমধ্যেই একজন উত্তরসূরি বেছে নিয়েছে। আলমোলহোদা বলেন, পরিষদের সচিবালয়ের প্রধান আয়াতুল্লাহ হাশেম হোসাইনি বুশেহরি এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার দায়িত্ব পালন করবেন।
ইরানি গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য সশরীরে উপস্থিত হয়ে বৈঠক করা হবে নাকি এই আনুষ্ঠানিকতা এড়িয়ে যাওয়া হবে; তা নিয়ে পরিষদের মধ্যে সামান্য মতপার্থক্য রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ ইরানের ডজন খানেক কর্মকর্তা ও কমান্ডার নিহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার ইরানি সংবাদমাধ্যম জানায়, কোম শহরে বিশেষজ্ঞ পরিষদের একটি সহযোগী ভবন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।
হায়দারি আলে কাসির জানান, প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার দেওয়া পরামর্শের ভিত্তিতেই নতুন প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে। খামেনির পরামর্শ ছিল, ইরানের শীর্ষ নেতাকে এমন হতে হবে যাকে 'শত্রু ঘৃণা করবে', প্রশংসা করবে না।
নির্বাচিত উত্তরসূরি সম্পর্কে এই জ্যেষ্ঠ আলেম বলেন, 'এমনকি গ্রেট শয়তান [যুক্তরাষ্ট্র] তার নাম উল্লেখ করেছে।'
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে একজন 'অগ্রহণযোগ্য' পছন্দ হিসেবে উল্লেখ করার কয়েক দিন পরই এমন মন্তব্য এলো।
অ্যাক্সিওসেরপ্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেছিলেন, মধ্যম সারির কট্টরপন্থী আলেম মোজতবা খামেনিই সম্ভবত পরবর্তী উত্তরসূরি হতে যাচ্ছেন। তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে, তিনি এমন বিকল্প প্রত্যাখ্যান করবেন এবং ইরানের পরবর্তী নেতা নির্বাচনে তার ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা থাকা উচিত।
রয়টার্সকে দেওয়া এক ইরানি সূত্রের তথ্যমতে, যুদ্ধের শুরুর দিকে বিমান হামলায় যখন আলী খামেনি নিহত হন, তখন ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি তেহরানে ছিলেন না।
ইরানের প্রভাবশালী রেভল্যুশনারি গার্ডসের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। পর্দার আড়ালে প্রভাব বিস্তার এবং বাবার 'গেটকিপার' হিসেবে দায়িত্ব পালনের কারণে তিনি ইরানি ধর্মীয় সংস্থাপনের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত।
