যুদ্ধের উত্তেজনা কমাতে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করল সৌদি আরব
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের তীব্রতা কমাতে এবং বিশ্ববাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব ঠেকানোর লক্ষ্যে ইরানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়িয়েছে সৌদি আরব। ইউরোপীয় কয়েকজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যম এই তথ্য জানিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউরোপীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের ওই কর্মকর্তারা জানান, গত কয়েক দিনে সৌদি আরবের কূটনীতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ইরানকে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এবং সংঘাত আরও খারাপের দিকে যাওয়া রোধ করতে জরুরি ভিত্তিতে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশ এই প্রচেষ্টাকে সমর্থন দিচ্ছে।
তবে এসব আলোচনায় দুই দেশের উচ্চপদস্থ নীতিনির্ধারকেরা সরাসরি যুক্ত কি না, তা স্পষ্ট নয়। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনায় বসার বিষয়ে ইরানকে খুব একটা আগ্রহী দেখা যাচ্ছে না। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
সৌদির সতর্ক অবস্থান
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানও পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এ পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানকে তাদের ওপর কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক হামলা না চালানোর আহ্বান জানিয়েছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণে তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দেওয়া হবে না।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান—তিন পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শুক্রবার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি তেহরানের 'নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ' ছাড়া আর কিছুই মেনে নেবেন না।
উল্লেখ্য, উপসাগরীয় সুন্নিপ্রধান আরব দেশগুলোর সঙ্গে শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরানের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবেই উত্তেজনাপূর্ণ। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছিল। শত্রুতা শুরুর আগে ওমানের মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কূটনৈতিক চুক্তির বিষয়েও তারা বেশ আগ্রহী ছিল।
