হরমুজ প্রণালীতে ৩ জাহাজে হামলা, একটিতে আগুন
হরমুজ প্রণালীতে পৃথক তিনটি জাহাজে অজ্ঞাত বস্তু (প্রজেক্টাইল) আঘাত হেনেছে। আজ বুধবার সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও ঝুঁকি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এই অঞ্চলে এ নিয়ে ১৪টি জাহাজে হামলা হলো।
ইরানের রেভুল্যুশনারি গার্ড কর্পস সতর্ক করেছে যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া যেকোনো জাহাজ লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরান যদি এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করতে থাকে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা আরও বাড়াবে।
জাহাজে হামলা নিয়ে রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী 'ময়ুরি নারি' নামের একটি বাল্ক ক্যারিয়ারে অজ্ঞাত বস্তু আঘাত হানে। এতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং ইঞ্জিন রুম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে তিনজন নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে তারা ইঞ্জিন রুমে আটকা পড়েছেন। তাদের উদ্ধারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া বাকি ২০ জন নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করে ওমানে তীরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
থাই নৌবাহিনীর সরবরাহ করা ছবিতে দেখা গেছে, জাহাজটির পেছনের দিক থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড তাসনিম সংবাদ সংস্থায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জাহাজটির ওপর 'ইরানি যোদ্ধারা গুলি চালিয়েছে'।
এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহ থেকে ২৫ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পশ্চিমে জাপানের পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ 'ওয়ান মেজেস্টি' অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাহাজের কর্মীরা নিরাপদ আছেন এবং জাহাজটি নিরাপদ নোঙরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, দুবাইয়ের প্রায় ৫০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে তৃতীয় একটি বাল্ক ক্যারিয়ারও হামলার শিকার হয়েছে।
মেরিটাইম ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংস্থা ভ্যানগার্ড জানায়, সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে জাহাজ চলাচল ব্যাপক হ্রাস পেয়েছে। বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালীর মাধ্যমে পরিবহন করা হয়।
