ইরান সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে তেল উৎপাদন ব্যাহত, ব্যারেলপ্রতি দাম বাড়ল এক ডলারের বেশি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে তেল উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। এর প্রভাবে আজ বুধবার (৪ মার্চ) বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি এক ডলারের বেশি বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বা ১ ডলার ১১ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮২ ডলার ৫৩ সেন্টে উঠেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বা ৭৯ সেন্ট বেড়ে ৭৫ ডলার ৩৭ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।
গত মঙ্গলবার ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা শুরু করেছে ইরান। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক–তৃতীয়াংশই উৎপাদিত হয় এই অঞ্চলে।
তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেকভুক্ত দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক দেশ ইরাক। দেশটির কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানান, সংরক্ষণাগারের সীমাবদ্ধতা এবং রপ্তানির পথ বন্ধ থাকায় তারা ইতিমধ্যে দৈনিক প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল (মোট উৎপাদনের প্রায় অর্ধেক) তেল উত্তোলন কমিয়ে দিয়েছেন।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যে রপ্তানি শুরু না হলে দেশটির দৈনিক প্রায় ৩০ লাখ ব্যারেল উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে তেলের ট্যাংকার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। পাঁচটি জাহাজে ইরানের হামলার পর টানা চার দিন ধরে প্রণালিটিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রয়োজনে হরমুজ প্রণালিতে তেলের ট্যাংকারগুলোকে মার্কিন নৌবাহিনীর পাহারায় পারাপারের ব্যবস্থা করা হবে। তাঁর এই আশ্বাসের পর তেলের দাম বৃদ্ধির লাগাম কিছুটা হলেও টানা গেছে।
এ ছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য 'রাজনৈতিক ঝুঁকি বিমা' ও আর্থিক নিশ্চয়তা দিতে মার্কিন ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশনকে নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প।
অবশ্য জাহাজমালিক ও বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, সামরিক প্রহরা ও বিমা সুবিধা দিয়ে এই মুহূর্তে ব্যবসায়ীদের আস্থা ফেরানো কঠিন হতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশ ও কোম্পানি জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প পথ খুঁজতে শুরু করেছে। ভারত ও ইন্দোনেশিয়া জানিয়েছে, তারা বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে চীনের কয়েকটি শোধনাগার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে অথবা তারা রক্ষণাবেক্ষণের কাজ এগিয়ে এনেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরবের তেল উত্তোলনকারী শীর্ষ কোম্পানি আরামকো হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগর দিয়ে কিছু তেল রপ্তানির পথ খোঁজার চেষ্টা করছে।
এদিকে আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত বেড়েছে ৫৬ লাখ ব্যারেল। বিশ্লেষকেরা ২৩ লাখ ব্যারেল মজুত বাড়ার পূর্বাভাস দিলেও বাস্তবে তা অনেক বেশি হয়েছে।
