খামেনি হত্যার প্রতিবাদে পাকিস্তানজুড়ে সহিংস বিক্ষোভ; নিহত ২৪, তিন দিনের কারফিউ জারি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হওয়ার ঘটনায় বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে পাকিস্তান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশটিতে সেনাবাহিনী তলব করা হয়েছে এবং কিছু এলাকায় তিন দিনের কারফিউ জারি করেছে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হন।
রোববার পাকিস্তানজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সোমবার ভোরের আগেই উত্তরের গিলগিট-বাল্টিস্তান অঞ্চলের গিলগিট, স্কারদু ও শিগার জেলায় কারফিউ জারি করা হয়। এসব এলাকায় সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন বিক্ষোভকারী এবং একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও অনেকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উদ্ধারকারী কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, গিলগিটে সাতজন এবং স্কারদুতে আরও ছয়জন নিহত হয়েছেন।
কর্মকর্তারা জানান, রোববার হাজার হাজার বিক্ষোভকারী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণকারী জাতিসংঘের সামরিক পর্যবেক্ষক গ্রুপ (ইউএনএমওজিআইপি) এবং স্কারদু শহরে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) কার্যালয়ে হামলা চালায়।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা একটি পুলিশ স্টেশনে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং গিলগিটে একটি স্কুল ও স্থানীয় দাতব্য সংস্থার কার্যালয় ভাঙচুর করে।
সোমবার জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক জানিয়েছেন, ইউএনএমওজিআইপি ফিল্ড স্টেশনের কাছে বিক্ষোভকারীরা সহিংস হয়ে ওঠে এবং ভাঙচুর চালায়। তিনি বলেন, 'এই অঞ্চলে জাতিসংঘের কর্মী ও স্থাপনার নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।'
গিলগিট-বাল্টিস্তান সরকারের মুখপাত্র শাবির মীর জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আগামী বুধবার পর্যন্ত কারফিউ বলবৎ থাকবে। পুলিশ প্রধান আকবর নাসির খান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথা উল্লেখ করে বাসিন্দাদের ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে বিক্ষোভের সময় ১০ জন নিহত এবং ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এ ছাড়া রাজধানী ইসলামাবাদে মার্কিন দূতাবাসের দিকে যাওয়ার সময় আরও দুই বিক্ষোভকারী নিহত হন।
সহিংসতা এড়াতে পেশোয়ারসহ সারা দেশে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করেছে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ। নিরাপত্তার কারণে সোমবার ইসলামাবাদে মার্কিন দূতাবাস এবং করাচি ও লাহোরে কনস্যুলেটগুলোতে ভিসা কার্যক্রম ও মার্কিন নাগরিকদের সেবা প্রদান বাতিল করা হয়েছে।
শনিবার খামেনির মৃত্যুর প্রতিবাদে বড় ধরনের বিক্ষোভের জেরে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে পাকিস্তানের ফেডারেল সরকার। এদিকে খামেনি হত্যার জবাবে তেহরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
