মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাতের বিস্তার, যে আশঙ্কা করছিল আঞ্চলিক শক্তিগুলো
কোনো ধরনের উস্কানি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের ওপর হামলা এখন বিস্তৃত আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে, আর এই আশঙ্কাই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন শক্তিধর দেশ আগে থেকেই করে আসছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল সেনা ও নৌ শক্তির সমাবেশ ঘটান, এরপরেই আসে ইরানের ওপর আক্রমণ।
এদিকে ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলসহ প্রতিবশী কয়েকটি আরব দেশে। লেবাননও এখন সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ, যাদের দাবি— ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নিতেই এ পদক্ষেপ।
সমালোচকদের দৃষ্টিতে, হিজবুল্লাহর এ পদক্ষেপকে বেপরোয়া সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হবে। এমনকি সংগঠনটির কিছু সমর্থকের মধ্যেও সমালোচনার সুর শোনা যেতে পারে—কারণ এতে লেবানন আরও আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হতে পারে এবং দেশটি নতুন ধ্বংসযজ্ঞের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে "আক্রমণাত্মক অভিযান" শুরু করেছে। একই সঙ্গে দেশটির নাগরিকদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, "দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে।"
গত কয়েক মাস ধরেই গুঞ্জন ছিল, হিজবুল্লাহ নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করছে—এমন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল হামলা বিস্তৃত করতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আশঙ্কাই যেন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এখনো স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেননি—কোন তাৎক্ষণিক হুমকির ভিত্তিতে ইরানের ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে, কিংবা এই অভিযানের চূড়ান্ত লক্ষ্যই বা কী।
