সরকারি জমিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের উদ্যোগ, অংশ নিতে পারবে বেসরকারি উদ্যোক্তারাও
দেশে চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারি জমিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প সম্প্রসারণের বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব প্রকল্পে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে।
একইসঙ্গে ৭ নভেম্বরকে পুনরায় 'জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস' হিসেবে ঘোষণা করে ওই দিন সরকারি ছুটি পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিসভার এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি। এর আগে বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি বলেন, 'বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যে সরকারি জমি ব্যবহার করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এতে বেসরকারি উদ্যোক্তারা অংশ নিতে পারবেন। এ লক্ষ্যে কমিটি গঠন করা হয়েছে।'
জ্বালানি খাতের লক্ষ্যমাত্রা ও ব্যয় প্রসঙ্গে সচিব জানান, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে শুধু সৌরবিদ্যুৎ খাত থেকেই ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি জৈবগ্যাস ও বায়ুশক্তি ব্যবহারের বিষয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এ খাতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৪ থেকে ৮ টাকা ব্যয় হতে পারে।
নীতিমালা সহজীকরণ প্রসঙ্গে ড. নাসিমুল গনি বলেন, 'বিদ্যমান নীতিমালা সহজ করে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সরকারি জমি, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল-সংলগ্ন জায়গা ব্যবহার করে ছোট ও বড় আকারের বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।'
তবে অতীতে কিছু সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পাওয়ায়, এবার নতুন করে নীতিমালা ও বাস্তবায়ন কাঠামো সংস্কার করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জ্বালানি সরবরাহ ও বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, 'সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সরকার কাজ করছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে বাজারে অস্থিরতা ও ব্যবসায়িক প্রবণতার কারণে জ্বালানি বিতরণে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।'
তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎ খাতের বড় প্রকল্পগুলোতে বেসরকারি খাতকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করা হবে এবং সরকারি সহায়তায় বিনিয়োগের পরিবেশ সহজতর করা হবে।
৭ নভেম্বর ও অন্যান্য দিবস সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, প্রতি বছর ৭ নভেম্বরকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
তিনি বলেন, 'সিদ্ধান্ত হয়েছে ৭ নভেম্বরকে পূর্বের মতো জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে ঘোষণা করা। এটা একটি 'ক' শ্রেণিভুক্ত দিবস হবে। 'ক' শ্রেণিভুক্ত দিবস হওয়ার কারণে ৭ নভেম্বর সরকারি ছুটি থাকবে।'
সচিব আরও যোগ করেন, 'জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আগে ছিল, এখন আবার ফেরত আনা হয়েছে। গত ১৬ বছর এটি করা হয়নি।'
এছাড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে ৬ জুলাইকে 'জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস' হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এটি একটি 'খ' শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে পালিত হবে। তবে এ দিন কোনো সরকারি ছুটি থাকবে না, কেবল দিবসটি গুরুত্বের সঙ্গে উদযাপন করা হবে।
