সামাজিক সুরক্ষা, ব্লু-ইকোনমি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিশেষ তহবিল ও বরাদ্দের ঘোষণা
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা, ব্লু ইকোনমি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং সৃজনশীল অর্থনীতির মতো খাতে একাধিক বিশেষ তহবিল ও বরাদ্দের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলা তহবিলের জন্য সর্বোচ্চ ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে স্টার্টআপ ক্যাপিটাল, নারী উন্নয়ন, নারী উদ্যোক্তা এবং তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে ৪০০ কোটি টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ব্লু ইকোনমি সম্পদ আহরণে গবেষণা তহবিল এবং সমন্বিত স্বাস্থ্য-বিজ্ঞান গবেষণা তহবিলের জন্য পৃথকভাবে ১০০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে জরুরি পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলার জন্য 'স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলা তহবিল'-এ ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা তহবিলে ১০০ কোটি টাকা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন তহবিলে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে আর্থিক সহায়তার জন্য ২ হাজার কোটি টাকা এবং পরিচালন ঋণ হিসেবে ১৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের সৃজনশীল শিল্প ও সংস্কৃতিভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিকাশে 'ক্রিয়েটিভ ইকোনমি'র জন্য ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে খাদ্য সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও কর্মসূচির জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খাদ্যশস্যের সংস্থান রাখা হয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউবি কর্মসূচির জন্য ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য ৮০ হাজার মেট্রিক টন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য মোট ৫ লাখ ১২ হাজার মেট্রিক টনের বেশি খাদ্যশস্য বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়া মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ডিজিএফ কর্মসূচির জন্য ১ লাখ ১৪ হাজার মেট্রিক টন এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের 'কাজের বিনিময়ে খাদ্য' (কাবিখা) কর্মসূচির জন্য ১৬ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্যের সংস্থান রাখা হয়েছে।
সরকার বলছে, এসব বরাদ্দ ও তহবিলের মাধ্যমে একদিকে যেমন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি জোরদার হবে, অন্যদিকে উদ্যোক্তা সৃষ্টি, গবেষণা, জলবায়ু সহনশীলতা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং নতুন অর্থনৈতিক খাতের বিকাশেও সহায়তা করবে।
