সম্পদ বিবরণী প্রকাশের শর্তে নতুন পে-স্কেল কার্যকরের দাবি টিআইবির
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আপাতত কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ না রাখায় সরকারকে সতর্ক সাধুবাদ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একই সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের শর্ত হিসেবে সংশ্লিষ্টদের সম্পদ-বিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
বাজেট ঘোষণার প্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এসব কথা বলেন।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ''প্রস্তাবিত বাজেটে অসাংবিধানিক, বৈষম্যমূলক ও দুর্নীতিসহায়ক বিধান 'কালো টাকা সাদা' করার সুযোগ প্রদান না করা সরকারের দুর্নীতিবিরোধী নির্বাচনী অঙ্গীকারের স্বপক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়েছে, পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থানসহ নানা অজুহাতে বিভিন্ন খাতে 'অর্থ বিলে' এ সুযোগটি অব্যাহত রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে কোনোভাবেই বাজেটে কালো টাকা বৈধ করার অনৈতিক সুযোগটি আর ফিরে না আসে—এই প্রত্যাশা করছি।'' তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে এই সুযোগ দেওয়া হলেও এটি সৎ করদাতাদের নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি কর ফাঁকি দেওয়ার 'দুর্বিনীত সংস্কৃতি' তৈরি করেছে। আশা করছি, সরকার এই চর্চার বিপরীতে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন-কাঠামোর বিষয়ে টিআইবি প্রধান বলেন, ১১ বছরের ব্যবধানে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা যৌক্তিক। তবে এর সুফল পেতে হলে এবং দুর্নীতিমুক্ত কর্মসম্পাদন নিশ্চিত করতে হলে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার আগে সম্পদ বিবরণী প্রকাশের শর্ত জুড়ে দিতে হবে। ড. জামান বলেন, ''যে সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজের ও পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের আয় ও সম্পদের হিসাব বাৎসরিক ভিত্তিতে হালনাগাদ করবেন, শুধু তাদের জন্যই নতুন পে-স্কেল প্রযোজ্য হবে। মনে রাখতে হবে, নতুন পে-স্কেলের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের পাশাপাশি এ কারণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ সার্বিকভাবে জীবনযাত্রার ব্যয়ের অতিরিক্ত বোঝা বইতে হবে সাধারণ মানুষকে। অতএব, জবাবদিহির স্বার্থে তাদের সম্পদ-বিবরণী প্রকাশ অপরিহার্য।''
নিত্যপণ্য ও সেবায় শুল্ক-কর ছাড় দেওয়ার প্রস্তাবকে সাধুবাদ জানিয়ে টিআইবি বলেছে, কর প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার যে অঙ্গীকার বাজেটে করা হয়েছে, তার কার্যকর বাস্তবায়ন প্রয়োজন। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ''সৎভাবে অর্থ উপার্জনকারীরা যাতে হয়রানিমুক্ত পরিবেশে কর দিতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। কর ফাঁকি রোধে শুধু প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি যথেষ্ট নয়; রাজস্ব প্রশাসনের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে যে কর ফাঁকি হয়, তা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ঋণনির্ভর বাজেট থেকে রাজস্বনির্ভর বাজেটে উত্তরণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দুর্নীতিমুক্ত করার কোনো বিকল্প নেই।''
অন্যদিকে, বাজেট বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় সুশাসন নিশ্চিতের জন্য সুস্পষ্ট কোনো 'পথরেখা' বা আলোচনা না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছে টিআইবি। সংস্থাটি আশা প্রকাশ করেছে যে, চূড়ান্ত বাজেটে এ বিষয়ে সরকার বিস্তারিত আলোকপাত করবে।
