ইরানের পাল্টা আক্রমণ হবে অত্যন্ত ‘বিধ্বংসী’: ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানি কর্মকর্তা
শনিবার সকালে ইরানে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। আল জাজিরার মাঠপর্যায়ের একজন সংবাদদাতার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ইরানের রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং সেখান থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একই সময়, একজন মার্কিন কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রও এই হামলায় অংশ নিয়েছে।
এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের এই পাল্টা আক্রমণ হবে অত্যন্ত বিধ্বংসী।
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
তিনি লিখেছেন, 'আমরা তোমাদের সতর্ক করেছিলাম!' আজিজি আরও লিখেছেন, 'এখন তোমরা এমন এক পথ চলা শুরু করেছ যার শেষ কোথায় হবে, তা আর তোমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই।'
ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের হামলার পর দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন যে হাসপাতালগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
মুখপাত্র আরও জানান, ইতোমধ্যে রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রীয় এলাকাগুলোতে অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়েছে। কতজন আহত হয়েছেন এবং ঠিক কোন কোন স্থানে হামলা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়ার পর বিস্তারিত জানানো হবে।
তাসনিম আরও জানিয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-সহ বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইট সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত আইআরএনএ-এর টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টটি সচল রয়েছে।
এদিকে, ইরানে হামলার পরপরই পুরো ইসরায়েলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ৮টায় ইসরায়েলজুড়ে সাইরেনের আওয়াজ শোনা গেছে, সম্ভাব্য পাল্টা মিসাইল হামলা সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য।
ইরান ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এই হামলার পাল্টা জবাব দিতে পারে—এমন আশঙ্কায় ইসরায়েল সরকার দেশজুড়ে এই জরুরি অবস্থা জারি করেছে।
