ভুয়া আইন ডিগ্রি নিয়ে যেভাবে হাইকোর্টে ৫ বছর চাকরি করেছেন পাকিস্তানি বিচারক
পাকিস্তানের হাইকোর্ট বিচারক তারিক মাহমুদ জাহাঙ্গীরি গত পাঁচ বছর ধরে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু চলতি সপ্তাহের শুরুতে একই আদালতের একটি ডিভিশন বেঞ্চ তার নিয়োগ বাতিল করে জানায়, তার আইন ডিগ্রি 'ভয়েড অ্যাব ইনিশিও' বা শুরু থেকেই অবৈধ ছিল।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম 'দ্য ডন'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতি সরদার মুহাম্মদ সরফরাজ ডোগার এবং বিচারপতি মুহাম্মদ আজম খানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ১১৬ পৃষ্ঠার এক রায়ে জাহাঙ্গীরির হাইকোর্টে পদোন্নতিকে 'আইনগত অকার্যকর' বলে ঘোষণা করেছেন। রায়ে বলা হয়েছে, তার শিক্ষাগত যোগ্যতার নথিপত্র সন্দেহজনক।
আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, জাহাঙ্গীরির শিক্ষাগত যোগ্যতার নথিপত্রে জালিয়াতি এবং জালিয়াতির মাধ্যমে অন্যের পরিচয় ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি মূলত একটি শৃঙ্খলাজনিত নিষেধাজ্ঞাকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিয়েছেন।
আদালতের রায় অনুযায়ী, জাহাঙ্গীরি প্রথমবার ১৯৮৮ সালে একটি ভুয়া এনরোলমেন্ট নম্বর ব্যবহার করে এলএলবি প্রথম পর্বের পরীক্ষায় অংশ নেন। পরে তিনি অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ধরা পড়েন এবং ১৯৮৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাকে তিন বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়।
তবে জাহাঙ্গীরি সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য গোপন করে ১৯৯০ সালের পরীক্ষায় অংশ নেন। তখন তিনি 'তারিক জাহাঙ্গীরি' নামে নিজের পরিচয় বদলান এবং ইমতিয়াজ আহমদ নামের অন্য এক ছাত্রের এনরোলমেন্ট নম্বর ব্যবহার করেন।
এরপর এলএলবি দ্বিতীয় পর্বের পরীক্ষায় তিনি নিজের আসল নাম ব্যবহার করলেও অন্য একটি এনরোলমেন্ট নম্বর ব্যবহার করেন।
বিচারক বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, একটি বিশ্ববিদ্যালয় একটি কোর্সের জন্য একজন শিক্ষার্থীকে একটিই এনরোলমেন্ট নম্বর দেয়। একই ডিগ্রির জন্য একজন শিক্ষার্থীর দুটি নম্বর থাকা 'অসম্ভব'। এই ধারাবাহিক জালিয়াতির কারণে তার মার্কশিট ও ডিগ্রি অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
আদালতকে গভর্নমেন্ট ইসলামিয়া ল কলেজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাহাঙ্গীরি ওই প্রতিষ্ঠানে কখনোই ভর্তি হননি।
এছাড়া, বিচার চলাকালে জাহাঙ্গীরির আচরণেরও সমালোচনা করা হয়েছে। বারবার সুযোগ দেওয়া সত্ত্বেও তিনি কোনো মূল নথিপত্র জমা দেননি বা লিখিত জবাব দাখিল করেননি।
